শাহেদ মিজান, সিবিএন:

মহেশখালীর কালারমারছড়ায় অধিগ্রহণ করা জমি ও পানবরজের ক্ষতিপূরণের প্রায় ২২ কোটি লোপাট তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর এই তোলপাড় চলছে। এই নিয়ে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে লোপাটকারীরা। তারা এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এই জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজনকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরকে ‘চুপ’ থাকার জন্য নানা প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা এই অভিযোগ করেছেন।

খবর নিয়ে জানা গেছে, কালারমারছড়ার সোনারপাড়ায় অধিগ্রহণের প্রায় ২২ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করার উদ্যোগ নেন। গত মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো শাওনেয়াজ কুতুবী, সার্ভেয়ার ফরিদুল আলমে নেতৃত্বে একটি দল সরেজমিন তদন্তে যায়। কিন্তু ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, তদন্ত দল তদন্তে গিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তারা ভুক্তভোগীদের সাথে কথাও বলেনি। তদন্তের নাম করে এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো শাওনেয়াজ কুতুবী, সার্ভেয়ার ফরিদুল আলমসহ অন্যান্য লোপাটকারীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনের পর এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো শাওনেয়াজ কুতুবী, সার্ভেয়ার ফরিদুল আলম রাতে কালারমারছড়ায় থেকে যান। তারা সেখানে ক্ষতিপূরন বঞ্চিত কয়েকজন ব্যক্তিকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপার দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন একজন জানান, তাকে তার ক্ষতি পূরণ বাবদ সব টাকা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে তাকে চুপ থাকতে হবে। কিন্তু লোকটি জানান অসহায় পানচাষীদের বঞ্চিত করার চক্রান্তে তিনি আপোষ করবেন না।
জানা গেছে, অধিগ্রহণের ২০ ধারা নোটিশ জারি হওয়ার পর ওইসব জমিতে পানবরজ না করতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। পানের বরজ না করলেও ২২ ধারায় পানের বরজের জন্যও ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। ওই নিষেধে অধিকাংশ পানচাষী জমি লাগিয়ত নিছের পানবরজ তৈরি করেননি। আবার অনেকে নিষেধাজ্ঞা না মেনে পানবরজ তৈরি করেছিল। সবার জন্য ২২ ধারা নোটিশ জারি হলেও তা গোপন করে ফেলা হয়েছে। ২২ ধারা নোটিশ গোপন করে নিষেধাজ্ঞা মান্য করা চাষীদের ক্ষতিপূরণ দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সিন্ডিকেটের হোতারা এলএ শাখার ওই কর্মকর্তারা। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বরজ করেছিল তাদের অল্প পরিমাণ টাকার দেয়ার কথা বলছে লোপাটকারীরা।

এদিকে লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কথা জেনে আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বঞ্চিত পানচাষী ও জমির মালিকেরা। এই খবর জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। তারা টাকা লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোনের সংযোগ না পাওয়ায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো শাওনেয়াজ কুতুবী ও সার্ভেয়ার ফরিদুল আলমের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গ, কালারমারছড়া ইউনিয়নের চিকনী পাড়ার মৃত হোছন আলীর পুত্র নূরুল ইসলাম বাহাদুর, নোয়াপাড়ার মৃত ফলাতনের পুত্র আবদুল মান্না কানু, চিকনী পাড়ার ছৈয়দ আহমদের পুত্র আবদুস সালাম ও নূরুল ইসলাম, সোনার পাড়ার নূও আহামদেও পুত্র পেরু, চিকনীপাড়ার ছৈয়দ আহমদের পুত্র আবু ছিদ্দিক, সোনারপাড়ার মৃত কবির আহমদের পুত্র মনজুর আলম এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো শাওনেয়াজ কুতুবী, সার্ভেয়ার ফরিদুল আলম মিলে সোনারপাড়ায় অধিগ্রহণকৃত জমি ও পানবরজের ক্ষতিপূরণের প্রায় ২২ কোটি টাকা লোপাট করেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •