বিদেশ ডেস্ক:

রাজনীতি বিশ্লেষকরা তাকে মনে করেন কংগ্রেসের ট্রাম্পকার্ড। কেউ কেউ আবার বলেন তিনি দলের ব্রহ্মাস্ত্র। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করলেন সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক করে তাকে উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের সভাপতি তার ভাই রাহুল গান্ধী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

কংগ্রেসের বিবৃতিতে রাহুল গান্ধী জানান, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই উত্তর প্রদেশে তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। আগামী মে মাসে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। রাহুল বলেছেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত যে, খুবই যোগ্য ও পরিশ্রমী একজন ব্যক্তি হিসেবে আমার বোন আমার সঙ্গে কাজ করবেন।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ৪৭ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা ভদ্র গান্ধীকে অনেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেন। তার মধ্যে সহজাত ক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্বগুণ ও দারুণ জনপ্রিয়তা থাকলেও এতদিন ভাই রাহুল গান্ধী ও মা সোনিয়া গান্ধীর আড়ালেই ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালের জাতীয় ও রাজ্য নির্বাচনের পর থেকে তিনি দলের জন্য কাজ শুরু করেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, উত্তর প্রদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তার নিয়োগ মূলত কংগ্রেসের উপলব্ধির প্রতিফলন। পার্লামেন্টে ৮০টি আসন পাওয়া এই দলটি নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে পরাজিত করতে কতটা বদ্ধপরিকর সেটাও সামনে চলে এসেছে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ অন্যান্য যারা পদ পেয়েছেন তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন কংগ্রেস নেতারা। তারা বলছেন, মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের কারণে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়া রাজনীতি প্রিয়াঙ্কার যোগদানে আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে। ক্ষমতাসীন দল বারবারই প্রিয়াঙ্কার স্বামী ব্যবসায়ী রবার্ট ভদ্রকে আক্রমণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। সেই রবার্টই স্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন, ‘জীবনের প্রতিটি ধাপে পাশে আছি।

অনেক দিন ধরেই প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে কথা চলছিল। সোনিয়া গান্ধীর লোকসভা কেন্দ্র রায়বরেলি থেকে এবার প্রিয়াঙ্কা ভোটে লড়তে পারেন বলেও কথা ওঠে। কংগ্রেস সদস্যদের দাবি, প্রিয়াঙ্কা সবসময়ই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া ২০১৭ সালের উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী দলের সঙ্গে জোটবাঁধার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। কংগ্রেসের বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন তিনি। বেশিরভাগ বৈঠকেই প্রধান থাকতেন তার ভাই।

প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে যোগদান প্রসঙ্গে তার ভাই রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‘আমার বোন খুবই দক্ষ। উনি আমার সঙ্গেই কাজ করবেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই খুশি।’’ তিনি বলেন, ‘‘উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে দল তরুণ নেতা চেয়েছিল।’’ তবে রাজনীতিতে প্রিয়াঙ্কার সরাসরি যোগদানের বিষয়ে বিজেপির মুখপাত্র সামবিত পাত্র বলেন, ‘রাহুল গান্ধী ব্যর্থ হয়েছেন, সেজন্য ভরসা হিসেবে প্রিয়াঙ্কাকে প্রয়োজন হয়েছে তাদের। পরিবারের বাইরে কাউকে খুঁজে পেল না তারা।’

উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের হয়ে ৮০টি লোকসভা কেন্দ্রে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এমন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পূর্ব উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে প্রিয়াঙ্কার অভিষেক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। পূর্ব উত্তর প্রদেশের ৩০টি কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রিয়াঙ্কার কাঁধে। যে কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মোদির বারানসি ও যোগী আদিত্যনাথের গোরক্ষপুর কেন্দ্র।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •