জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম :

অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে পরকীয়া প্রেমের জুটির ঠাঁই হলো থানা হাজতে।

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ৩নং ওয়ার্ডে স্বামীর ঘর থেকে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালাতে গিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি পরকিয়া প্রেমিক জুটির। অবশেষে তাদের স্থান হয়েছে থানা হাজতখানায়।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী থানার ওসি তদন্ত ইমাম হাসান ও এএসআই মো. জুবায়ের হোসেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আব্দু শুক্কুরের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম মাত্র ৩/৪ মাস আগে একই উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের আব্দু শুক্কুরের মেয়ে শিরিন আক্তার’কে সামাজিক বন্ধনে (১৯) বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসার নানা ঝগড়া হতো বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়।

আরো জানা যায়, শিরিন আক্তার তার তালতো ভাই সম্পর্কিত উপজেলার শিকলবাহার ইউনিয়নের সোলায়মান এর পুত্র আব্দুল কাদেরের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে।

দিন দিন তাদের পরকীয়া সম্পর্ক গভীর হলেও শিরিন আক্তারের বর্তমান স্বামী মো. শফিকুলের কাছে বিষয়টি প্রথমে ধরা পড়েনি। পরে অনেক বুঝিয়েও কাজ হয়নি বলে জানান স্বামী।

গত রাত (২০ জানুয়ারী) সাড়ে ১১টায় শিরিন আক্তার তার স্বামীর ঘর থেকে পরকীয়া প্রেমিক কাদেরের হাত ধরে গহনাঘাঁটি নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে। খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানার এএসআই মো. জুবায়ের হোসেন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরকীয়া প্রেমিক জুটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ফলে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় বড় ধরনের অনাকাংখিত ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

শিরিন আক্তারের প্রথম স্বামী মো.শফিকুল ইসলাম জানান, ‘রাতে আমি ফ্যাক্টরীতে চাকরি করতে গেলে সে তার দুর সম্পর্কীয় তালতো ভাইয়ের সাথে গতরাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় হাতে নাতে ধরে পড়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘থানা হাজতে এখনো সে বারবার বলতেছে আমার ঘর করবেনা। সে যার সাথে পালিয়ে যেতে চাইছে ওকেই নাকি বিয়ে করবে। আমার সংসারটা নষ্ট করেছে তারপরেও আমিও রাজি তাতে।’

সুত্র জানা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দুপক্ষের অভিভাবকদের সম্মতিতে আটক পরকীয়া জুটির বিয়ে দিতে রাজি হন তারা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. ফরিদ জুয়েল জানান, ‘আটক স্ত্রী গণ্যমান্য লোকদের উপস্থিতিতে প্রথম স্বামীকে স্বেচ্ছায় তালাক দিয়ে ১০ লাখ টাকা কাবিনে দ্বিতীয় স্বামীকে বিয়ে করেন। এতে প্রথম স্বামী দায় মুক্ত হয় আপোষে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •