cbn  

মোঃ সাইদুজ্জামান সাঈদঃ

যার অনুভুতি ভাষায় সহজে প্রকাশ করা যায়না,যা মনেও করতে পারিনি সত্যি এভাবে দু’টো দিন আনন্দে কেটে যাবে।
বিগত ১০ টি বছর এরকম দু’টো দিন কোন বড় ভাই-বোনেরা ছোটদেরকে কেউ উপহার দিতে পারেনি বলে মনে হয়।
নতুন বছরের তৃতীয় সপ্তাহের শেষের দুই দিন আগের দিনগুলো নিয়ে লিখা আমার অনুভুতি।
প্রায় দুই মাস আগে ক্লাসে তোলপাড় ‘শিক্ষা সফর’ নিয়ে, প্রথমে বড় ভাইয়েরা সুন্দরবন সিলেক্ট করলে কেউ যেতে ইচ্ছুক অন্য কেউ না যাওয়ার পক্ষে ছিল।
হঠাৎ কোন একদিন শ্রদ্ধেয় জনাব মুজিবুল হক চৌধুরী স্যার গ্রুপে এমন একটি কমেন্ট করলেন যা সকলকে বিস্মিত করে তুলে! কমেন্টে যা ছিল ‘সেন্টমার্টিন কেন নয়?’।
বড় ভাইয়েরা  মুজিব স্যারের সিন্ধান্তে ২১-২২শে ডিসেম্বর ২০১৮ইং তারিখে গৃহীত হলো সেন্টমার্টিন।
সামনে শীতকালীন ছুটি আর ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে শিক্ষা সফর স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
পুনরায় ২০১৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে তোলপাড় চলেছে ক্লাসে শিক্ষা সফর নিয়ে,অনেকের মন খারাপ আর অনেককেই উদবিগ্ন। ১৭ জানুয়ারী ২০১৯ইং যাদের বাড়ি দূরে ছিল তারা কক্সবাজারে বন্ধু-বান্ধবদের রুমে চলে আসে সেন্টমার্টিন এ শিক্ষা সফরে অংশ গ্রহণ করার জন্য।
১৮ তারিখে ভোর ৫:৩০ মিনিটে নিজ-নিজ দায়িত্বে বন্ধু-বান্ধবদের ফোন করে যথা সময়ে স্ব-স্থানে গাড়ি ধরার জন্য অনুরোধ করে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে গাড়িতে উঠে,আসনে বসে। কেউ ছোট ছোট সাউন্ড নিয়ে আনন্দ উপভোগ করা শুরু করে দিল। প্রায় ১ঘন্টা প্লাস গাড়ি চড়ে, সেন্টমার্টিনের শিপের জেটিতে নাফ নদীতে বাসমান কাজল নামে শিপে বসে।
সত্য যে, কেউ আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা করে করে প্রায় ৩ ঘন্টা শিপে চড়ে সেন্টমার্টিন কিনারায় পৌছায়। সবাই সেন্টমার্টিনের বিখ্যাত ‘ব্লু-সি ইষ্টান রির্সোট’ হোটেল উঠে । লাঞ্চ সেরে রেস্ট করে বিকেলে সাদা কনা পাথরে সাইকেল চালানো, ছবি তোলা,ফুটবল ম্যাচ, সি-বিচে স্যারদের সাথে ঘুরাঘুরি মজাই ছিল আলাদা।
মাগরিবের পরে আবার আনন্দ উল্লাসে সবাই নাস্তা করে রুমে চলে আসে, এশারের পরে অনেকের রুমে ডিনারের আগে ঝাল মুড়ির আয়োজন করে, গ্রুপ করে করে মোবাইলে ছক্কা খেলা ছিল টেনশনের প্রধান হাতিয়ার। রাত ১০ টা বাজতে না বাজতে অনুষ্ঠান শুরু ।  দেখে যায় এক পাশে লাল টুকটুকে আগুন, আর অন্য পাশে  ঢোল তবলা,হারমোনি,গায়ক ইত্যাদি।
অনেকে আগুন দেখে বলাবলি করে দিল কিসের আগুন,এক বড় ভাই এসে বলল – ছোট ভাই সেন্টমার্টিন এ রাতের মজা হলো আগুনে গরম করে খাওয়ানো ।যার নাম হলঃ বার-বি-কিউ।
কামাল স্যারের সঞ্চালনায়, শ্রদ্ধেয় মুজিব স্যারের উদ্বোধনী বক্তব্য দিয়ে শুরু করে দিল মজার অনুষ্ঠান। যেখানে স্যার,ছাত্র-ছাত্রীদের উন্মুক্ত গান,আবৃত্তি, নাটক, নাচ, বক্তব্য, প্রেমের অনুভুতি প্রকাশ, গায়কের বকুল ফুল-বকুল ফুল গানটি পরিবেশ ছিল অসাধারণ,তানিয়া আপুর মধু হই হই অ্যাঁরে বিষ হাওয়াইলি গানটি সবার সেরা। মুজিব স্যারকে নিয়ে প্রাচীণ হঁলার সাইদুল হক ভাইয়ের কথা না বললে নয় । সর্বোপরি মুজাহিদের খুশির ঠেলায় নাটক পরিবেশন ছিল সত্যি মনোমুগ্ধকর। ঘুমানোর আগে বার-বি-কিউ সালাত চচেস দিয়ে খাওয়ানো না খেলে কেউ বুঝবেন না কি রকম।
পরেরদিন (১৯/০১/১৯) সকালে বিরানী খেয়ে বোট দিয়ে প্রায় ১ঘন্টা চললাম যেখানে স্বচক্ষে প্রবাল দেখা যায় যার নাম প্রবালদ্বীপ/ছেড়াদ্বীপ।
সকলে আগের দিনের মতো করে স্যারদের নিয়ে ছবি, গোসল করার মজা। পুনরায় দর্শনীয় স্থান দেখে সবাই হোটেলে লাঞ্চ সেরে দ্রুত শিপ ধরার জন্য চলে আসলো কাজল নামের শিপে। শিপে ছোট-বড় সবাই মিলে সাউন্ড নিয়ে ডান্স করে। ডান্স যারা জানেনা তারা পপুলার গান ধরে। চলে আসলাম সুদূর টেকনাফের জেটিতে।
যাদের সহযোগিতায় “শিক্ষা সফর-২০১৯ইং” সফল,তাদেরকে কৃতজ্ঞতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারিনা। তারা হলেন শ্রদ্ধেয় মুজিবুল হক চৌধুরী স্যার,শিক্ষক মন্ডলী ,মাস্টার্সের বড় ভাই বিশেষ করে সাদ্দাম ও কায়সার ভাই,আরো অনেকেই সর্বোপরি মজার বাক্স আরফান এবং কামরুল ভাইকে।বাংলা বিভাগের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র/ছাত্রীদের পক্ষে তাদের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ , অভিনন্দন ও অফুরন্ত ভালোবাসা রইল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •