কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া::
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমেজ কাটতে না কাটতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বাতাস বইতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। নৌকার প্রতীক নিয়ে কে হচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী। ক’দিন আগে নিরষ্কুশ সংখ্যা গরিষ্টতায় বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। অন্যদিকে অপর বৃহত্তর দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আসবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইতোমধ্যে। তাই সরকার দলের পক্ষ থেকে নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে অনেকে মাঠে প্রচার-প্রচারণা ও ঢাকা কেন্দ্রিক লবিং শুরু করে দিয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন মার্চ মাসে করার ঘোষণা দিয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া বইছে সর্বত্র। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নৌকার প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।

লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত জনগুরুত্বপূর্ণ উখিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরী। তিনি উখিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং সাবেক অডিট এন্ড একাউন্টস অফিসার।

উখিয়ার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ ও জে. চৌধুরী (জাফর আলম চৌধুরী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সহ অসংখ্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের আহবায়ক হিসেবে আওয়ামী ঘরানার মধ্যে তাঁর একটি পরিচ্ছন্ন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর সহধর্মীনি গত ৪ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বড় ছেলে জিহান চৌধুরী বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য।

উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে কোন প্রার্থী মাঠে না থাকায় নৌকা প্রতীক নিয়ে যিনি প্রার্থীতা করবেন তার জন্য নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অনেকটা সহজ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

বিএনপি-জামায়াতের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক উখিয়ায় থাকলেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি না আসলে ভোটারেরা আসলে কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা এখনো পরিষ্কার হচ্ছে না। তবে এই উপজেলায় আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। কে হচ্ছেন নৌকার কান্ডারী তাও নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের মাঝে রয়েছে নানা দ্বিধাদন্ধ।

সর্বশেষ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হলে হেভিওয়েট প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নির্বাচন করবে বলেও আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেখার বিষয় কি হচ্ছে কক্সবাজারের এ অতিগুরুত্বপূর্ণ উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উখিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের আহবায়ক জাফর আলম চৌধুরী বলেন, এই এলাকা বিএনপি-জামায়াত প্রবণ মৌলবাদী এলাকা ছিল। তিনি এও বলেন ১৯৯৯ সালে তাঁর প্রচেষ্টায় নিজ খরচে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ প্রথম গৃহ নির্মাণ ও আসবাবপত্র থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করেন। এই কলেজ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে স্নাতক পর্যায়ে পড়ালেখা করার সুযোগ পেয়েছে। যার ফলে ঘরে ঘরে আওয়ামী আদর্শের কর্মী ও সমর্থক সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উখিয়ার আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার পরিবার আওয়ামীলীগ করার কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী বাড়ীঘর আগুন গিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। উখিয়ায় প্রকৃতপক্ষে আমিই একজন স্বচ্ছ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। মনোনয়ন পাওয়ার পক্ষে আমার অগ্রাধিকার রয়েছে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আমার আর্জি থাকবে গণমানুষের স্বার্থে আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। মনোনয়ন পেলে ঐতিহাসিক ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবো ইনশাল্লাহ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতীয় তালিকাভুক্ত গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধা ও উখিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের আহবায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সর্বস্তরের মানুষ সৎ, সাহসী ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তাঁকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •