cbn  

বিদেশ ডেস্ক :

ভারতের রাজস্থানে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে হাজার। বিদেশি পর্যটকে মুখরিত থাকা রাজস্থানে এ প্রাদুর্ভাব বড় আকারে শুরু হলেও দিল্লির মতো স্থানেও সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। সাধারণত শীতকালে ভারতের পশ্চিম ও উত্তরের এলাকায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধান সহযোগী ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোয়াইন ফ্লু প্রথম দেখা যায় শুকরের মধ্যে। পরে এতে সংক্রমিত হয় মানুষ। মারাত্মক সংক্রামক এ রোগের ভাইরাস আক্রান্তের শরীর থেকে অন্যদের আক্রান্ত করতে পারে। আনুষ্ঠানিকভাবে এর নাম ‘এইচ ওয়ান এন ওয়ান।’

উত্তর আমেরিকায় প্রাথমিকভাবে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুর বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করে। ২০১০ সাল থেকে একে একটি মৌসুমি ভাইরাস জনিত রোগ হিসেবে দেখা হয়। গত বছর ভারতে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। আর মারা গিয়েছিল এক হাজার ১০০ জন।

এ বছর আবার সোয়াইন ফ্লু দেখা দেওয়ার প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার রাজস্থান স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারির এক থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত সেখানে ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক হাজার ৩৬ জন আক্রান্তকে চিহ্নিত দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

রাজস্থান সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চিকিৎসকদের ছুটিতে যাওয়ার আগে আগাম মঞ্জুরি নিতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে আক্রান্তদের চিহ্নিত করার কর্মসূচও হাতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে তারা। ইতোমধ্যে রাজ্যটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করেছেন এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে পরীক্ষা করেছেন।

পুরো রাজস্থানে যোধপুর জেলাতেই সোয়াইন ফ্লুর কারণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে; ১৬ জন। ২২৫ জন সেখানে আক্রান্ত। রাজস্থান ও দিল্লিসহ ভারতের উত্তর ও পশ্চিম দিকে সাধারণ ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীত পড়ার সময় সোয়াইন ফ্লুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে দেখা যায়। সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত আলোচিত ব্যক্তিদের একজন অমিত শাহ। তিনি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •