cbn  

বিশেষ প্রতিবেদক:
অসহায়, নিন্ম ও মধ্যবিত্ত মানুষের সুসাস্থ্য ও চিকিৎসার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হিসেবে বেশ আগেই সুনাম অর্জন করে নিয়েছে হোপ হসপিটাল। মানবসেবার মহানব্রত নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই হাসপাতালে বিনা ও স্বল্প খরচে সেবা পেয়ে অনেক মানুষ উপকৃত হয়ে আসছেন। দিনে দিনে এই সেবার পরিধি বাড়ছে। এই জন্য রামুর চেইন্দায় অবস্থিত এই হাসপাতালটিও সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক হচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে চিকিৎসা সেবায় এক মাইলফলক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে হোপ হসপিটাল। এর সর্বশেষ সংযোজন ‘টেলি ডিভাইস’ যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে আমেরিকায় বসে জটিল রোগের চিকিৎসা দেন সেখানকার নামকরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই অত্যাধুনিক ডিভাইস চিকিৎসা বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এই ডিভাইসের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে অনেক রোগী হয়ে উঠেছেন সুস্থ্য।

হোপ হসপিটাল সূত্রে জানা গেছে, হোপ হসপিটালে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করে সঠিক মান সম্পন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষ সব সময় প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। এই কারণে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি সব স্তরের মানুষের কাছে বেশ আস্থা অর্জন করে। রোগীদের ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমাহার ঘটিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই প্রচেষ্টার সর্বশেষ সংযোজন ‘টেলি ডিভাইস’। এই ডিভাইস দিয়ে আমেরিকা থেকে সেখানকার নাম করা চিকিৎসকেরা হোপ হসপিটালের রোগী দেখেন। ‘বিস্ময়কর’ এই যন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের বাহ্যিক অংশে সৃষ্টি হওয়া সব ধরণের জটিল রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়। এর জন্য হোপ হসপিটালে খোলা হয়েছে বিশেষ কর্ণার।

‘টেলি ডিভাইস’ রোবটের মতো কাজ করে। যন্ত্রটির মাধ্যমে আমেরিকা থেকে রোগীর চামড়া দেখে রোগ সনাক্ত করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। সে মোতাবেক প্রেসক্রাইব করেন চিকিৎিসক। তাঁর নির্দেশান মোতাবেক ওষুধ লিখেন টেলি কনফারেন্সে সংযুক্ত এখানকার চিকিৎসক। এই যন্ত্রের শরীরের বাহ্যিক অংশের একদম সুক্ষ্ম রোগও অতিসহজেই নির্ণয় করা যায়।

হোপ হসপিটালের  মেডিকেল অফিসার নৃন্ময় বিশ্বাস জানান, প্রতি বুধবার সারাদিন হোপ হসপিটালে ‘টেলি ডিভাইস’ যন্ত্র দিয়ে রোগী দেখা হয়। তার জন্য আগেই রোগীকে নাম নিবন্ধন করতে হয়। এই ০১৮১৮-৯২৮৪৯৩ (২৪ ঘন্টা) নাম্বারে ফোন করে নিবন্ধন করা যাবে। সম্পূর্ণ বিনা ফিতে ছয় মাস ধরে এই যন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই চিকিৎসা নিয়ে প্রায় সব রোগীই সেরে উঠেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই যন্ত্রের চিকিৎসা নিতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডাইরেক্টর কেএম জাহিদুজ্জামান বলেন, ‘হোপ হসপিটালে স্বল্প খরচে চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে সেবা এবং চিকিৎসাটা কিন্তু অত্যাধুনিক ও বিশ^মানের। রোগীদের সেবা এবং চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমরা কখনো অর্থের দিকে তাকাই না। আমাদের কাছে সেবাটায় অগ্রাধিকার। সে চিন্তাধারা থেকে হোপ হসপিটালে আধুনিক চিকিৎসার পদ্ধতির সংযোজন নিশ্চিত করা হয়। তার সর্বশেষ সংযোজন ‘টেলি ডিভাইস’। এই যন্ত্রটি চিকিৎসাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। পৃথিবীর ওই প্রান্তে বসে পৃথিবীর সেরা চিকিৎসকেরা আমাদের হাসপাতালের রোগী দেখেন। এতে এখানকার গরীব রোগীরা তাদের জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে পারছেন। এই সেবাটি চালু করতে পেরে আমরা নিজেদের খুবই গর্বিত মনে করছি। এই ডিভাইসের মাধ্যমে চিকিৎসা নেয়ার জন্য আমরা কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি।

হোপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইফতিখার মাহমুদ মিনার (এমডি) বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিলো মানুষের জন্য কিছু করা। চিকিৎসা পেশায় এসে আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগটা প্রসারিত হলো। আমি সুদূর আমেরিকায় চলে আসলেও আমার এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার একটা তাগিদ ছিলো। তার জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালিয়ে আমি হোপ হসপিটাল প্রতিষ্ঠা করেছি। এই হাসপাতালের মাধ্যমে আমার এলাকার মানুষের জন্য পৃথিবীর অত্যাধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আমি কাজ করছি। আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের কৃতিসন্তান আমেরিকা প্রবাসী ডা. ইফতিখার মাহমুদ মিনার এর অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে কক্সবাজারে হোপ ফাউন্ডেশন ফর উইমেন এন্ড চিলড্রেন অব বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কক্সবাজার জেলার মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো এবং ফিস্টুলা মুক্ত করার জন্যই মুলত: এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •