হানিমুন পিরিয়ডেই সরকারের দুই চ্যালেঞ্জ

পরিবর্তন ডটকম:

দুর্নীতি পদে পদে; মাদক ঘরে ঘরে— এখন প্রবাদ হয়ে গেছে। সরকার এবং বিরোধী সব দলের নেতারাই এর বিরুদ্ধে বলেন। তারা মনে করেন, এই দুটি বিমার সারলেই সফল হবে সরকার।

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে হানিমুন পিরিয়ডেই দুর্নীতির বাধা জয়ের ঘোষণা দিয়েছে। সঙ্গে চাচ্ছে, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সফলতা।

আওয়ামী লীগের চমকে ভরা মন্ত্রিসভার সদস্যরা বলছেন, দুর্নীতি নিয়ে কোনো ছাড় নয়। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন করবেন তারা।

জনমনেও নতুন মুখ এবং ক্লিন ইমেজের মন্ত্রিসভা নিয়ে আপাতত উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। একাদশ নির্বাচন নিয়ে বাজারে ‘নানা কথা’ থাকলেও মন্ত্রিপরিষদের চমকে তা বিলীন হয়েছে। এখন সবার চাওয়া, তাদের নেতৃত্বেই মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গঠন হোক।

আমার গ্রাম-আমার শহর, তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণসহ ২১ বিশেষ অঙ্গীকার নিয়ে এক চমকপ্রদ ইশতেহারে জনতার মন কেড়েছে আওয়ামী লীগ। পরে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে তারা।

ইশতেহারের মতো ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায়ও দিয়েছে চমক। নির্বাচনী জোটের শরিকদের এবার মন্ত্রিত্বে রাখেনি। নিজ দলের প্রভাবশালী ৩৪ জনকে বাদ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে ৩১ নতুন মুখ। এই মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছেন।

সরকারের দেয়া; প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ, তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তাসহ নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চায় মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।

টিভি টকশো, পত্রিকার কলাম ও রাজনৈতিক আড্ডায় তাদের বক্তব্য, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে মাদক। ইয়াবাসহ মাদকের নতুন ডাইমেনশনে অভিভাবকরা পরিচিত না হলেও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তরুণ সমাজ। যৌবন ও জীবন ধ্বংসের এ খেলা থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে শেখ হাসিনা সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ চান তারা।

পাশাপাশি সরকারি সেবাদানকারী অফিসগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি ও সেবাপ্রাপ্তির সহজীকরণ চায় সাধারণ মানুষ। জননিরাপত্তায় পুলিশ, স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসক, ভূমি অফিসার, পাসপোর্ট কর্মকর্তাসহ নানা দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিতদের প্রতি প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

নাগরিকদের এই চাওয়া পূরণে বদ্ধপরিকর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলছেন, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব সংযুক্ত করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করে নতুন সরকার।

সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নতুন সরকারেরর চ্যালেঞ্জ একটাই- ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।

এদিকে, দুর্নীতি, অনিয়মসহ নানা বিষয়ে কাজ করতে ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুতই শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে। অপরাধ যার যার নিজস্ব বিষয়। সরকার এতে কাউকে ছাড় দেবে না।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় হচ্ছে, দুর্নীতিমুক্ত করা। আমি আমার মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করে যাব।’

প্রশ্ন ফাঁসরোধ, কোচিং বাণিজ্য বন্ধসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের জন্য কোচিং একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষক তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের ফেল করে দেয়াসহ নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তানরা কিন্ডারগার্টেনে পড়তে পারবে না। এতে প্রাথমিকে শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকরা উদ্যোগী হবেন।’

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা হারাম খাব না। বেতন নেব অথচ শ্রম দেব না তা হয় না।’

ইশতেহারে দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী প্রতিশ্রতির প্রতি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি নির্দেশনা দিতে হবে— কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা যে হারে বেতন বাড়িয়েছি, এ উদাহরণ পথিবীর কোনো দেশেই নেই।’

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেটা প্রয়োজন সেটাতো আমরা মিটাচ্ছি। তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? মন-মানসিকতাটা পরিবর্তন করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আপনাদের দিতে হবে একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।’

সন্ত্রাস-মাদক-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

‘লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার সরকার সন্ত্রাস, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ সংবাদ

ভারুয়াখালীতে স্কুলছাত্রকে অপহরণের চেষ্টা  ‘ভাই গ্রুপের’

আজ আন্তর্জা‌তিক মাতৃভাষা দিবস

মুজিবুর রহমান ও এমপি জাফরের দোয়া নিলেন ফজলুল করিম সাঈদী

মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে রাখাইনদের নতুন প্রজন্ম

শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে অপশক্তিকে রুখতে হবে- মেয়র মুজিব

একুশে ফেব্রুয়ারি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

টেকনাফে সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধার

চকরিয়ায় শিশু ও নারী নির্যাতন মামলার ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

২০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক

এডভোকেট রানা দাশগুপ্তের সাথে কক্সবাজার জেলা নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ঈদগাঁওতে পুজা কমিটির সম্মেলন নিয়ে সংঘাতের আশংকা

কক্সবাজার সিটি কলেজে শিক্ষকদের জন্য আইসিটি প্রশিক্ষণ শুরু

উখিয়ায় হাতির আক্রমণে রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু

এস আলম গ্রুপের ৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকার কর মওকুফ

মালয়েশিয়ায় ভবনে আগুন : বাংলাদেশিসহ নিহত ৬

মহেশখালীতে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে মোস্তফা আনোয়ার

চকরিয়ায় ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ী আটক

চকরিয়ার চেয়ারম্যান পদে ২ জনসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

কোর্টরুমে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে : প্রধান বিচারপতি