বিশেষ প্রতিবেদক:
শপথ করে কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক শরীফকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় তারেকের বড়ভাই এড. নোমান শরীফকে তার মুঠোফোনে ফোন করে এই হুমকি দেয়া হয়। হুমকিদাতা জয়নাল সেলিম বাহিনীর সেকেন্ডে ইন কমান্ড বলে জানান নোমান শরীফ।

এড. নোমান শরীফ জানান, দুপুর আড়াইটায় তার মুঠোফোনে (অপরিচিত) মোবাইল নাম্বার থেকে কল আসে। পরিচয় জানতে চাইলে কলদাতা নিজেকে মজু বলীর পুত্র জয়নাল বলে পরিচয় দেয়। এক পর্যায়ে মামলায় আসামী করার দাবি করে ওই ব্যক্তি তাঁর ছোটভাই চেয়ারম্যান তারেককে শরীফকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তার জন্য শপথও করে এবং কথাগুলো মোবাইলে রেকর্ডও করতে বলে।

মুঠোফোনের ওই অডিও রেকর্ডের সারমর্ম মতে, ওই ব্যক্তি বলেন- ‘আমরা কি কালারমারছড়া গিয়ে ঘটনা করেছি, আমাদের মামলায় দিয়েছেন যে? এর উত্তরে নোমান বলেন- মামলার বাদি কে? আমরাতো মামলা করিনি। এর জবাবে ওই ব্যক্তি বলে- বাদি আপনারাই তো। বাদি লাগছে না, সব আপনি করেছেন।

এরপর ওই যুবক বলেন- আমরা যখন বিনা দোষে মামলা খেয়েছি, আপনার ভাইকে মেরে ফেলবো, আল্লাহর কসম! আপনি এই কথা রেকর্ড করুন। আমরা বসে থাকবো না, এবার চেয়ারম্যানকে মেরে ফেলবো। এই কথার পর তাদের দু’জনের মধ্যে আরো কিছু কথা হয়। শেষে ওই যুবক আবারো বলে- আমরা যখন বিনা দোষে মামলা খেয়েছি, তাহলে মেরে খাবো। তাহলে দেখেন!

এড. নোমান শরীফ জানান, নোনাছড়ির সেলিম বাহিনী ও কালারমারছড়ার জিয়া বাহিনীর সন্ত্রাসীরা কয়েকদিন আগে কালারমারছড়ার পাহাড়তলীর দুই যুবককে গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে। ফকিরজুমপাড়ার পিতা ও পুত্রকে অপহরণ করে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসব ঘটনায় তাদের পরিবারের লোকজন মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মামলার দায়েরের জন্য চেয়ারম্যান তারেককে দোষারোপ করছে হামলাকারীরা।

এ ব্যাপারে কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক শরীফ বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা শান্তিপূর্ণ মানুষের উপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকদিন আগে গভীর রাতে আমার বাড়িতে গুলি বর্ষণ করেছে। আমার জনপ্রিয়তা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা তারা সহ্য করতে পারছে না। তাই ওই সন্ত্রাসীরা আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তারা আগেও আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, তা এখনো অব্যাহত রেখেছে। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমি নিরাপত্তা চাই।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •