বিশেষ প্রতিনিধি

উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মাঝে জলবসন্ত (ছোঁয়াচে রোগের) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৮ শতাধিক রোহিঙ্গা।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জেন মোঃ আব্দুল মতিন।
মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, এটা একটি খুবই ছোঁয়াচে রোগ। এ রোগে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় প্রায় একটানা এই অস্বস্তিকর অবস্থায় থাকে। প্রথমে সামান্য জ্বর হতে পারে, এরপর ফোস্কা পড়ে, চুলকানি এবং অবশেষে ফোস্কা থেকে শুকনো মরা চামড়া উঠে আসে। এ রোগটির লক্ষণ হলো-গায়ে প্রচন্ড জ্বর, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পানি ফুড়ার মতো দেখা দেয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রচুর চুলকানি ও শরীর ব্যথা অনুভব করে। এটা হলো রোগটি চেনার সহজ উপায়।
গতকাল সন্ধ্যায় টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, শিশু সন্তানের কোলে নিয়ে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরে আসছিলেন আয়েশা খাতুন।
আয়েশা খাতুন বলেন, ৫জন পরিবারের সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ছোট শিশু সন্তানটি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শিশুটিকে নিয়ে খুবই  কষ্টে দিনাতিপাত করছি।
লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা আমির হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে এ রোগটি দেখা দিয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জেন মো আব্দুল মতিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এ রোগের প্রাদুর্ভার দেখা দিয়েছে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (এমওএইচ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য খাতের অংশিদাররা প্রাদুর্ভাব কমানোর জন্য উখিয়া-টেকনাফে পৃথক ভাবে প্রশিক্ষণ শুরু করা হচ্ছে। তবে আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। এ রোগে রোহিঙ্গারা বেশি আক্রান্ত হলেও এ পর্যন্ত কারো সারা যাওয়ার কোনো তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগে নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •