শাহেদ মিজান, সিবিএন:

মামলা, জেলহাজত, অভিযোগসহ নানা অঘটনের পরও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় অনিয়ম-দুর্নীীত থেমে নেই। এত কিছুর পরও জমির মালিকেরা এখনও অসহায়। তাই অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ও দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়েই আছে জমির মালিকেরা। জমির মালিকদের জিম্মি করে ‘কমিশন’র নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট। প্রকাশ্যে এই ‘কমিশন’ বাণিজ্য চললেও জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী জমি মালিকদের।

ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ির দু’টি কয়লাবিদ্যুতের জমি অধিগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে মহেশখালীর পাঁচ হাজার একর সুপার পাওয়ার কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রর জমি অধিগ্রহণ। মাস দেড়েক ধরে এই কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলণের প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে কিছু ফাইলের টাকা ছাড়ও দেয়া হয়েছে। বাকি সব ফাইলও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, হোয়ানক ও কালারমারছড়া নিয়ে গঠিত পাঁচ হাজার একরের এই কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র। ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালেরা মিলে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সিন্ডিকেটটি টাকা উত্তোলণের জন্য জমির মালিকদের জিম্মি করে ফেলেছে।

অভিযোগ মতে, কোনো অনিয়ম ছাড়া স্বচ্ছতার সাথে জমির মালিকদের ব্যক্তিগতভাবে টাকা উত্তোলণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় দালাল ছাড়া কোনো ফাইলই গ্রহণ করা হচ্ছে না। অধিগ্রহণ শাখার লালিত দালালদের মাধ্যমেই ফাইল গ্রহণ করা হচ্ছে। তার বিনিময়ে জমির মালিকদের গচ্ছা যাচ্ছে সর্বনি¤œ ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক জমির মালিক জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিগতভাবে টাকা উত্তোলনের ফাইল জমা করার অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় নানা অজুহাত দেখিয়ে ফাইল গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে অধিগ্রহণ শাখার লালিত দালালদের মাধ্যমেই ফাইল জমা করতে হয়েছে। সর্বনিন্ম ১৫ থেকে ৩০% পর্যন্ত ‘কমিশন’র বিনিময়ে ফাইল জমা নিয়েছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, প্রতিটি ফাইল থেকে ১৫ থেকে ৩০% পর্যন্ত ‘কমিশন’ ছাড়া কোনো ফাইল ছাড় দিচ্ছে না অধিগ্রহণ শাখা। এই কমিশন আদায়ের জন্য সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। অধিগ্রহণ শাখার কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এই শ্রেণির দালাল নিয়ে এই সিন্ডিটেক গড়া হয়েছে। দালালরারই মূলত সব ‘প্রসেস’ করেন। দালালদের তালিকায় রয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠিত আইনজীবিসহ বেশ ক’জন শিক্ষানবিশ আইনজীবি এবং কিছু বেকার শ্রেণির লোকও। সিন্ডিকেট কয়েকজ সাংবাদিকও রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দালালরা জমির মালিকদের সাথে মধ্যস্থতা করেই সব ফাইল ‘কমিশন’ ক্যাটাগরিতে নিয়ে আসছে। এদের খপ্পরে পড়ে ‘কমিশন’ ভিত্তিতে জমির টাকা উত্তোলন করতে বাধ্য হচ্ছে মালিকেরা। কমিশনের নামে লোপাট করা এই বিশাল অংকের টাকা ভূমি অধিগ্রহণ ওইসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দালালরা ভাগভাটোয়ারা করছে।

তবে এই কমিশন নিয়ে জমি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ লেগেই আছে। তারা কমিশনের নামে এই বিশাল অংকের ঘুষ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ। কিন্তু কোথাও গিয়ে তার প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। এই ব্যাপারে নতুন ভূমিমন্ত্রীর কাছে নালিশ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ ভূমিমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে এর বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেবো।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •