এম আবুহেনা সাগর, ঈদগাঁও:
ঈদগাঁওর পাহাড়ী এলাকা গুলোতে অপহরণ চক্রের আনাগোনা বেড়েই চলছে। এতে করে লোকজনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
৬ জানুয়ারী সন্ধ্যা ও রাত্রীকালীন সময়ে ঈদগাঁও কালিরছড়া অফিসপাড়া ব্রীজ নামক স্থানে বেশ কজন অপহরনকারী চক্রদের দেখতে পায় বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান মিনার।

তিনি জানান, কালিরছড়া, ভূতিয়াপাড়ার পাহাড়ী স্থানগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এসব চক্রের আনাগোনা ও দৌরাত্ব বৃদ্বি পাওয়ায় এলাকার নারী পুরুষের মাঝে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকার কর্মজীবী অসহায় লোকজনরা দিনের বেলায় স্বাভাবিক চলাফেরা করলেও সন্ধ্যা পার হলেই আতংকিত হয়ে উঠছে।
মেম্বার মিনার আরো জানান, ৬ জানুয়ারী দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অফিসের মোরার পূর্ব পাশে অপহরনকারীর চক্রের অবস্থানের টের পেয়ে তদন্ত কেন্দ্রের এসআই দেবাশীষ সরকারের নেতৃত্বে পুলিশদল উক্ত স্থানে হানা দেয়। পরে দুই রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পুলিশ।

গত ৫ জানুয়ারী রাত ১১ টার দিকে ঈদগাঁওর পূর্ব ভূতিয়ারপাড়া মসজিদের পাশ্বর্বতী স্থানে ৬/৭ জন অপহরণকারী চক্রদের টহলের সময় স্থানীয় লোকজন দেখার পরে হঠাৎ কালিরছড়া বাজারের লোক জনদেরকে বিষয়টি অবগত করে। তারা তাৎক্ষণিক বাজারস্থ জামে মসজিদসহ বেশ কয়েকটি মসজিদের মাইকে এলাকার লোকজনকে অপহরণ চক্রের থাবা থেকে রক্ষা পেতে সতর্ক বার্তা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে এই অপরাধীচক্ররা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

মেম্বার কামাল উদ্দিন জানান, ভূতিয়ার পাড়া এলাকার অপহরণকারীরা রাত ৮ টার পর থেকে গ্রামে এসেছিল। লোকজন তাদের দেখলে খবর টি ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মসজিদের মাইকে সতর্ক করার পর তারা সরে পড়েছিল। তিনি আরো জানান,এরা সন্ধ্যা বা রাতের বেলায় পাড়া মহল্লায় হানা দিচ্ছে প্রায়শ। সন্ধ্যা নামার পর থেকে অপহরন এবং মুক্তিপন আতংকে থাকেন গ্রামবাসী।

এ ব্যাপারে কমিউনিটি পুলিশ সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম উদ্দিন জানান, কালিরছড়া ও ভূতিয়ার পাড়া নামক এলাকার পাহাড়ী সাইট গুলোতে অপহরন চক্রের আনাগোনা বৃদ্বি পাচ্ছে। পুলিশী তৎপরতা জোরালোর দাবী জানান তিনি।

ঈদগাঁও ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফয়সাল আল ফিরোজ জানান, অপহরনের থাবা থেকে গ্রামের মানুষদেরকে রক্ষা করতে,সাধারন লোক জনের সাথে ছাত্রলীগের কর্মীরাও রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।

গ্রামবাসীকে অজানা আতংক থেকে মুক্তি দিতে পাহাড়ী এলাকাগুলোতে আইনশৃংখলা বাহিনীর চিরুনী অভিযান সময়ের গনদাবীতে পরিনত হয়ে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন সাধারন লোকজন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •