তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:

নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করতে যাচ্ছে পুলিশ। এ নিয়ে তৃতীয় ধাপে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে হাসপাতাল এলাকায়। মেডিকেল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যামেরা বসানোর উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান, চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাসপাতাল এলাকায় এ পর্যন্ত একশ এর মতো ক্যামেরা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো অস্পষ্ট ও বিকল। একারনে অনেক ঘটনা ঘটলেও সিসি ক্যামেরায় ফুটেজ শনাক্ত করতে কষ্ট হয়। এবারে গুরুত্বপূর্ণ ১৬ টি পয়েন্টে ক্যমেরা স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়ে ৩০লাখ টাকা। চলতি সপ্তাহে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হবে। ফলে রোগীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব হবে বলেন উপ-পরিচালক।

চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১২সালে দিকে রোগীদের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমিত পর্যায়ে কয়েকটি ওয়ার্ডে লাগানো হয় ক্যামেরা। কিন্তু এসব ক্যামেরায় কোনভাবে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার পরবর্তী সময় ২০১৩ সালে নেয়া হয় নতুন উদ্যোগ। দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। সে সময় দ্বিতীয় দফায় মোট ৬০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। স্থাপনের কয়েক মাসের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায় অধিকাংশ ক্যামেরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সেগুলো দেখভাল করেনি। স্বল্প মূল্যে ও নিম্মমানের ক্যামেরা বসিয়ে ছিলো ওই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি হয়েছিল কর্তৃপক্ষের। পরে এগুলো সচল করার নির্দেশ থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় তা হয়ে উঠনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একটি ওয়ার্ডে নবজাতক বদল করে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক নবজাত চুরির ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, গতবছরের শেষের দিকে জরুরি বিভাগের সামনে পুলিশের ওপর দুর্বত্তরা হামলা চালায়। এছাড়া মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটে। গত বছরের ২১ জানুয়ারি কথা কাটাকাটির জেরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায়।

এদিকে সিসি ক্যামেরা সচল হলে এ জাতীয় ঘটনার জন্য দোষীদের সহজে শনাক্ত করা সম্ভব মনে করছেন হাসপাতালের রোগী ও দর্শনার্থীরা। হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা নগরীর বাকলিয়া থানার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এতো বড় একটি হাসপাতাল। পর্যাপ্ত ক্যামেরা নেই। তাছাড়া কোন রোগীর প্রেসক্রিপশন নিয়ে বের হলেই চার পাঁচ জন এগিয়ে আসে। তাদের পছন্দ মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা জন্য। এছাড়াও কোনো অনাকাঙ্কিত ঘটনা ঘটলে দোষীদের ধরতে বেগ পেতে হবে।

এদিকে জরুরি বিভাগের সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় পুলিশের ওপর হামলা ঘটে যাওয়া ঘটনাটির কোন ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এতে আসামিরা চলে নাগালের বাইরে। এমনটা জানিয়ে চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক বলেন, দীর্ঘ থেকে হাসপাতাল এলাকায় অনেক ক্যামেরা নষ্ট হয়ে আছে। কিছু ঘটনা ঘটলেও আসামী ধরা সম্ভব হয়না। কিছুদিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকার একজন অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীর মদদে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী দায়িত্বরত পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার পর তারা গাঁ ঢাকা দেয়। জরুরি বিভাগের সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় আমরা ফুটেজ পাইনি। এতে করে আসামি শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

এবার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১০ টি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল এলাকায় প্রায় সময় ছোট খাটো চুরি- মারামারির ঘটনা ঘটে। সিসি ক্যামেরা না থাকার কারনে তাদের অপকর্ম শনাক্ত করা হয়নি বলেন জহিরুল হক। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেইন গেট, পূর্ব গেট, পশ্চিম গেট, লাশ ঘরের সামনে, স্টাফ কোয়াটার, মর্গসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •