জসিম উদ্দীন জিহাদঃ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারে সবকটি আসনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আরো বেশি আত্মবিশ্ববাসী হয়ে উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখনো শেষ হয়নি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের আনন্দ, অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা বিনিমিয়। গঠন হয়নি মন্ত্রীসভা, বণ্টন হয়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। ৮ টি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা যেমন তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। তেমনি অনুসারী নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য জোড় দাবি জানাচ্ছেন।

কক্সবাজার মূলত বিএনপি জামায়াতের দুর্গ বলে পরিচিতি থাকলেও এখন শব্দটা শুকনো মরা নদী বলা যায়। সদ্য শেষ হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুরুতে মাঠে নামলেও পরে মামলার ভয়ে গাঁ ঢাকা দেয় বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সংসদ নির্বাচনের শোচনীয় পরাজয়ের ফলে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রণের জন্য এখনো কেউ আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।

তবে সম্পূর্ণ বিপরিত আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে স্ব-স্ব উপজেলায় পনের থেকে বিশজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় সমর্থন আদায়ে তোড়জোড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের বলয় আরো শক্তিশালী করতে দৌড়ঝাঁপ লক্ষণীয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়ে কয়েকগুণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন খোদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই।

আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বেশকয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সবাই স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজেকে যোগ্য ও দলের জন্য ত্যাগী দাবি করছেন। সে হিসেবে সবাই দলীয় সমর্থন বা মনোনয়নের ব্যাপারেও শতভাগ আশাবাদী। প্রায় সব প্রার্থীরা-ই মনে করেন, আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা পেলে-ই বিজয় হওয়া সম্ভব। কারণ হিসেবে সবার একটাই যুক্তি, তা হলো, উন্নয়নের জোয়ার অব্যাহত রাখতে সদ্য শেষ হওয়া একাদশ সংসদে জনগণ যেভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণ রায় দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ঠিক উপজেলা নির্বাচনেও একইভাবে নৌকার পক্ষে অবস্থান নেবে জনগণ। এমন বিশ্বাস সম্ভাব্য প্রার্থীদের।

তবে এ ব্যাপারে জেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, প্রার্থী যে কেউ হতে পারে এবং দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন চাইবার অধিকারও সবার আছে। তবে শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তার উপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা যাকে সমর্থন দিবে, তার পক্ষে কাজ করতে আ.লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •