ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী থেকে:
স্বাধীনতার পর গত ৪৭ বছরে গঠিত একাধিক মন্ত্রীসভায় বারবার অবহেলিত হয়ে আসছে দেশের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরী কক্সবাজার। এই পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে বিএনপি থেকে চকরিয়া- পেকুয়া আসনের সাংসদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সালাহ উদ্দিন আহমদকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও অবহেলিত থাকতে চায় না কক্সবাজারবাসী। বর্তমানে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কক্সবাজারেই। অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই কক্সবাজার থেকে এবার মন্ত্রীত্ব দেয়ার দাবি উঠেছে। এতে পুরো দেশের পাশপাশি কক্সবাজারও অর্থনৈতিকসহ সার্বিকভাবে আরো উন্নত হবে। তাই সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদের কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত চার সাংসদ থেকেই মন্ত্রীত্ব করা দাবি জানাচ্ছেন কক্সবাজারের জনসাধারণ।

কক্সবাজারের জনগণ বলছেন, নতুন সংসদের নির্বাচিত কক্সবাজারের সাংসদরা মন্ত্রীত্বের যোগ্যতা রাখে। তাই জনগণ দাবি নিয়ে নানা আশা-আকাঙ্খার সমীকরণ মিলাচ্ছে। এবার একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পেলে কক্সবাজারের উন্নয়নে মনোনিবেশ করবেন এই আশায় বুক বাঁধছে কক্সবাজার জেলাবাসী। প্রত্যাশা করছেন নিজ এলাকার নেতাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখার। চান নতুন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রণালয়টি থাকুক নিজ আঞ্চলিক বলয়ে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে জামাত-বিএনপি অধ্যুষিত কক্সবাজারের ৪টি আসনেই স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈনিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতীক নৌকাকে বিপুল ভোটে জয় করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়েছেন। নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন মন্ত্রীত্ব চালানোর উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন ৪জন তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ানকে। এদের মধ্যে রয়েছে রামু- কক্সবাজার আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদে সেরা প্রধান বক্তা নির্বাচিত সাবেক সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী- কুতুবদিয়া থেকে নির্বাচিত তরুণ প্রজন্মের আইডল সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক, চকরিয়া পেকুয়া থেকে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন নেতা জাফর আলম ও উখিয়া-টেকনাফ থেকে নির্বাচিত ককসবাজার জেলার প্রথম এবং একমাত্র নারী সাংসদ শাহীন আকতার।

কক্সবাজারের আমজনতা এবারের সরকারের মন্ত্রীসভায় একজন পূর্ণমন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীসহ অন্তত দু’জন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রীসভায় দেখতে চায়। কেননা, এতদাঞ্চলের জনতার দাবী, সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে মহেশখালী- কুতুবদিয়ার জনগণ তাদের বাপ দাদার ভূসম্পত্তি অধিগ্রহণে ছেড়ে দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের প্রমাণ দিয়েছে। ফলে মহেশখালীতে বাস্তবায়িত হচ্ছে জাইকার অর্থায়নে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০০ মেগাওয়াটের আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির কয়লা বিদ্যুত প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর ও এলএনজি গ্যাস লাইন। মহেশখালীতে প্রস্তাব করা হয়েছে আরো দুটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প সহ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রাম- কক্সবাজার ঘুনধুম রেললাইন প্রকল্প। জনতার দাবী এবারের মন্ত্রীসভায় কক্সবাজারের এসব মেগা প্রকল্প সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে কক্সবাজার থেকে দুজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেয়া হোক।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহেশখালী- কুতুবদিয়া আসনে দলীয় স্বার্থে সরকার দলীয় প্রার্থীকে সমর্থনকারি প্রার্থী ড. আনসারুল করিম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত গঠিত সরকারের মন্ত্রীসভায় কক্সবাজার অঞ্চল থেকে একজন প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়া বার বার অবহেলিত রয়ে গেছে। আসন্ন সরকারের মন্ত্রীসভায় এবার অন্তত একজন পূর্ণমন্ত্রী কক্সবাজার থেকে অন্তর্ভূক্ত করে সরকারের প্রস্তাবিত হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গুলো সুন্দর ও সুচারুরুপে বাস্তবায়ন করা হোক। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিবেচনায় রাখবেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করি।

অপরদিকে ইতিমধ্যে কক্সবাজারে মন্ত্রীত্বের দাবীতে এবং সরকারের প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নসহ মহেশখালী- কুতুবদিয়া তথা কক্সবাজারের প্রয়োজনীয় কাংখিত উন্নয়নের দাবীতে ১৭ দফা দাবী সম্বলিত লিফলেট প্রকাশ করে মন্ত্রীপরিষদের ককসবাজারকে অন্তর্ভূক্ত করার দাবী জানিয়ে আসছেন, মহেশখালী উন্নয়ন পরিষদ নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

সংগঠনটির সভাপতি জে,এইচ,এম ইউনুচ বলেন, আসন্ন সরকারের মন্ত্রীসভায় দেশের পর্যটন নগরী খ্যাত ককসবাজারকে মেগাসিটি ঘোষণা করে ইতিমধ্যে সরকারের প্রস্তাবিত হাজার কোঠি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে কক্সবাজাওে মন্ত্রীত্ব দেয়া এখন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •