cbn  

সরওয়ার কামাল, মহেশখালী:

মহেশখালী উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। বিভিন্ন ইউনিয়নের পান বাজারে পানের দাম রেকর্ড পরিমান হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। সপ্তাহ ধরে পান বাজারে এই এলাকায় উৎপাদিত দেশজুড়ে বিখ্যাত মিষ্টি পানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষীরা খুশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক যুগ ধরে উপজেলার বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি ঢালু ও আবাদি কৃষি জমিতে পান চাষ করে আসছে  পান চাষীরা।

পাহাড়ী এলাকায় পান চাষ দুই/তিন বছর স্থায়ী হলেও কৃষি জমিতে পান চাষ টিকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাস। তবে কৃষি জমিতে পান চাষ অক্টোবর/ নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে তা মে মাসে শেষ হয়। আর পাহাড়ি এলাকায় পান চাষ যে কোন সময়ে করা যায় বলে শাপলাপুরের পান চাষি ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলিগের সভাপতি মাষ্টার ফজলুল কাসেম জানিয়েছেন। পানের বরজ থেকে পান তুলে  চাষীরা বিক্রি করছে। উপজেলার গোরকঘাটা, বড় মহেশখালী নতুন বাজার, হোয়ানক ইউনিয়নের টাইম বাজার, পানিরছড়া বাজার, কালারমারছড়া ইউনিয়নের কালারমারছড়া বাজার, জনতাবাজার ও শাপলাপুরে পানের বাজার বসে। সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শুক্রবার দুই দিন এসব পান বাজারের পান বিক্রি হচ্ছে।

১ জানুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে পানের হাট কালারমারছড়া চালিয়াতলী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পান বেচা-কেনা করতে দুই শতাধিক চাষী পান নিয়ে বাজারে এসেছে। আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পান ব্যবসায়ীরা চাষীদের কাছ থেকে পান কিনে নিচ্ছে। পরে এসব পান ট্রাক ভর্তি করে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়।

বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পান চাষী মাষ্টার কুতুব উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে বাজারে পানের মূল্যে ধস নামে। এ কারনে এ বছর পান চাষে লাভতো দূরের কথা লোকসান গুণতে হবে বলে মনে করেছিলাম। কিন্তু এই সপ্তাহ ধরে পান বাজারে পানের মূল্য এক ধাপে অনেক বেড়ে যায়। গত সপ্তাহে এক বিরা পানের দাম ছিল মাত্র ২০০ টাকা। এখন সেই পান বিক্রি হচ্ছে প্রতি বিরা আড়াই’শ থেকে তিন’শ টাকা পর্যন্ত। ফলে পানের মূল্যে বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষীরা অনেক লাভবান হবেন বলে জানান।

মহেশখালী উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাইছার উদ্দিন বলেন, বিগত সময়ের চেয়ে এখন পানের বাজারে পানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে পান চাষীরা। এতে ছোট বড় মিলে এক বিরা পান ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে তিন’শ টাকা পর্যন্ত পানের হাটে তা বিক্রি হচ্ছে। ফলে পান চাষীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •