আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলো অত্যাধুনিক মরনাস্ত্র সংগ্রহ করছে। চারটি রুট দিয়ে এসব অস্ত্র পাহাড়ে প্রবেশ করছে এবং ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি অস্ত্রের চালান পাহাড়ের আঞ্চলিক সন্ত্রাসীদের কাছে পৌছে দিয়েছে আন্তঃ রাষ্ট্রীয় অস্ত্র ব্যবসায়িদের একটি সিন্ডিকেট চক্র। বিভিন্ন স্থানে নজরদারি করে অবশেষে এই সিন্ডিকেট চক্রকে সনাক্ত করে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি ভারী মেশিনগান ও একটি সাবমেশিন গানসহ তিন অস্ত্র ব্যবসায়িকে আটক করেছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। আটককৃতরা হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের শীর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ী ও জনসংহতি সমিতির সাবেক সশস্ত্র গ্রুপ কমান্ডার বিশ্বজ্যোতি চাকমা ওরফে বাগানবাবু ওরফে কিংকর ওরফে সিদং (৫০) এবং তার অন্যতম সহযোগী বিনয় ত্রিপুরা ওরফে সঞ্জয় ওরফে বাখর (৪৩) ও উল্যা প্রু মার্মা (৪৭)। রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের বিগ্রেড জি-টু-আই মেজর তানভীর সালেহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, শহরের উপকন্ঠ বিলাইছড়িপাড়া নামক এলাকায় সেনা-পুলিশের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে এই তিন অস্ত্র ব্যবসায়িকে ভারী দুটি অস্ত্রসহ আটক করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।

যৌথবাহিনীর উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি ৭.৬২ মিঃমিঃ মেশিনগান ও একটি ৯ মিঃমিঃ সাব মেশিন কার্বাইন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থানরত আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ (মূল) ও জেএসএস (মূল) দল এর সশস্ত্র শাখাসমূহকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছিল বলে জানা যায়। অতি সম্প্রতি তারা ইউপিডিএফ (মূল) দলকে ০৬ টি একে-৪৭ সরবরাহ করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল যে, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এই চক্রটি কোন একটি আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র শাখাকে একটি বড় অস্ত্রের চালান সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছিল। গ্রেপ্তারকৃত বিশ্ব জ্যোতি চাকমা ওরফে কিঙ্কর অপর একটি মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী এবং আন্তঃ রাষ্ট্রীয় অস্ত্র ব্যবসা ও চোরাচালানি সিন্ডিকেটের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি। গ্রেফতারকৃত অস্ত্র সরবরাহকারীদের হাতে নাতে ধরার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল। এই অভিযান পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর এ রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।