শাহীন মাহমুদ রাসেল:
মহান বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সাগরকন্যা কক্সবাজার। নতুন করে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো।

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন এলাকাগুলোকে নানা রংয়ে সাজিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু সমুদ্র সৈকত নয় পর্যটকদের কোলাহল ছড়িয়ে পড়েছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামুর মনোমুগ্ধকর বৌদ্ধ বিহার, সোনাদিয়া, হিমছড়ি, দরিয়ানগরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে।

এবার পর্যটকদের জন্য আলাদা আনন্দ আর বিনোদন যোগ করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পুরোদমে পর্যটন মৌসুম চললেও জাতীয় নির্বাচন এবং ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা ও ছুটি না থাকায় এতদিন পর্যটক এসেছে মাত্র হাতেগোনা। কিন্তু মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে আর অনেকের পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে।

পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে শহরের তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে হোটেল-মোটেল, কটেজ, গেস্ট হাউসগুলো।

রবিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিপুল পর্যটকের আগমনে হোটেল-মোটেল জোন ও এর আশ-পাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকের চাপে সমুদ্র সৈকত ও হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্কে। নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় একজন অন্য জনের সাথে ঠিক মতো যোগাযোগ করতে পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ। এতকিছুর পরও পর্যটকদের যেন নানা অভিযোগের শেষ নেই।

তাদের অভিযোগ কলাতলি কেন্দ্রীক অধিকাংশ আবাসিক হোটেলে স্বাভাবিকের চেয়ে ভাড়া বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টেও একই অবস্থা।

ঢাকা দোহার থেকে আসা রবিউল আলম নামের এক ব্যবসায়ী পর্যটক অভিযোগ করে আপন কন্ঠকে বলেন, তিনি গত ২০ দিন আগে এসে কলাতলী কেন্দ্রীক যে হোটেলে ১৫০০ টাকা দিয়ে থেকেছেন এবার সেই রুমে তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ২৩’শ টাকা। একই ভাবে চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে আসা নাজিম উদ্দিন ও রোজিনা আক্তার নামের এক নব-দম্পতি জানান-পর্যটক আগমনকে কেন্দ্র করে গলাকাটা ব্যবসা চলছে খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে। দ্বিগুণ হারে আদায় করা হচ্ছে পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটকেরা আমাদের অতিথি। তাদের সেবা দিতে পারলেই আমাদের তৃপ্তি অনুভব করি। সেখানে পর্যটকদের জিম্মি করে দ্বিগুণ হারে ভাড়া নেয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে যদি কোন হোটেল কর্তৃপক্ষ নিয়ে থাকে তাহলে প্রমাণ পেলে সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।

কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মত। সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোতে যাতে পর্যটকেরা হয়রানি, ছিনতাইসহ কোন অসুবিধায় না পড়েন সেদিকে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের বিশেষ টিম কাজ করছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফকরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নানা পরিকল্পনা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকেরা নির্বিঘ্নেই যাতে পর্যটন স্পটগুলোতে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেই মাঠে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মহিউদ্দীন জানান, র‌্যাব সদস্যরা মাদক বিরোধী অভিযান, জঙ্গিবাদসহ নানা অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। তার পাশাপাশি সাগর কন্যা কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় সদা কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাব সদস্যরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •