এস. এম রুবেলঃ
শুরু থেকে নাটকীয়তার শেষ নেই। এক নাটক শেষ না হতেই অপর নাটকের স্ক্রিপ্ট চলে আসে। শেষমেশ নাটকটাও জনসম্মূখে প্রদর্শিত হয়। শুরুর দিকে মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে যুদ্ধ ছিল আওয়ামীলীগের দুই আলোচিত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনছারুল করিমের মধ্যে। শেষমেশ আশেক উল্লাহ রফিককে আওয়ামলীলীগ থেকে চুড়ান্ত মনোনয় দিলেও সরে দাড়ায়নি অপর আলোচিত আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী ড. আনছারুল করিম। গণফ্রন্ট থেকে মাছ প্রতিক নিয়ে ড. আনছারুল করিম তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। তার সাথে যারা কাছ করছেন সবাই আওয়ামীলীগের এক অংশের নেতাকর্মী।
অপরদিকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন যুদ্ধে লিপ্ত ছিল বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ও জামাতের সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ। ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতিকে হামিদুর রহমান আজাদকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ধানের শীষ প্রতিকের পরিবর্তে “আপেল” প্রতিক পান। আপেল প্রতিক নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট থেকে তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী থাকলেও “ধানের শীষ” প্রতিক না থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছিল। উপজেলা বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, এবার আদালতের রায়ে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন সাবেক এমপি আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। ইতোমধ্যে ধানের শীষ প্রতিক সম্বলিত তার পোষ্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়েছে। প্রতিক পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্যভাব চলে এসেছে।
অনেকে মনে করেছিল নির্বাচনটা সহজ হবে। তবে আলমগীর ফরিদের ধানেরশীষ প্রতিক কঠিন সমীরকণ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে হাজির হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছে। মহেশখালী উপজেলায় ৩জন আলোচিত প্রার্থী আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিক (আওয়ামীলীগ), ড. আনছারুল করিম (গণফ্রন্ট, আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল), আলমগীর ফরিদ (বিএনপি)। অপরদিকে কুতুবদিয়া উপজেলা থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের মনোনিত হামিদুর রহমান আজাদ। এখন দেখার পালা শেষমেশ ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহেশখালী-কুতুবদিয়াবাসী আর কত চমক দেখবে…?
এই আসনে আওয়ামীলীগের এককপ্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক হলেও গণফ্রন্টের প্রার্থী ড. আনছারুল করিম আওয়ামীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে পূর্বে নির্বাচন করেছিল এবং তিনিও আওয়ামীলীগের। আর এদিকে বিএনপি থেকে নতুনচমক নিয়ে আলমগীর ফরিদ এককপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বলে জানা গেছে। সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয় পেলেও তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী (নিবন্ধন বাতিলকৃত) এর কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। এদিকে আওয়ামীলীগের এককপ্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক ও বিএনপির একক প্রার্থী আলমগীর ফরিদ সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হওয়ায় এবং আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গণফ্রন্টের ড. আনছারুল করিম নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকায় নির্বাচনী সমীকরণ জঠিল ও কঠিন হতে পারে বলে সাধারণ ভোটাররা মন্তব্য করছেন। এখন দেখার পালা ৪জন আলোচিত প্রার্থীর মধ্যে কে হবে কক্সবাজার-২ আসনের জনগণের অভিভাবক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •