মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার-২ আসনে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদকে প্রার্থীতা ফিরিয়ে দিতে ও ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে গত ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি জে.বি.এম হাসান ও বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলমের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের ফুলবেন্ঞ্চ। ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপীল বিভাগের ফুলবেন্ঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের দায়েরকরা ১২৫৩/২০১৮ নং সিএমপি আপীলটি শুনানী শেষে আপীল বিভাগ এ আদেশ দেন। আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদের আইনজীবী এডভোকেট ফারুক ইকবাল বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চত করেছেন। আদালত একইসাথে এ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপক্ষের দায়েরকৃত আপীলটি খারিজ করে দিয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের দায়েকরা হাইকোর্টের ১৫৯৭৯/২০১৮ নং রীট পটিশনের আদেশ বহাল রাখায় আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ প্রার্থীতা ফিরে পেতে ও ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেতে আইনগত আর কোন বাঁধা থাকলনা। আপীল বিভাগের কার্যতালিকায় মঙ্গলবার মামলাটি ৩নং ক্রমিকে ছিল। আপীল বিভাগে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের পক্ষে মামলাটি শুনানী করেন-সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট এ.জে.মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার ফিদা এম.কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন-এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম। আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদ বিএনপি’র প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর কক্সবাজারের রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কক্সবাজার-২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের মধ্যে আলমগীর মুহাম্মদ মাফুজ উল্লাহ ফরিদ একমাত্র প্রার্থী-যিনি বিএনপি’র প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্ত হয়ে বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। কিন্তু ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিনে বিএনপি’র মহাসচিব স্বাক্ষরিত চুড়ান্ত মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল নাকরায় রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়নপত্রটি ‘সীজ’ করে ফেলেন। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র সীজ করে দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট এই রীটের শুনানী শেষে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদ বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনে একমাত্র নমিনিশেন দাখিলকারী হওয়ায় তাঁর জন্য বিএনপি’র পক্ষ থেকে আর চুড়ান্ত মনেনয়ন প্রদান প্রয়োজন নেই বলে আদেশ দেন। হাইকোর্ট একই আদেশে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদের ‘সীজ’ করা প্রার্থীতা ফেরত দিতে ও তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনকে রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেয়ার আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রীমকোর্টের চেম্বাররজজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে ১৭ ডিসেম্বর আপীল দায়ের করলে চেম্বারজজ সেটি শুনানীর জন্য সুপ্রীমকোর্টের ফুল বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের ফুল বেন্ঞ্চ মঙ্গলবার সকালে আপীলটির শুনানী শেষে ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের প্রদত্ত আদেশ বহাল রাখেন। আপীল বিভাগের মঙ্গলবারের এই আদেশের কারণে আলমগীর মুহাম্মদ উল্লাহ্ ফরিদের প্রার্থীতা ফিরে পেতে ও ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেতে আর কোন বাঁধা থাকলনা।
অন্যদিকে, একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নমিনেশন দাখিলকারী ২৩ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আযাদকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চুড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দপত্র রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা প্রাদান করেন। কিন্তু এ.এইচ.এম হামিদুর আযাদ স্বতন্ত্র নমিনেশনপত্র দাখিলকারী প্রার্থী হওয়ায় রিটার্নিং অফিসার তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক নাদিয়ে স্বতন্ত্র প্রতীক ‘আপেল’ বরাদ্দ দেন। কারাবন্দী এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আযাদকে ধানের শীষ প্রতীকের পরিবর্তে আপেল প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার রিটার্নিং অফিসারের এই আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন, হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে পর পর আপীল দায়ের করা হয়। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে তাঁকে কক্সবাজারের রিটার্নিং অফিসার স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক আপেল বরাদ্দ দেয়ার আদেশটি সকল আপীল আদালত বহাল রাখেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •