মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল ও স্বল্প শিক্ষিতের দেশে নির্বাচনী ইশতেহার ভোটের রাজনীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। শুধু ২০০৮ সালে তখনকার আওয়ামী লীগের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার ইস্যু তখনকার শিক্ষিত তরুণ সমাজে সাড়া ফেলেছিল যার প্রভাব নির্বাচনে পড়েছে তখন।

এবারের প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন ও দুর্নীতির পরিপূরকতা, বেকারত্ব, বাক স্বাধীনতা সহ বেশ কিছু জাতীয় ইস্যু তরুণেদের ভাবনায় আছে। সুষ্ঠু ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে এসব ইস্যু ও জোটসমূহের ইশতিহারে পরিকল্পনা কেমন – তা তারা বিশ্লেষণ করবেই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতিহারের দিকে আজ তাকিয়ে ছিল অনেকেই। অংগীকার গুলি পড়ে বেশ কিছু ইতিবাচকতা পাবে নতুন প্রজন্ম। যেমন- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, ৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালুর জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে কমিশন গঠন, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু বিবিধ।

তারুণ্যের ইশতিহার ভাবনা ২০১৮ থেকে অনেক মৌলিক পয়েন্ট সংযুক্ত হয়েছে এই ইশতিহারে। এতদসত্ত্বে, নিম্নোক্ত কিছু অংগীকারে চিন্তার (!) খোরাক আছে যা থেকে তরুণরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেঃ

· সঠিক কক্ষপথে নতুন স্যাটেলাইট প্রেরণ করা হবে।

· তরুণদের সরকারি উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করা হবে।

· পিএসসি ও জিএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

· হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলাকে ফৌজদারি মামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

· পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূনর্মূল্যায়ন করা হবে।

· প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

· বর্তমান চলমান কোন প্রকল্প বন্ধ করা হবেনা।

· যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে।

· চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ এর যে সকল প্রকল্পে দেশের জন্য লাভজনক বিবেচিত হবে সেগুলোতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে।

· সরকারি পদক্ষেপ এবং পদধারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা, এমনকি ব্যংগ-বিদ্রুপেরও অধিকার থাকবে। এসব ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হলে মানহানির মামলা তার নিজেকেই করতে হবে (অন্য কেউ করতে পারবেনা ) এবং এই ধরণের মামলা কোনভাবেই ফৌজদারি মামলা হবেনা।

· পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী ব্যতীত চাকুরীতে প্রবেশের বয়স সীমা থাকবেনা।

কক্সবাজার তথা উপকূলীয় অঞ্চলের সঙ্গে নিম্নোক্ত অঙ্গীকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

· সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে।

· সংখ্যালঘুদের ওপর যে কোনো রকম হামলার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।

· বঙ্গোপসাগরে নতুন ভূমি উদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পুশ ব্যাক করা নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু না থাকা চীনে’র সুস্পষ্ট সহানুভুতি পাওয়া কিংবা সার্বভৌমত্ব নিয়ে ‘মানিয়ে চলা’ মনে হতে পারে। চাকূরীতে প্রবেশের কোন বয়সসীমা না থাকা- ভাবনাটি নেতিবাচক মনে হবে অনেকের কাছে। তাছাড়া পররাষ্ট্রক্ষেত্রে, রফতানি কৌশল না থাকা, পাশ্চাত্যের সঙ্গে সম্পোর্কন্নয়নে স্পষ্টতা না থাকা কিছটা হতাশা জাগাতে পারে।

সব ইশতিহারে’ই সুন্দর স্বপ্ন লিখিত থাকে। সময়ই বলে দিবে ঐক্যফ্রন্টের ঐক্যমতের এই ইশতিহারের যথার্থতা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •