|| মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী ||

মহাজোটের নির্বাচনী প্রচারনায় চলচ্চিত্র, নাটক, যাত্রা, কন্ঠশিল্পী, কমেডিয়ান সহ বিনোদন জগতের একঝাঁক তারকাদের যুক্ত করা হয়েছে। তারকারা মহাজোটের প্রার্থীদের নৌকা প্রতীকের জন্য নেচে-গেয়ে-বক্তৃতা দিয়ে-অভিনয় করে দেশের সর্বত্র ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন।
এ বিষয়টাকে সাধারণ ভোটারেরা কিভাবে নিচ্ছেন? মহাজোটের প্রচারনায় সম্পৃক্ত বিনোদন জগতের তারকারা নিজেরা প্রার্থীও নন। সংসদীয় এলাকার যেকোন একটি ছাড়া ২৯৯ সংসদীয় আসনের ভোটারও নন। আবার তাঁরা জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাও নন। তারা তো স্ব স্ব মহিমায় পরিচিত ও নিজ গুনে সমাদৃত। সাধারণ লোকজন ছাড়াও সব রাজনৈতিক দলে নিঃসন্দেহে তাঁদের ভক্ত অনুসারীরা রয়েছেন। তাহলে কেন তাঁরা একটি বিশেষ রাজনৈতিক জোটের সরাসরি পক্ষ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা চালাবেন? মহাজোট বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারীরা এ বিষয়ে যোক্তিক প্রশ্ন তুলছেন-একের পর এক। তাদের অন্যতম একটি যুক্তি হলো-তারকারা তাদের স্ব স্ব প্রাঙ্গণেই সবসময় সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। তাদেরকে সেখানেই বেশী মানায় বলে-তাঁদের কর্মগুনে ও আমাদের সমর্থনে তাঁরা স্টার হতে পেরেছেন। কেন তারকারা তাদের স্ব অঙ্গনের বাইরে গিয়ে একটি রাজনৈতিক জোটের ব্যানারের নীচে গেলেন? তারকারা যদি নিজেরা সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী হতেন-তাহলে অন্য কথা বলা যেতো। বাংলাদেশের কলুষিত(!) রাজনীতিতে তারকাদের একতরফা এভাবে একটি রাজনৈতিক জোটের পক্ষে সম্পৃক্ত হওয়া একেবারে মানায়নি।
তাছাড়া, বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগেরও বেশী মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তাই ইসলাম ধর্মের সকল বিধিবিধান পালন করুক আর নাই করুক-ইসলাম ধর্মের প্রত্যেক অনুসারীরাই ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয়টা মনেপ্রাণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশের সিনেমা, নাটক, যাত্রা, সংগীত, নাচ ইত্যাদি এদেশের সংস্কৃতি ও সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসবের কিছু কিছু বিষয় ইসলাম পুরোপুরি অনুমোদন করেনা। বরং ইসলামের সাথে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক বলে অভিজ্ঞ আলেম ওলামাদের অভিমত। তারপরও সুস্থ ও গঠনমূলক বিনোদনের খাতিরে আমি এসবের বিপক্ষে নই। সাধারণত যেকোন নির্বাচনে প্রার্থী ও প্রার্থীর সংগঠন তাদের ইতিবাচক কর্মকান্ড গুলো ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে চায়। যে দেশে শতকরা ৮৫ ভাগেরও বেশী মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী-সেদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে ইসলামের সাথে সামন্যতম হলেও সাংঘর্ষিক কাজের সাথে জড়িত বিনোদন জগতের পেশাদারদের হায়ার করে এনে তাদেরকে দিয়ে কেন নির্বাচনী প্রচারনা চালানো হচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন ভোটারদের মুখে মুখে। ফুটপাতে গান-বাজনা বাজিয়ে, কৌতুক ও যাদু দেখিয়ে-মানুষ জমানোর পর ক্যাম্পাসারেরা অননুমোদিত ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির জন্য যে পন্থা অবলম্বন করে থাকে-তারকাদের দিয়ে মহাজোটের ভোট চাওয়ানোর বিষয়টাও অনেকটা সেরকমই বলে-রসালো মন্তব্য করেছেন অনেক রসিকজন। অর্থাৎ বিনোদন জগতের তারকাদের হায়ার করে এনে তাদের দিয়ে মানুষ জমানো যাবে-কিন্তু ভোটারদের মন জয় করে-ভোট আদায় করা খুব কঠিন হবে। আসলে সেই বিখ্যাত প্রবাদ বাক্য “বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃকোলে”-বিনোদন জগতের তারকাদের এই নীতি অবলম্বন করাই তাদের জন্য শ্রেয় হতো। কারণ তাদের জগতটাতো শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক জোটের নয়। কম বেশী এদেশের বিনোদন প্রিয় সকল মানুষের। তাই তারকারা বিনোদন জগতের নিজস্ব আঙ্গিনা ছেড়ে সরাসরি একটি রাজনৈতিক জোটের পক্ষ হয়ো কুসুমাস্তীর্ণ নির্বাচনী মাঠে নামা কোন যুক্তিতেই প্রার্থী-সংগঠন-তারকা কারো জন্যই নিঃসন্দেহে ভাল ফল বয়ে আনবেনা।

(লেখক: এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট, ঢাকা।)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •