সিরাজী এম আর মোস্তাক, ঢাকাঃ আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাতে পাকবাহিনীর পরিবর্তে শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদেরই ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী প্রমাণ করেছেন। এ ট্রাইব্যুনাল শুধু নামেই আন্তর্জাতিক, বাস্তবে বিপরীত। ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক হলেও, তাতে বিচারক ও অপরাধী সবাই বাংলাদেশি। বাংলাদেশের বিচারকগণ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বসেও পাকবাহিনীর পরিবর্তে শুধু নিজের দেশের নাগরিকদেরই অপরাধী সাব্যস্ত করেছেন। এতে সুস্পষ্ট হয়েছে, ১৯৭১ এর সকল অপরাধ বাংলাদেশীরাই করেছে। পাকবাহিনী অপরাধী নয়। বাংলাদেশীরাই ৩০লাখ শহীদের ঘাতক। বর্তমান প্রজন্ম তাদেরই সন্তান। এভাবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে কলঙ্কিত হয়েছে। আওয়ামীলীগ পুনরায় সরকার গঠন করলে, এ কলঙ্ক আরো বাড়বে। এ কলঙ্ক থেকে মুক্তির একমাত্র মাধ্যম, একাদশ নির্বাচন। এবিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন ও দুর্বার হতে হবে। দেশে কলঙ্ক আমদানিকারকদের তাড়িয়ে, কলঙ্ক মোচনকারীদের বিজয়ী করতে হবে। মনে রাখতে হবে- এবারের নির্বাচন কলঙ্ক মুক্তির নির্বাচন, এবারের নির্বাচন হারানো গৌরব ফেরানোর নির্বাচন।

বাংলাদেশে ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী অপরাধী প্রভূতি ঘৃণিত শব্দাবলী মোটেও প্রযোজ্য নয়। ১৯৭১ সালে এদেশের জনগণ সুদক্ষ ও সুসজ্জিত পাক হানাদার বাহিনীর কাছে ছিলেন জিম্মি ও অসহায়। তখন সকল অপরাধ করেছে, পাক হানাদাররাই। তাদের অপরাধের দায় যুদ্ধকালে দেশে অব¯’ানকারী অসহায় নাগরিকদের ওপর চাপানো অন্যায়। তখন দেশের অসহায় নাগরিকগণ আত্মরক্ষার স্বার্থেই পাক হানাদারদের সাথে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা যুদ্ধকালে ভারতে পলায়নকারী, সেখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ও ভারতের লালবইতে তালিকাভুক্তদের চেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ছিল। তারা নিজেরা আত্মরক্ষা করেছেন এবং দেশবাসীকেও পাক হানাদারদের থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে, বঙ্গবন্ধু জামাতা ও প্রধানমন্ত্রীর স্বামী প্রয়াত ড. ওয়াজেদ মিয়া যুদ্ধকালে পরমাণু কমিশনে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া ময়মনসিংহের মহকুমা প্রশাসক জনাব ম খা আলমগীরসহ বহু নাগরিক পাক সরকারের বেতনভুক্ত ছিলেন। তারা যুদ্ধকালে দেশেই ছিলেন। তারা মোটেও ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী নন। তারা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাদেরই ৩০লাখ বীর মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ তারা প্রচলিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বঞ্চিত এবং তাদের সন্তান-সন্ততি মুক্তিযোদ্ধা কোটাবঞ্চিত হয়েছেন। আওয়ামীলীগ পাক হানাদারদের পরিবর্তে এদেশের বীরদের ঘাতক ও অপরাধী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে কলঙ্কিত করেছেন। এর চেয়ে কলঙ্ক ও লাš’ণা, আর হয়না।

এ কলঙ্ক মোচনে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ধারণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ হল, ১৯৭১ সালে বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালির দুর্বার লড়াই ও তাদের ৩০লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা। এ সাড়ে সাত কোটি বীর বাঙ্গালি ও শহীদ সবাই মুক্তিযোদ্ধা। তারাই যুদ্ধ করেছেন, সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, গোপন তথ্য সরবরাহ করে গোয়েন্দার ভূমিকা পালন করেছেন এবং ৩০লাখ প্রাণের বিনিময়ে বিজয় এনেছেন। এ বীরগণ কেউ অমুক্তিযোদ্ধা নন। যুদ্ধের কঠিন সময়ে যে ভূমিকাই পালন করুক, তারা মুক্তিযোদ্ধা। তারা যুদ্ধকালে ভারতে পলায়নকারীদের চেয়ে অগ্রগামী যোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, ৩০লাখ শহীদ, যুদ্ধকালে দেশে অব¯’ানকারী, ভারতে পলায়নকারী, মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত-তালিকাবহির্ভূত নির্বিশেষে সবাই মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে সকল অপরাধ করেছে, পাক হানাদাররা। তাদের অপরাধের দায় এদেশের নাগরিকের ওপর বর্তায় না। আওয়ামীলীগ তথাকথিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে পাকবাহিনীর অপরাধের দায় এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর চাপিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে কলঙ্কিত করেছে।

এ কলঙ্ক থেকে মুক্তির একমাত্র মাধ্যম, একাদশ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কাজে লাগাতে হবে। দেশকে মুক্ত করতে হবে, কলঙ্ক আমদানিকারকদের ছোবল হবে। তবেই জাতি মুক্ত হবে- সকল বিভাজন, কোটাবৈষম্য ও কলঙ্ক থেকে। বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত হবে- বাংলাদেশে ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও তাদের প্রজন্ম নেই; এদেশের সবাই মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ প্রজন্ম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •