মুহাম্মদ হোসাইনঃ

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ এম ভি ফারহান ক্রুজে সীটে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের হাতাহাতিতে ৮ জন পর্যটক আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী দৈনিক আমাদের কন্ঠের সাংবাদিক আবু সাদাত জানায় ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৯ টায় টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে জাহাজ ছাড়ার আগে পর্যটকরা স্ব স্ব টিকেট নিয়ে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ঢাকার উত্তরা থেকে আসা পর্যটক নাজিম উদ্দিন ও লন্ডন প্রবাসী সিলেট সদরের জালাল সিদ্দিকি ও তাঁর আত্মীয়দের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং এতে উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়।

তিনি আরো বলেন, তাদের হাতাহাতি এক পর্যায়ে পুরো জাহাজে অবস্থানরত পর্যটকদের মাঝে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করে।

পরে অন্যান্য লোকজন এসে তাদের উভয় পক্ষের লোকজনকে শান্ত করতে সক্ষম হয়।

ঢাকার উত্তরা থেকে আগত পর্যটক নাজিম উদ্দিন বলেন আমরা প্রায় ১৬ জন মিলে পরিবারের লোকজন সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে যাচ্ছি এম ভি ফারহান ক্রুজে তবে সকাল ৮.৩০ টায় আমরা মেইন ডেকের সামনে সারিতে বসা অবস্থায় কিছুলোক আমাদের লোকজনের পাশে ঠেলাঠেলি করতে দেখে তাদের সাইড দিতে বললে আমার স্ত্রী ও বাচ্চাদেরসহ সবার উপর ক্ষেপে উঠে যা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে চলে যায় এতে দুই পক্ষের লোকজনই সামান্য আহত হয় যার মধ্যে আমি সহ আমাদের সাথে আসা মেহেদী ও সাব্বির নামের দুইজন রয়েছে।

অন্যদিকে লন্ডন প্রবাসী সিলেট সদর থেকে আসা পর্যটক জালাল সিদ্দিকি বলেন, আমরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য এম ভি ফারহান ক্রুজে টিকেট নিয়ে জাহাজে উঠার পর কিছু যুবক সীটে বসা নিয়ে জোর-জবরদস্তি করেন পরে জানলাম তার নাম নাজিম উদ্দিন।

লোকটি ও তার সাথে থাকা ব্যক্তিরা এতো লোকসমাগমের ভীড়ে চলাচলের জন্য একটু জায়গা দিতে বললে আমাদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করায় একটু বাড়াবাড়ি হয় পরে তারা সবাই মিলে আমাদেরকে লাথি ঘুষি মারাতে আমাদের শিশুসহ প্রায় ৫ জন লোক খুব আহত হয়েছে। আহতরা হলেন সেনাই (১৪), জাকিয়া (১৪), আনিছা (৬), নুরুল (৪১), রিজওয়ান (২০)।

তারা বলেন আমরা বাংলাদেশে এসেছি একটু ঘুরার জন্য তাতে এতো নিরাপত্তাহীনতায় পড়বো ভাবতে পারিনি।

সাথে কয়েকজন লন্ডনের লোকও ছিল এসব ঘটনার কারণে আমরা খুব বিব্রত হচ্ছি।
আহত নুরুল অভিযোগ করে বলেন জাহাজের মধ্যে এতোবড় হাতাহাতি হয়ে গেলো ট্যুরিস্ট পুলিশের কাউকে পেলাম না।

আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার বিচার দাবি করছি। যেন এদেশের পর্যটন অঞ্চলে ভ্রমণ করতে আসলে কোনরকম হয়রানি ও অবহেলার শিকার না হয়।

তিনি আরো বলেন তাদের মারধরের কারণে আমার নাক ও পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে এমনকি বাচ্চা দুইটার কোমরে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে।

আর এসব জাহাজে সীটের চেয়ে লোকসংখ্যা বেশী নেওয়াতে সীট না পেয়ে দাড়িয়ে সেন্টমার্টিন যেতে হচ্ছে।

বিষয়টি জানতে এম ভি ফারহান ক্রুজের পরিচালক তোফাইল আহমদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর সংযোগ পাওয়া যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •