সিবিএন ডেস্ক:
গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তারা বলেছেন, এই হামলা পরিকল্পিত। ড. কামাল হোসেনকে আঘাত করতেই করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আব্দুর রব।

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে পল্টনে ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নেতারা ব্রিফ করেন। এদিন সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান গেটে ড. কামাল হোসেনের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে এবং তার প্রেক্ষিতেই ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক ও মর্মান্তিক উল্লেখ করে ঐক্যফ্রন্টের নেতা আসম আব্দুর রব বলেন, আমাদের গাড়ি বহরটি যখন বের হচ্ছিল তখন প্রথমে ফাঁকা ফায়ার করা হয়, হকিস্টিক দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমার ড্রাইভার সাহস করে গাড়ি চালায়, এতে আমি বেঁচে যাই। নেতা-কর্মীদের সবাইকে ইট দিয়ে মাথায় থেতলে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

রব বলেন, সারাদেশে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর এমন নির্যাতন করা হচ্ছে। আর এখন ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। আজকের হামলার সময় সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য ছিল না। হামলার পর যখন আমরা থানায় যেতে চাই, তখন শুনি সন্ত্রাসীরা থানা ঘিরে রেখেছে। আর থানায় গেলে উল্টো অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। এ কারণেই থানায় যাইনি।

তিনি বলেন, গতকাল ও উত্তরায় একটি প্রচারণা অনুষ্ঠানে মোনাজাতরত অবস্থায় আমাদের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। গত কয়েকদিনে ৫-৬ জন ধানের শীষের প্রার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমরা এখনো কর্মীদের এসব হামলা প্রতিরোধের নির্দেশ দিচ্ছি না।

আমরা ৩০ তারিখে ব্যালটের লড়াই করতে চাই। আমরা মরব কিন্তু সরব না। আমাদের একটাই কথা আমরা নির্বাচন করতে চাই। যোগ করেন এই নেতা।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার এখন বুঝতে পারছে, তারা আর কোনভাবেই ক্ষমতায় থাকতে পারবে না, তাই এ ধরনের আচরণ করছে। সবকিছু দেখেও নির্বাচন কমিশন কিছু বলছে না। কমিশন সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে ও সরকারের পকেটে থেকে কাজ করছে। আমি সিইসিকে বলতে চাই মন্ত্রী-এমপি যারা প্রটোকল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের সব প্রটোকল বন্ধ করুন।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে মান্না বলেন, জনগণ ৩০ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে আপনাদের জবাব দেবে। ৩০ তারিখ আমরাও সমস্ত অত্যাচারের জবাব দেব।

গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, বাংলাদেশের ড. কামালের মতো একজন লোকের ওপর হামলা হতে পারে, তা আমার মাথায় ছিল না। শুধু ঢাকায় নয় আমার নির্বাচনী এলাকায় (হবিগঞ্জ) যারাই আমার সঙ্গে কাজ করছে তাদের গ্রেফতার- হয়রানি করা হচ্ছে। আমার এক কর্মীকে বাসায় না পেয়ে পুলিশ তার দুই সন্তানকে ধরে নিয়ে গেছে যাদের একজনের বয়স ১৮ ও আরেকজন ১৬ বছরের।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, আজ ধোলাইখালে সাদেক হোসেন খোকা মাঠে একটি নির্বাচনী সভা করার কথা ছিল আমাদের। কিন্তু সেখানে আগেভাগেই পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে। সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা ঘুরছে। তাই আমরা যাব না, তারা আমাদের ওপর হামলা করবে, সেখান থেকে গ্রেফতার করে নেতা-কর্মীদের মামলাও দেয়া হতে পারে। এ কারণে সভা স্থগিত করেছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা ভেবেছিলাম সরকারের রাগ বিএনপির ওপর। কিন্তু এখন দেখছি সরকারের রাগ সবার ওপরই। তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতা না ছাড়ার জন্য এই হামলা চালিয়েছে। ক্ষমতায় থেকে তারা একের পর এক খুন, দুর্নীতি-অনাচার করেছে বলে তারা ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। হামলা ঘটছে প্রতিনিয়ত, অথচ নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলা ঘটনায় সিইসি নরম সুরে বললেন, তিনি নাকি বিব্রত! আপনি (সিইসি) কি মসজিদের ইমাম নাকি, যে বিব্রত হবেন? দ্রুত ব্যবস্থা নেন, তা না হলে আপনার উচিত হবে ব্যর্থতার দায়িত্ব মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করা। মনে রাখবেন আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন, সরকারের বেতনভুক্ত হিসেবে নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •