|| মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী ||

গাড়ির বহরে হামলা, পথসভায় হামলা, স্মৃতিসৌধে আগতদের হামলা, প্রার্থীর উপর হামলা, নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, বাড়িঘরে হামলা, ভোটারদের উপর হামলা-শুধু হামলা আর হামলা। হামলার নিউজেই গণমাধ্যম পূর্ণ। হামলাতে রক্তাক্ত পুরো বংলাদেশ। যেখানে পুরো দেশে ভোট উৎসব হওয়ার কথা ছিল-সেখানে ‘হামলা’ই যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারের ৩টি সংসদীয় আসন সহ সারাদেশে অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ডঃ কামাল হোসেন, আ.স.ম আবদুর রব সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িতে হামলা হয়েছে। কক্সবাজার-১ আসনে হামলা করে চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নাসির উদ্দিন হায়দার সহ ২০/২৫ জন ২৩ দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের আহত করা হয়েছে। এঘটনা অবহিত করতে কক্সবাজার-১ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এডভোকেট হাসিনা আহমেদ চকরিয়া থানায় গেলে সেখানে হাসিনা আহমেদ থানার ভিতরে থাকাবস্থায় থানা বাহিরে সন্ত্রাসীরা গুলাগুলি করে হাসিনা আহমেদকে থানার ভিতর দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। কক্সবাজার-৩ আসনে রামু উপজেলার মিঠাছড়ী ইউনিয়নে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস ভিট্টো তার বাহিনী কর্তৃক হামলা করে রামু উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আনসার উদ্দিনকে, ফতখাঁরকুলে হামলা করে রামু উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমদ চৌধুরী মাহিন সহ আরো বেশ কটি হামলায় ৪০/৪৫ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজার-৪ আসনেও ইতিমধ্যে বেশক’টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে টেকনাফ বিএনপি নেতা আবুল হাসেম মেম্বার, সুলতান আহমদ বিএ সহ আরো ক’জনকে। এসব ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানা মামলা নানিয়ে উল্টো আহতদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা নিচ্ছে বলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন। এককথায়- প্রতিটি মুহুর্ত হামলার শিকার হচ্ছে-বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২৩ দলীয় ঐক্যজোট, ইসলামী আন্দোলন সহ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নেতাকর্মী-সমর্থক-ভক্ত-অনুসারীরা। পুলিশ নিজেই এসব হামলায় হামলাকারীদের কৌশলে সহয়তা অথবা নীরব ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহে ক্রমাগত হামলায় পুরো বাংলাদেশ আজ রক্তাক্ত, ক্ষত বিক্ষত। যেন-দেশের সর্বত্র হামলার একটা মহোৎসব চলছে। সংগঠিত ঘটনার ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফলোদয় হয়নি বলে ভুক্তভোগী প্রার্থীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। মহাজোট সমর্থক প্রার্থীদের পক্ষে দেশব্যাপী এধরনের সন্ত্রাসী হামলায় স্বাভাবিকভাবেই ৩ টি প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে। প্রথমটি হলো-এভাবে বিরোধী পক্ষের উপর হামলা-মামলা করে বিএনপি-২৩ দলীয় ঐক্যজোট-জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচন বয়কট করতে বাধ্য করা। কিন্তু এসব জোট ও দল ইতিমধ্যে বলে দিয়েছে-তারা আন্দোলনের অংশ হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং যেকোন পরিস্থিতিতে তারা নির্বাচন বয়কট করবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো-এভাবে ক্রমাগত হামলা-মামলা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নেতাকর্মী, সমর্থকদের এলাকাছাড়া করে ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। যাতে ভোটের দিন আতঙ্কিত ভোটারেরা ভোট কেন্দ্রে নাগেলে অনায়াসে ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতি করে নেয়া যাবে। তৃতীয়টি হলো-যেনতেন করে সারাদেশে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে দিয়ে- এমন ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে পরিবেশ-পরিস্থিতির দোহায় দিয়ে ভোট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়। আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের পক্ষে বিরোধীদের উপর হামলা-দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিয়ে সংগঠিত ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় উল্লেখ করে বিব্রত ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘটনায় পুলিশের নির্লজ্জ ভূমিকা, ভয়াবহতায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ বলেছেন-ভোট এখন মহাজোট কিংবা আওয়ামীলীগের সাথে হচ্ছেনা, এখন ভোট হচ্ছে-জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২৩ দলীয় জোট, বিএনপি বনাম পুলিশের সাথে। পুলিশের এধরনের দলবাজ ভূমিকায় সাধারণ ভোটারেরা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় রয়েছে। স্বাধীন একটি দেশে সুষ্ঠু পরিবেশে নাগরিকেরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুকূল পরিবেশ পাবেনা, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও নাগরিকেরা নিজস্ব মতামত দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেনা-এসবের দায়দায়িত্ব কে নেবে? নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সিইসি’র বক্তব্য, গত এক সাপ্তাহের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে-পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্বাচন কমিশনের কোন ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্ত এভাবে ক্রমাগত পরিস্থিতির অবনতি হলে-নির্বাচন আসতে আসতে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারবে কিনা-তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।তাই নির্বাচন কমিশন এবিষয়টা এখনই গুরুত্ব সহকারে না নিলে হয়ত পরিস্থিতির ভয়াবহতায় মানুষ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আরো আস্থা হারিয়ে ফেলাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •