সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
‘জাতীয় অভিযোজন এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য অধিকার ভিত্তিক সুরক্ষা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তাগণ, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সুরক্ষায় নাগরিক সমাজ তাদের টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন করার উদ্দেশ্যে সরকারের কাছে জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। তারা আরও দাবী করেন যে, জলবায়ু তাড়িত বাস্তুচ্যুতদের জন্য সরকারের জাতীয় বাজেটে অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে কোস্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সভাকক্ষে উক্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

কোস্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খুরুশকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মাস্টার। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ তারিকুর রহমান। কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মকবুল আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের সিজেআরএফ প্রকল্পের পার্টনারশিপ এন্ড এ্যডভোকেসী সমন্বয়কারী মোঃ সালেহীন সরফরাজ। এতে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলেনাজ তাহেরা, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হেল্প এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবুল কাশেম, হলি চাইল্ড স্কুলের শিক্ষক রোকসানা পারভিন শিপু, এন টিভির জেলা প্রতিনিধি ইকরাম চৌধুরী টিপু, সকালের কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, জেলা জলবায়ু ফোরামের সদস্য মোঃ ইলিয়াস মিয়া, এনজিও কর্মকর্তা নুরুল আমিন সিদ্দীকি, কামাল উদ্দিন রহমান পেয়ারু প্রমুখ।সেমিনারে বাস্তুহারা সহ বিভিন্ন শেণী পেশার মানুষ ও সংবাদ কর্মীরা অংশগ্রহন করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বাস্তুচুুতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেণ। বিষয়গুলো নিয়ে তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন- জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য জাতীয় নীতিমালা গঠন করা, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের টেকসই এবং মর্যাদপূর্ণ পুনর্বাসন করা, তাদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে সরকারকে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় অভিযোজন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অর্থায়ন-কেন্দ্রিক উন্নয়ন বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, বিপন্ন দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় লস অ্যান্ড ডেমেজ বা ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কাঠামো তৈরি করা।

প্রধান অতিথি মোঃ আব্দুল হাকিম জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজনের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন কর্মসুচির কথা তুলে ধরেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।

কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মকবুল আহমেদ জলাবায়ু পরিবর্তনের কারনে উপকূলীয় এলাকায় পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় ডি স্যালাইনেশন প্লান্ট স্থাপনের গুরুত্বের কথা বলেন। তার মতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সুশীল সমাজ, সরকার এবং সাধারণ জনগণকে আরো গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিৎ। হেলেনাজ তাহেরা জলবায়ুর পরিবর্তনকে রক্ষার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান। এজন্য তিনি বৃক্ষ রোপণকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেন। তছাড়া তিনি প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার কথা বলেন।

মোঃ আবুল কাশেম জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জনগণের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেমিনারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। মিজানুর রহমান বাহাদুর জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সহায়তা করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মোঃ ইলিয়াস মিয়া জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন এবং তিনি এই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা ভিত্তিক টেকসই নীতি নির্ধারণের কথা বলেন। সাধারণ মানুষদের উদ্বাস্তু হাওয়া থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। রোকসানা পারভিন শিপু সেমিনার গুলিকে ফলপ্রসু করার জন্য জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নীতিমালা প্রণনয়নের কথা বলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •