cbn  

আহতদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন।

বিশেষ প্রতিবেদক:
রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরীসহ অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হামলা থেকে বাদ পড়েনি শিশুও।
এর আগে বুধবার (১২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১১ টার দিকে রামু ফতেখারকুলে বিএনপি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে।
হামলায় আহত ধানের শীষের সমর্থকদের দেখতে বুধবার গভীর রাতে জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে যান কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে আহত সমর্থকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতাল অঙ্গনে ভীড় জমায়। তারা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে।
রাতে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, একের পর একজন আহত ধানের শীষের সমর্থক আসছে। ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসা নিচ্ছে। এমন দৃশ্য পুরো হাসপাতাল অঙ্গনে ভিন্ন পরিবেশ তৈরী করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের নেতৃত্বে শতাধিক নৌকা মার্কার সমর্থক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র বিএনপির কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী, উপদেষ্টা আব্দুল করিম সওদাগর, যুগ্ম সম্পাদক টিপু সুলতান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি নুরুল আবছার মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম, রামু উপজেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক জিল্লুর রহমান, উপজেলা কৃষকদল সাধারণ সম্পাদক হেমসেল সরওয়ার, যুবদলের অর্থ সম্পাদক শওকত আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সদস্য মুবিন উল্লাহ, সিরাজুল হক, রাশেদুল করিমসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়, ফেরদৌস, জসিম উদ্দিন, আবদুল গফুর, ছৈয়দ আলম, আবদুল হামিদ, আবুল হাশেম, মামুনুর রশিদ, নুরুল আলম, মোহাম্মদ হোছন, নাসির উদ্দিন, মোকতার আহমদ, ডা. আবদুল করিম, মো. কালু, মতিউর রহমান, রিদওয়ান, আবদুর রহমান, জহির আলম, মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের বিএনপির মনোনীত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শেষে নেতাকর্মীরা অফিসে বসলে অতর্কিত স্বশস্ত্র হামলা করে আওয়ামী লীগের ক্যাডারেরা। হামলাকালে খোদ আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল উপস্থিত ছিলেন। তার নিদের্শেই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাটি ঘটে। মারধর ও লাঞ্চিত করা হয়েছে দলের অনেক সিনিয়র পর্যায়ের নেতাকে। এ সময় অফিসের সামনের থাকা ৭টির মতো মোটর সাইকেল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুর করেছে অফিসও।
তিনি বলেন, বিএনপির গণজোয়ার দেখে সরকারী দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা জনরায়ে ভীত হয়ে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি সমর্থকদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালানো শুরু করেছে। ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা না চালাতে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল।
রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী জানান- এমপি কমলের উপস্থিতিতেই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাটি ঘটানো হয়। হামলার জন্য তিনি নিজেই উস্কে দেন নেতাকর্মীদের। তারা ধানের শীষের প্রচারণা গাড়ি ভাংচুর ও প্রচার সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যায়। হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেয় অন্তত ৭টি মোটর সাইকেল।
ঘটনার বিষয়ে জানতে রামু থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল মনসুরকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •