cbn  

সিবিএন ডেস্ক:
বিএনপির সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে কারাগার পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আবু সুফিয়ান মো. নোমান এ আদেশ দেন।
দুলুর আইনজীবী মো. তাহেরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
এছাড়াও বুধবার রাজধানী ২৪টি থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার মামলায় অর্ধ শতাধিক বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত।
অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে শেরেবাংলানগর থানার মামলা নং ২৪ (১)১৫ গ্রেফতার করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে দুলুকে ঢাকা মহানগর হাকিম কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর এবং কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেন।

দুলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৫ সালে ২৪ জানুয়ারি শেরেবাংলা থানার শ্যামলী শিশুমেলা সংলগ্ন রাস্তার সামনে বোমা বিস্ফোরণসহ গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার নেপথ্যে দুলু ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় পরের দিন শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

যদিও মামলার এজাহারে দুলুর নাম ছিল না। পরে তদন্তের পর অভিযোগপত্রে দুলুর নাম আসে। অভিযোগপত্র দাখিল করার পর দুলু হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় গত ২৩ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত (সিএমএম) জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বুধবার সকালে ১১টার দিকে রাজধানীর গুলশা‌নের বাসা থে‌কে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শেরে বাংলা নগর থানার মামলাটির ওয়ারেন্ট ছিল। সেই ওয়ারেন্টে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুলু নাটোরের সদর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলেও আইনি জটিলতায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়।

এদিকে বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা এ নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড এবং কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রাজধানীর ২৪টি থানার নাশকতার মামলায় কারাগারে যাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শাহাবাগ থানার নুরুল ইসলাম, ইসমাইল খন্দকার, ধানমন্ডি থানার মনিরুল জামান মনি ও এসএম রাজ্জাক, বংশাল থানার আরিফুল ইসলাম নাদিম ও জাহিদ হাসান, যাত্রাবাড়ী থানার মাসুদ রানা, তুহিন ও জাফর আহমেদ, পল্টন থানার দুই মামলায় মো. ফিরোজ, মো. রমজান, সৈয়দ আল মামুন, মো. মাসুম বিল্লাহ, শরিফুল ইসলাম ও রিয়াজ মুন্সি সুমন, মোয়াজ্জেম হোসেন মণ্ডল, শরফুদ্দিন খান মুন্না, ইসমাইল মোল্লাহ ও মিজানুর রহমান ভুইয়া, শাহজাহানপুর থানার আনিসুর রহমান সোহেল, রমনা থানার হানিফ উদ্দিন আহমেদ হিমু, বিমানবন্দর থানার শাকিল হাসান, উত্তরা দক্ষিণ থানার কাজী মাহবুব হাসান ও রফিকুল হাসান, তুরাগ থানার আবু জায়েদ, মো. রবিউল ইসলাম ও মো. শাহিদ, উত্তর পশ্চিম থানার আব্দুল মান্না জুয়েল, কামরাঙ্গীরচর থানার শাহাবুদ্দিন, মোজাম্মেল, হিরা, গাফফর, লালবাগ থানার মনিরুজ্জামান মনির, কদমতলী থানার শহিদুজ্জামান, বনানী থানার উসমান গনী খোকন ও হুমাউন কবীর, বাড্ডা থানার মাসুম গাজী ও জাহিদুর ইসলাম জাকির, মিরপুর থানার আব্দুল মতিন, মির্জা হেদায়েত উল্লাহ, গাজী ফেরদৌস ও দায়েম হোসেন, শেরেবাংলানগর থানার দলিলুর রহমান দুলাল, ইলিয়াস হোসেন ও কামরুল ইসলাম, তেজগাঁও থানার জাকির হোসেন পলাশ। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানার দুইজন, আদাবর থানার দুইজন, হাতিরঝিল থানার চারজন ও দারুসসালাম থানার ২২ জন আসামি ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •