cbn  

উন্নয়ন প্রকল্প চুক্তির আওতায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫০টি বাড়ি করে দেবে ভারত। প্রথম দফায় ৫০টি বাড়ির স্মারক মিয়ানমারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিশ্রি মঙ্গলবার নেপিডোতে দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ের হাতে তুলে দেন। ছবি: সংগৃহীত

সিবিএন ডেস্ক:
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য ৫০টি বাড়ি করে দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের শিবির থেকে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পর প্রাথমিকভাবে এসব বাড়িতে থাকবে রোহিঙ্গারা। আজ মঙ্গলবার মিয়ানমারের কাছে এসব বাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের দপ্তর মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় এসব তথ্য জানায়।

গতকাল সোমবার থেকে তিন দিনের জন্য মিয়ানমার সফর করছেন রামনাথ কোবিন্দ। এক যুগের মধ্যে এটাই ভারতের কোনো রাষ্ট্রপতির মিয়ানমার সফর।

প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ ফেরাতে গত বছর মিয়ানমারের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প চুক্তি সই করেছিল ভারত। চুক্তির আওতায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫০টি বাড়ি করে দেবে ভারত। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৫০টি বাড়ির স্মারক মিয়ানমারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিশ্রি মঙ্গলবার নেপিডোতে দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ের হাতে তুলে দেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ইইউর নতুন সহযোগিতা
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ৫ লাখ ইউরোর নতুন আর্থিক সহযোগিতা ছাড় করেছে ইউরোপীয় কমিশন। গত মে মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য ঘোষিত ৪০ মিলিয়ন ইউরোর অতিরিক্ত এই সহায়তা দিল ইউরোপীয় কমিশন।

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দূতাবাস গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জীবন রক্ষাকারী খাদ্য সরবরাহের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের অর্থ খরচ করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সাহায্য ও সংকট মোকাবিলা-বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টস স্টাইলিয়ানিডেস বলেন, এই সাহায্য রোহিঙ্গাদের প্রতি ইইউর অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। খাদ্য সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও সেখানকার স্থানীয় জনগণের প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে গত বছরের আগস্টে তল্লাশিচৌকিতে অস্ত্রধারীদের হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় মিয়ানমার সরকার দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের দায়ী করে। সেই সময় থেকে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচুর সদস্য মোতায়েন করা হয়। গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় প্রাণে বাঁচতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছে। এরপরই বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ শুরু করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •