cbn  

মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
হামলা মারধরের সাজানো ঘটনায় হয়রানি মামলার ঘানি টানছে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম (২৮) ও তার পরিবার। মামলার বাদী সাক্ষীরাও জানে না হামলা ও মারধরের বিষয়ে।
জানা গেছে ডুলাহাজারা ইউনিয়নস্থ উলুবনিয়া গ্রামের মৃত আজিজুর রহমান সিকদারের স্ত্রী নুর জাহান (৬০)গং ও পার্শ্ববর্তী বাড়ির মকসুদ আহমদের পুত্র সাইফুল ইসলাম (২৮) গংদের সাথে ভিটেবাড়ি নিয়ে বিরোধ চলছে কিছু সময় ধরে।

নুরজাহান বাদী হয়ে গত ৩ ডিসেম্বর ২০১৮ইং তারিখে সাইফুল ইসলামসহ ৬জন ও অজ্ঞাত ৩/৪ জন আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি ফৌজদারি মামলা (নং- ০৯) দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলার এজাহারে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে বাদীনির বসতঘর মেরামতকালে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ী, লাঠি-সোটা দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। বাদিনীকে রানে, পিঠে, সর্ব শরীরে আঘাত করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। ওইদিন বাদীনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে চকরিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি থানায় দন্ডবিধি ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ৫০৬/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়। পরদিন ৪ ডিসেম্বর তারিখে মামলাটি চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করেন।

এদিকে মামলার বাদীনি নুর জাহান প্রতিবেদককে জানান, ভিটেবাড়ি বিরোধে আসামিরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আসছে। কিন্তু হামলা, মারধর, জখম, রক্তপাত, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার কোন বিষয়ে জানেন না তিনি।
মামলটির সাক্ষী পার্শ্ববর্তী বাড়ির মৃত ওলা মিয়া সিকদারের পুত্র আবু হানিফ জানান, উভয় পক্ষে ভিটেবাড়ির ভুমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। হামলা ও মারধর সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি শুনেছেন কিন্তু চোখে দেখেননি।

পার্শ্ববর্তী বাড়ির অপর সাক্ষী মৃত মোকাদ্দেছের স্ত্রী হাজেরা বেগম জনান, বাড়ি ভিটের জায়গা নিয়ে বিরোধের বিষয় পাড়া প্রতিবেশীরাও জানে। তবে মারধর ও হামলা বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং শুনেননি।

এব্যপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন সোনা মিয়া জানান, কাগজপত্র দেখে আমিন দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে উভয় পক্ষকের ভিটেবাড়ির সমস্যা সমাধানের বৈঠকে বসতে বলা হয়েছে। যদি তারা শুনে তাহলে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

মামলাটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে বলতে হলে সরাসরি দেখা করে বলতে হবে। তিনি বৈঠকে আছেন পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •