cbn  

ডেস্ক নিউজ:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও জোটটির শরিক দল জাতীয় পার্টি ১৭৪টি আসনে দলীয়ভাবে উন্মুক্ত নির্বাচন করবে। সেই দিকে থেকে সংকট নেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপিতে। এ দু’টি জোটকে ৬০টি আসন ছাড় দিয়ে বিএনপি ২৪০ আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াত সমঝোতার বাইরে ঘিরে ২টি আসনে স্বতন্ত্র এবং খেলাফত মজলিস ১০ আসনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে। তবে, বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতারা হতাশ নন। তারা বলছেন, জোটগত নির্বাচনে প্রতীক ও প্রার্থিতা নিয়ে কোনও ‘সংকট’ নেই বিএনপিতে।

আসন সমঝোতার পরও জোটের অন্যদলগুলোর প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের জোটের ধানের শীষের প্রার্থীদের বাইরে যেসব দলের প্রার্থী আছে তাদের অনুরোধ করবে, যেন প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া, ধানের শীষের বাইরে অন্যদলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ও আমাদের কৌশল। এর ফলে ধানের শীষের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট বাড়বে। কারণ, এসব প্রার্থীরা তো শেষ পর্যন্ত জোটের প্রার্থীদের সমর্থন করবে।’

জানা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থীদের বাইরে জামায়াত ২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলেও এর মধ্যে একজন নির্বাচন করবেন, অন্য প্রার্থী নির্বাচন করবেন না।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য আব্দুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাবনা ১ আসনের স্বতন্ত্র পার্থী মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নাও করতে পারেন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচন করবেন।’

ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে খেলাফত মজলিসের ড. আহমদ আবদুল কাদের (হবিগঞ্জ- ৪) ও মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ ( হবিগঞ্জ-২) নির্বাচন করবেন। এর বাইরে দলটির প্রতীক ‘দেওয়াল ঘড়ি’ নিয়ে নির্বাচন করবে মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান (টাঙ্গাইল-৭), মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন (সুনামগঞ্জ-৫), মুহাম্মদ মুনতাছির আলী (সিলেট-২), হাফেজ মাওলানা নোমান মাযহারী (কুমিল্লা-৭), মো. দিলওয়ার হোসাইন (সিলেট-৩), মাওলানা মুফতি শিহাবুদ্দীন (চট্টগ্রাম-৫), অধ্যাপক মো. তৌহিদুর রহমান মন্ডল রাজু (রংপুর-৩), অধ্যাপক রুহুল আমিন কামাল (বরিশাল-৪), হাফেজ মো. কবির হোসেন (নারায়নগঞ্জ-৫) ও মাওলানা আবদুল আলী আরমান (নোয়াখালী-৪)।

জোটের বাইরে গিয়ে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে দলটির মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন পাইনি। এই কারণে কিছু জায়গায় দলের প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। তবে শেষপর্যন্ত ১০টি আসন থেকে কমে ২-৩ টি জায়গায় দলীয় প্রতীকে প্রার্থীরা নির্বাচন করতে পারেন।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামকে ৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর বাইরে ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে ২টি আসনে দলটির প্রার্থী রয়েছে বলেও জানা গেছে। গণফোরামের মিডিয়া কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম পথিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোটের বাইরেও আমাদের চট্টগ্রামে ২ আসনে আমাদের প্রার্থী রয়েছে। তবে তারা শেষপর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ঐক্যফ্রন্টের আরেক শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ৪ জন প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। এর বাইরে আর কোনও দলীয় প্রার্থী নেই বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুবর রহমান তালুকদার।

এই জোটটির আরেক শরিক দল—জেএসডির ৪ জন প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন। তবে, এর বাইরে দলটির ‘তারা’ মার্কা প্রতীক নিয়ে কয়েকজন নির্বাচন করতে পারেন। দলের সহ-সভাপতি তানিয়া ফেরদৌসী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছূ জায়গায় আমাদের নেতারা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন।’ তবে, এখন এর সঠিক সংখ্যা বলতে তিনি বলতে পারেননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •