এইচ এম আবু ছিদ্দিক :

যেকোন গণতান্ত্রিক দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিতামুলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা গণতন্ত্রের স্তম্ভ। তবে শুধু একটি সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা দেয় না। এর পাশাপাশি সাম্যবাদী শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও বিচারকদের নিরপেক্ষতা, বিরোধীমতের যৌক্তিক প্রস্তাব মেনে নেয়া, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের স্বচ্ছতা, সর্বোপরি মন্ত্রী-এমপিসহ ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতা ও অন্যান্য মৌলিক বিষয়সমূহ গণতন্ত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেই দেশে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী এই নিয়মের ব্যত্যয় গঠিয়ে ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়াসহ বিরোধীমতকে দমন-পীড়ন চালিয়ে প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করার চেষ্টা করেছে। সেই দেশে কাগজে-কলমে গণতন্ত্র থাকলেও সর্বসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার ভূলুন্ঠিত হয়। সংসদে বা সংসদের বাইরে, বা মাঠে-ময়দানে শক্ত বিরোধী দল থাকলে ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা ছাড়া অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সব পরিকল্পনা সঠিক হবে, বা সবাই ধোয়া তুলসীপাতা এমনটা ভাবার কোন সুযোগ নেই। তাদের ভুলত্রুটি শোধরে দেয়ার জন্য শক্ত বিরোধীমত ছাড়াও গুণীসমাজসহ স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। অন্যথায় সুবিধাবাদিরা সরকারকে ভুলচুক বুঝিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটসহ জাতির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করে।

বিশ্বের প্রায় ১১৬টি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে গণতান্ত্রিক নির্বাচন, রাজনৈতিক দল সমূহের অংশ গ্রহন, এবং নির্বাচনে গণ সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে বিভিন্ন শ্রেনীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন-(ক) পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র (খ) ত্রুটিযুক্ত গণতন্ত্র (গ) হাইব্রিড গণতন্ত্র ইত্যাদি। বর্তমান বাংলাদেশ র‌্যাংকিয়ে সর্বনি¤েœ, অর্থাৎ “হাইব্রিড গণতন্ত্র”।

বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে। মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ দু’টি মার্কার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। একটি হচ্ছে নৌকা, অন্যটি ধানের শীষ। এ দু’টি মার্কার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইয়াবা গডফাদার হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তা আমলে নেয়ার সুযোগ সীমিত। এরা কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতাদের নির্দেশে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হয়। কেউ কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করলে তাকে বহিষ্কারাদেশসহ নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। স্থানীয় সুবিধাবাদী নেতারা বড় পদ-পদবির আশায় তৃণমূলের সমর্থনের চেয়ে ঢাকায় দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত থাকে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে পুরো দেশের রাজনীতি গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে আবদ্ধ হয়ে পড়বে। যা গণতন্ত্রের জন্য মোটেও তৃপ্তিকর নয়। যতদিন না পর্যন্ত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বা কেন্দ্র থেকে ক্ষমতা তৃণমূলের হাতে আসবে না। ততদিন না পর্যন্ত গণমানুষের অধিকার বা পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। (নোট: উপরের কয়েকটি লাইন তৃণমূলের দলভক্তরা ভেবে দেখতে পারেন)।

স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো, অথচ আমরা এখনো নির্ভরযোগ্য নির্বাচন কমিশন, প্রতিহিংসাপরায়ণ নোংরা রাজনীতি ও দুর্নীতি, সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সাম্যবাদী শাসন, অর্থনৈতিক সামাজিক সাম্য ও বিত্তহীন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলতে বলতে জিহবা শুকিয়ে যাচ্ছে। অথচ সঙ্ঘবদ্ধ বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি-নির্ধারকরা মঞ্চে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের কথা বললেও তলেতলে দলীয়তন্ত্রের মাস্টার প্লান বাস্তবায়নে ব্যস্ত।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি অন্যতম। দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দু’দলের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তি, বা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন রাজনীতিকের অভাব নেই। সাংগঠনিভাবে এসব গুণীজনদের মূল্যায়ণ একেবারেই নগণ্য। বিশেষ করে ২০০১ সাল থেকে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়েছে। জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বানিজ্য নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে একটি শ্লোগান শুনা যাচ্ছে। “টাকা ও ক্ষমতার আধিপত্য যার, দলীয় মনোনয়ন তার”।

এসব মনোনয়ন বানিজ্যের কারণে ইয়াবা ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু ও দুর্নীতিবাজসহ কর্ম ক্ষেত্রে অযোগ্য কালোটাকার মালিক দলীয় সমর্থনে সংসদে গিয়ে আইনপ্রণেতার আসনে বসেন, এবং জাতির সর্বনাশ করেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারবিহীন বিজয়ী দল আওয়ামীলীগ ও ভোট বর্জনকারী বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য যৌথভাবে আন্দোলন করে হোছাইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। অদ্যাবধি কোন দলই ক্ষমতার আধিপত্য, প্রতিহিংসার রাজনীতি ও দলীয়তন্ত্র ছাড়া পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও মহাজোটের সংলাপ চলাকালে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের তপশীল ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। সে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা সংশয় এখনো কাটেনি। ক্ষমতাসীন দলের দাবি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরী হয়নি। সরকার পুলিশ বাহিনীসহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্টদের একতরফা ব্যবহারের পাঁয়তারা করছে।

বাংলাদেশে এযাবৎকালে দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে। তার একটিও অহিংস ও ত্রুটিমুক্ত বলা যাবে না। নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কমবেশী সকলেই ক্ষমতাসীন দলের চাপের মুখে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে যা দেখেছি। গণতন্ত্র ও গণমানুষের স্বার্থে সংক্ষেপে তুলে ধরছি। পর্দার আড়ালে যেখানে ব্যালট পেপারে সীল মারা হয়। সেখানে ভোটার তার ভোট কোথায় দেবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। এই সংস্কৃতি কিন্তু একদিনে তৈরী হয়নি। তরুণ প্রজন্মকে ধাপে ধাপে অপসংস্কৃতির বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ক্রমাগতভাবে ধ্বংস হয়ে গেলে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের প্রতি গণমানুষের আস্থার সঙ্কট তৈরী হবে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রতিটি জাতীয় বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া হয়েছে। হাজার কোটি টাকার সম্পদ পুড়ানো হয়েছে। রাজনীতিকদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মনোভাব দুর্বলতার কারণে রাষ্ট্র ও জনগণের জানমালের যে ক্ষতি হয়েছে, এর দায় নেবে কে?

বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ভৌগোলিক বা ভূ-প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীর মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ’তো বটে। মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ধারাবাহিক উন্নতি হবে এটাই স্বাভাবিক। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের প্রত্যাশা বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী ও আত্মনির্ভরশীল দেশে পরিণত হোক। সুতরাং- তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতা হাতের নাগালের বাইরে চলে গেলেও রাষ্ট্রের বৃহৎস্বার্থে জনগণ চুপ থাকে। কিন্তু যখন ছাদে রডের বদলে বাঁশ, রাস্তা নির্মাণে পাথরের পরিবর্তে চুরকি, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুটপাট। বিনিয়োগের অজুহাতে ব্যাংকগুলোর মূলধন আত্বসাৎ। দেশের টাকা বিদেশে পাচার। কয়লা ও পাথর গায়েব হওয়াসহ ব্যাংকের লকারে থাকা স্বর্ণ তামা হয়ে যায়। তখন দেশের মালিক জনগণ’কি আর চুপ থাকতে পারে?

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে দেশে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তাদের চেয়ে কয়েকধাপ এগিয়ে আওয়ামীলীগের আমলে যা হয়েছে, তা বলাও মুশকিল। তবে মামলা-হামলার ভয়ে দেশের জনগণ চুপ থাকলেও সাম্প্রতিক বিলাতের একটি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশে উন্নয়নের মহাজোয়ারের তথ্য উপস্থাপন করেছে। তাদের দেয়া তথ্যমতে, বিশ্বে অতি দ্রুতগতিতে ধনী তৈরীর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এক নম্বরে। ২০১২ থেকে ২০১৭- এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে অতি ধনী বেড়েছে বার্ষিক ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। অথচ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অতি ধনী বৃদ্ধির হার মাত্র ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে দেখা যায়, দেশের মোট আয়ের ২৮ শতাংশই যাচ্ছে ৫ শতাংশ ধনাঢ্য পরিবারের হাতে। অন্যদিকে সবচেয়ে গরীব ৫ শতাংশ পরিবারের আয় মাত্র শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মানে হচ্ছে, দেশে মোট ১০০০ টাকা আয় হলে তার ২৮০ টাকা যাচ্ছে ধনাঢ্য ৫ শতাংশ পরিবারে। আর মাত্র ২ টাকা ত্রিশ পয়সা আয় যাচ্ছে অতি দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবারে। শুধু উপরে-নিচে আয়ের বৈষম্য বাড়ছে তা কিন্তু নয়, মধ্যভাগের ৯০ শতাংশ মানুষের আয় বৈষম্যও উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। হালাল পথে রোজগার করে সারাদেশের মালিক হলেও কারো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু উন্নয়নের নামে জনগণের গচ্ছিত সম্পদ তছরুপ করে ধনিকশ্রেনী পয়দা হলে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মালিক জনগণের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।

উপরিউক্ত বিষয়াদির আলোকে দেখা যায়। একশ্রেনীর সুবিধাবাদী প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ঘুষখোর আমলা ও মাফিয়াচক্র উন্নয়নের মহাজোয়ারে ভাসছে। অন্যদিকে বিত্তহীন সাধারণ মানুষ উন্নয়নের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

অর্থ ও ক্ষমতা লিপ্সাদের কারণে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা সত্ত্বেও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে এটাই সত্য। এদেশের উন্নয়নের কৃতিত্ব পরিশ্রমী প্রত্যেক নাগরিকের। কোন দলের বা গোষ্ঠীর নয়। বাংলাদেশে সম্ভবত দুই ধরণের খাত থেকে উন্নয়ন হয়। বিদেশী সাহায্য বা ঋণ, অথবা নাগরিকের “কর” প্রত্যেক নাগরিককে সুদসহ বিদেশী ঋণ পরিশোধ করতে হয়।

আজকের জন্ম নেয়া শিশুসহ প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্রকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর পরিশোধের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশী, গার্মেন্টস শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও কৃষিজীবীসহ মংস্যজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নিজ ও নিজ দলের গুণকীর্তন ছাড়া দেশের অর্থনীতিতে যোগানদাতা পরিশ্রমী জনগোষ্ঠীর প্রশংসা করেছেন, এমন ঘটনা বিরল। যাদের পরিশ্রমের টাকায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ভোগবিলাসী জীবন-যাপন করেন। এসব ব্যক্তিদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের বা জনগণের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণসহ তাদের “গচ্ছিত আমানত” পরিকল্পিতভাবে জণকল্যাণে ব্যয় করা। সরকার কর্তব্য পালনে কতটুকু দায়িত্বশীল, নাকি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। এসবের মূল্যায়ণ জনগণ ভোটের ব্যালটের মাধ্যমে দেয়া ছাড়া বিকল্প সুযোগ বাংলাদেশে নেই। বিধায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ প্রতিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ও গণ সম্পৃক্ততামূলক হওয়া একান্তই জরুরী। যাতে করে ভোটারেরা নির্বিঘেœ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনী, রিটানিং অফিসার, সহকারী রিটানিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহযোগিতা করা আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। অপেক্ষামাণ পুরো জাতির স্বার্থে, প্রয়োজনে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তা বাস্তবায়ন করে জাতির প্রত্যাশা পূরণ ও শেখ হাসিনার ওয়াদা রক্ষায় সতেজ হলে সমস্যা কোথায়?

লেখক: কলামিস্ট, সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, দৈনিক কক্সবাজার বাণী।

মোবাইল:- ০১৫৫৮৩৬৩৩৪৩,

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •