কক্সবাজারে তাবলীগ জামাতের ব্যাপক বিক্ষোভ

সা’দপন্থীদের প্রতিহতের ঘোষণা আলেমদের

ইমাম খাইর, সিবিএন:
ফেতনা সৃষ্টিকারীদের কক্সবাজার মারকাজে প্রবেশেষে নিষেধাজ্ঞা ও সা’দপন্থীদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে কক্সবাজারের তাবলীগের সাথী ও আলেমরা। সেই সাথে ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, ওয়াসিফুল ইসলাম, কাজি এরতেজাসহ তাবলীগে ফাটল সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সমাবেশে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার, ফেস্টুন, মিছিল সহকারে অসংখ্য আলেম, তাবলীগী সাথী ও সাধারণ ছাত্র অংশ গ্রহণ করে।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের খুরুশকুল রাস্তার মাথা থেকে সর্বপ্রথম আলেমদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এর আগে সেখানে প্রায় আধাঘন্টা ধরে বিক্ষোভ করে তারা। এরপর হাজারো জনতার স্বতস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ ও পুলিশী নিরাপত্তায় বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক হয়ে পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে সমাবেশে মিলিত হয়।
গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে কক্সবাজারের আলেম সমাজ, তাবলীগী সাথী ও সর্বস্তরের মুসল্লিদের ব্যানারে কর্মসূচি পালিত হয়।
এই সমাবেশে বিভিন্ন উপজেলার আলেম, তাবলীগী সাথীরা পৃথক আরো দুইটি বিক্ষোভ মিছিল সহকারে যোগ দেয়। প্রায় ১ ঘন্টা কক্সবাজার শহর বিক্ষোভ আর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সবার দাবী একটাই-ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, ওয়াসিফুল ইসলাম, কাজি এরতেজাসহ বিভ্রান্ত মুসলমানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভকালে তাবলীগ ও আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সাথে সাক্ষাত করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৭ দফা দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রেরণ করেন।
পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে তাবলীগের সাথী, আলেমরা অংশ নেয়। কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। সবার উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ সার্বক্ষনিক কড়া নিরাপত্তা জোরদার করে। কোথাও বিশৃঙ্খলা হয়নি। বেলা পৌনে ১টার দিকে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।
হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুরের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে একে একে ২০ জনের অধিক আলেম বক্তব্য রাখেন।
তাবলীগের অন্যতম জিম্মাদার মাওলানা মোহছেন শরীফ বলেন, আমাদের সব কথা স্মারকলিপি আকারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি।
দাবীসমূহ হলো- ১. ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ওয়াসিফুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, খান শাহাবুদ্দিন নাসিম, কাজি এরতেজা হাসানসহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ২. আহত, নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. টঙ্গি ময়দানে এতদিন যেভাবে শূরা ভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথী ও উলামাদের অধীনে ছিল তাদের কাছেই হস্তান্তর করতে হবে। ৪. অতিসত্তর কাকরাইলের সকল কার্যকলাপ হতে ওয়াসিফ ও নাসিম গংকে বহিস্কার করতে হবে। ৫. সারাদেশে উলামায়ে কেরাম ও শূরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথীদের উপর হামলা-মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. টঙ্গীর আগামী ইজতেমা পূর্ব ঘোষিত ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারী অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৭. কক্সবাজারের গোলদীঘিরপাড়স্থ মারকাজ মসজিদে সা’দপন্থীদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
মাওলানা ইয়াসিন হাবীব আক্ষেপ করে বলেন, দ্বীনের প্রয়োজনে আমরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছুটে যাচ্ছি। কিন্তু তাবলীগের কাজকে মুছে দিতে মিশনে নেমেছে সাদপন্থিরা। ১ ডিসেম্বর ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। আজ থেকে এতায়াতিদের যেখানে পাওয়া যায় প্রতিহত করা হবে। মারকাজে তাদের কোন স্থান হবেনা।
মাওলানা মুফতি সাইদুল ইসলাম বলেন, মুরগির মাথা খারাপ হলে শিয়ালের মাথায় কামড় দেয়। সাদপন্থিদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের হাতে আমাদের ৭ জন ভাই শহীদ হয়েছে। আহত হয়েছে ৩ হাজারের অধিক। প্রয়োজনে আরো রক্ত দেব। তবু দেশকে সা’দপন্থিমুক্ত করব। সা’দপন্থিরা এতায়াতি নয়, তারা হাতাহাতি। তাদের আচরণ নাস্তিকদের হার মানিয়েছে। পুঁজি ছাড়া যেমন হয়না আলেম ছাড়াও তেমন তাবলীগ হয়না।
তিনি বলেন, সা’দপন্থিদের টার্গেট আগামী ১৮, ১৯, ২০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ইজতেমা প্রতিহত করা। কক্সবাজারের মারকাজে তাদের আর ঢুকতে দেয়া হবেনা। প্রতি জুমার নামাজে এতায়াতিদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে আলেমদের অনুরোধ করেন তিনি।
সমাবেশে রামুর জোয়ারিয়া মাদরাসার মোহাদ্দেস হাফেজ মাওলানা আবদুল হক বলেন, এই দেশ হক্কানি ওলামাদের। ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করা হবে।
তিনি বলেন, ইজতেমার মাঠ থেকে আমাদের অনেক ভাইকে কালো গাড়িতে করে তুলে নেয়া হয়েছে। এখনো হদিস নেই। আমরা তাদের সন্ধান চাই। সন্ত্রাসীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা মোহাম্মদ মোসলিমের সভাপতিত্ব সামবেশের সমাপনী বক্তব্য ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোর্শেদ আলম চৌধুরী।
বক্তব্য রাখেন- মাওলানা আবদুর রহিম ফারুকী, মাওলানা আতাউল করিম, মাওলানা হেলাল উদ্দিন, মাওলানা নেজাম উদ্দিন, মাওলানা সরওয়ার আলম কুতুবী, মাওলানা রফিকুল্লাহ, মাওলানা ওবাইদুল্লাহ রফিক, মাওলানা ইয়াসিন।
উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা আবদুল মান্নান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিকদার, হাফেজ শামসুল হক, মাওলানা মোহাম্মদ হারুন, মুফতি এমদাদ উল্লাহ হাসান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ, ক্বারী আতাউল্লাহ গণি প্রমুখ।

সর্বশেষ সংবাদ

চকরিয়ায় পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ ২ পাচারকারী আটক

বদলে গেলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসা পদ্ধতি

‘নতুন যুগে’ প্রবেশ করলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল

ইসলামপুরে ৫ ট্রাক লবণ জব্দ, আমদানিকারক ও মিল মালিক সমিতি মুখোমুখি

কক্সবাজারে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করছে সরকার : সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

উখিয়া সংবাদকর্মীর উপর ইয়াবা ব্যবসায়ীর হামলা

ট্রাম্পের কাছে করা অভিযোগের সাথে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের কোন সম্পর্ক নেই : ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

দৈনিক হিমছড়ি আয়োজিত বিশ্বকাপ কুইজের পুরষ্কার বিতরণ

রাজপথে নামুন, বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ : নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে কাজল

উৎসব মুখর পরিবেশে কক্সভিশন লিমিটেডের এজিএম সম্পন্ন

‘পালংখালীতে নিরীহ লোকজনকে নির্যাতন ও বাড়ি ভাংচুর চালাচ্ছে কতিপয় বিজিবি সদস্য’

সাতকানিয়ায় বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা দিলো লোহাগাড়ার হিলফুল ফুযুল

যেখানে বিএনপি, সেখানেই মৃত্যূঞ্জয়ী সালাহউদ্দিন

যুবকের উপর হামলা, মহেশখালী পৌরসভার সন্ত্রাসী জয়নালের বিরুদ্ধে মামলা

লায়ন মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন তারেককে পুষ্পিত অভিনন্দন

‘ছেলেধরা সন্দেহ হলে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের হাতে দিন’

‘ইসকন’ নিষিদ্ধের দাবিতে কক্সবাজার ইসলামী যুবসেনা ও ছাত্রসেনার মানব বন্ধন

সুপারিশ কমিটির হাতে শাহপরীরদ্বীপের ৫ কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়কটির কাজ

মুক্তিযোদ্ধা সুনিল দাশ ও আরতি ধরের মৃত্যুতে জেলা পূজা কমিটির শোক

চট্টগ্রামে ভোলাইয়া গ্রুপের অজ্ঞান পার্টির চার সদস্য গ্রেফতার