cbn  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
শনিবার বিশ্ব ইজতেমার মাঠে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ ও সভা প্রতিবাদ জানিয়েছেন কক্সবাজার তাবলিগের শুরা সদস্য ও উলামায়ে কেরামরা।
রবিবার (২ ডিসেম্বর) বাদে মাগরিব কক্সবাজার শহরের গোলদীঘিরপাড়স্থ তাবলীগের মরগাজাগে সভায় বক্তব্য রাখেন মুফতি মোরশেদুল আলম, হাফেজ মাওলানা আবদুল হক, মাওলানা আতাউল করিম, মাওলানা মোহছেন শরীফ, মুফতি শহীদুল ইসলাম, মাওলানা কামাল উদ্দিন, শাহজাহান, জসীম উদিদœ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, তাবলীগের মতো একটি আখেরাতমুখি কাফেলাকে বিতর্কিত করতে স্বার্থান্ধ একটি গোষ্টি বারবার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের কারণে সাধারণ মানুষ তাবলীগ জামায়ত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার সুযোগ পাচ্ছে। এসব লোক প্রকৃতপক্ষে দ্বীনে হকের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।
কক্সবাজারের তাবলিগের শুরা সদস্য ও উলামায়ে কেরামরা ইজতেমার মাঠে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমগংসহ হামলার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।
এদিকে, রবিবার দুপুর ২ টায় পল্টনের সাব্বির টাওয়ারে আয়োজিত তাবলীগের শুরা ও উলামায়ে কেরামের সংবাদ সম্মেলন থেকে ৬ দফা দাবি জানানো হয়।
এগুলো হলো-
১. এ হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমগং সহ হামলার সাথে জড়িত সকলকে ২৪ ঘন্টা আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
২. আহত নিহতদের ক্ষতি পূরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. টঙ্গী ময়দান এতদিন যেভাবে শুরা ভিক্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথী ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে ছিল তাদের কাছেই হস্তান্তর করতে হবে।
৪. অতিসত্তর কাকরাইলের সকল কার্যকলাপ হতে ওয়াসিফ ও নাসিমগংকে বহিস্কার করতে হবে।
৫. সারা দেশে ওলামায়ে কেরাম ও শুরা ভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথীদের উপর হামলা মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. টঙ্গীর আগামী এজস্তেমা যথাসময় পূর্ব ঘােষিত (১৮,১৯,২০) অনুষ্ঠানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কর্মসূচী : ১. সোমবার সারা দেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান। ২. বাকী কর্মসূচী পরবর্তীতে জানানাে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য
প্রিয় সাংবাদিক ভায়েরা! আপনারা অবগত আছেন, রবিবার টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠে তাবলীদের সাথী ও মাদরাসার ছাত্রদের উপর অত্যন্ত নির্মম ও বর্বরচিত ভাবে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।
আপনারা জানেন আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারী’১৮ ইজতেমার ১ম পর্ব অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইজতেমাকে কামিয়াব করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মাঠে প্রস্তুতি মূলক কাজ করতে হয়। এ কাজ বিভিন্ন কারনে বিলম্ব হয়েছে।
ফলে তাবাসো সথী ও ঢাকার বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্ররা তিন দিনের জামায়াত করে মাঠে কাজে রতছিল এমতাবস্থায় নিজামুদ্দীনের মাও. সাদপন্থী বাংলাদেশের ওয়াসিফুল ইসলাম ও নাসিমগং এর অনুসারীরা নিরত্র শিরাহ তাবলীগির সাথী ও মাদরাসার ছাত্র-ওলামায়ে কেরামের উপর লাঠি ছােটা ও ধারালাে অস্ত্র, ইট-পাটকেল নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে।
আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে এ অবস্থায় প্রসাশকের ভূমিকা ছিল নিরব ও রহস্য জনক। পুলিশ দাড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। শুধু তাই নয় বরং গেট ভেঙ্গে তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে। সহায়তা করেছে।
কিন্তু ইতিপূর্বে প্রশাসনের সাথে যােগাযােগ করা হলে তারা বলেছিল আপনারা ভেতরে অবস্থান করেন আমরা আছি। বাহির থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখ গেলাে ভিন্ন। সরকার জোড় স্থগিত করেছে তাহলে প্রশ্ন হলাে সারা দেশ থেকে এসব হাজার হাজার সাদ পন্থী টঙ্গীতে একত্রি হলাে কিভাবে? এ প্রশ্নের জবাব জাতি জানতে চায়।
হামলা কারীরা ভেতরে প্রবেশ করে যাকেই সামনে পেয়েছে তার উপরই তারা হিংস্রতা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে। শত শত ছাত্র ও সাথীকে রক্তাক্ত করেছে। এ হামলায় নিহত হয়েছে মুন্সিগঞ্জের ইসমাইল মন্ডল ও আহত হয়েছে প্রায় পাঁচশতাধিক; যারা টঙ্গীরে আশপাশের হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল সহ বিভিন্ন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রকাশ থাকে যে, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বেশ কিছু মাদরাসার শিশু ছাত্রদের ছিত্র দেখানাে হয়েছে। তারা টঙ্গী মাঠের ভেতরে অবস্থিত মাদরাসার ছাত্র। তারা সর্বাঙ্গনিক সেখানে পড়াশােনা করে। বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করেনি। হামলাকারীরা সেখানের মাদরাসা ভবন ও আসবাব পত্র ভেঙ্গে তছনছ করে অগ্নিসংযােগ করে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ প্রায় শতাব্দিকাল যাবত সুন্দর ও সুষ্ঠ সুন্দর ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তিন হযরত তথা হযরতজী ইলিয়াস রহ. (১৯২৪-১৯৪৫) হযরতজী ইউসুফ রহ. (১৯৪৫-১৯৬৫) হরতজী এনামুল হাসান (১৯৬৫-১৯৯৫) পর্যন্ত কোনো মতবিরােধ ছিল না।
তাদের ইন্তেকালের পর একক আমীর নিয়ােগের ব্যাপারে মত বিরোধ দেখা দেয়। সকলের ঐক্যমতে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এ কাজে একক কোন আমির আসবে না। বরং শুরা ও তাৎক্ষণিক ফয়সালের মাধ্যমে সকল কাজ সম্পাদিত হবে। উল্লেখ্য তৃতীয় হজরতজী দশ জনের তালিকা প্রদান করে যান।
সে মতে ১৯৯৫ থেকে প্রায় ২০ বছর শুরার ভিত্তিতে এ কাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে মাওলানা সা’দ সাহেব নিজেকে আমীর বলে দাবী করেন। অথচ কোনাে পরামর্শ সভাতে তাকে আমীর নিযুক্ত করা হয়নি। অধিকন্তু তিনি বিভিন্ন সময় কোরআন সুন্নাহ বিরােধী এমন কিছু বক্তব্য প্রদান করছেন, যার উপর উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দসহ সারা বিশ্বের হকপন্থী আলেম সমাজ আপত্তি করে আসছেন।
কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় সকল ওলামায়ে কেরামের মতামতকে উপেক্ষা করে তিনি তার অবস্থান থেকে অব্যাহতভাবে ইসলাম বিরােধী বক্তব্য অব্যাহত রাখেন। এর পরিপেক্ষিতে দাওয়াত ও তাবলীগের এ সুন্দরতম কাজের মাঝে মতবিরােধ দেখা দেয়।
এমতাবস্থায় হকপন্থী সকল ওলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত নেন মাওলানা সা’দ তার শরীয়ত বিরােধী বক্তব্য প্রত্যাহার ও দারুল উলুম দেওবন্দের আস্থা অর্জন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজের ক্ষেত্রে তার কোনাে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে দাওয়াত তাবলীগের সাথীদের মাঝে বিভক্তি ঘটে। সিংহভাগ সাথী ওলামাদের সাথে একাত্ততা ঘােষণা করে শুরা ভিত্তিক দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
অপর দিকে ক্ষুদ্র একটি যার সংখ্যা অতি নগন্ন। বাংলাদেশ ওয়াসিফুল ইসলাম ও সাহাবুদ্দিন নাসিমের নেতৃত্বে মাওলানা সা’দ সাহেবের অনুসারণে তৎপর হয়ে উঠে এবং তারা ওলামায়ে কেরাম ও আলেমদের সাথী তাবলীগের সাথে বিভিন্ন জায়গায় মারমুখী আচরণ করতে থাকে।
তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল টঙ্গী ময়দানে নির্মমভাবে হামলা যা নজিরবিহীন তান্ডব চালায়। তার নিন্দা ও বিবাধের জানানাের ভাষা আমাদের জানা নেই। এ হামলায় গােটা আলেম সমাজ তথা সারা মুসলিম উম্মাহ হতবাক ও চরমভাবে মর্মাহত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •