cbn  

এম, রিদুয়ানুল হক (এমএ):
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পরিচয় সারা বিশ্বে। শুধু গণতান্ত্রিক নয়, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও। এই ঐতিহ্য রক্ষা করার দায়িত্ব শুধু রাজনীতিবিদদের নয়, রাজনৈতিক কর্মীদেরও। তাহলে নেগেটিভ চিন্তা বাদ দিয়ে পজেটিভ চিন্তা নিয়ে ভাবুন। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি গণতন্ত্রের ভাষা না বুঝেন, তাহলে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের চর্চা করতে পারেন (যদি সম্ভব হয়)। গণতান্ত্রিক দেশে অগণতান্ত্রিক আচরণ কেন করবেন? মনে রাখবেন, এই দেশ সবার। এই দেশ স্বাধীন করতে জীবন দিয়েছেন অনেক দেশপ্রেমিক। এর পিছেনে যতসব সাহস জুগিয়েছিলেন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাশাপাশি সকল মুক্তিযোদ্ধারা। তাহলে সাহসি বাঙালী জাতীরা ভীরুর মতো কাজ করবে কেন? কেনই বা অগণতান্ত্রিকভাবে ভোট কেন্দ্র দখল করবেন? এটা তো স্বাধীনতার বীরেরা কোনোদিনও চর্চা করেন নি। তাহলে আমরা কি শিখলাম? স্বাধীনতার মর্ম কতটুকু বুঝলাম?

আপনার যোগ্যতা দিয়ে জয়ী হতে পারলে হাজার সালাম। কারণ আপনি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এর বাইরে যদি আপনি যেতে চান তাহলে ইতিহাস বাঁচবে না। মৃত্যু হবে। আর ভোট কেন্দ্র দখল করে নেতা নির্বাচিত হতে হবে কেন? তাহলে ধরে নেবো, আপনি অযোগ্য! এখানে একটি কথা না বলে নয়, ভোট কেন্দ্র দখল করা যত সহজ, তার চেয়ে ভবিষ্যৎ জীবন আরো কঠিন। হয়তঃ আদালতে দৌঁড়তে দৌঁড়তে জুতার তলা খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধু তাই নয়, বংশের চৌদ্দ গোষ্ঠীও রেহায় পাবে না। তাহলে আমাদের উচিৎ কেন্দ্র দখলের পরিবর্তে কেন্দ্র পাহারা দেয়া। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছি। যদি আপনি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। একটি কথা সর্বদা মনে রাখবেন, কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে হয়তঃ সেখানেই আপনার মৃত্যু হবে এবং আপনার জীবন নামক ইতিহাসের মৃত্যু হবে।

আমি আবারো বলছি, ভোট কেন্দ্র দখল করে ইতিহাসের মৃত্যু ঘটাবেন না। অনেক সময় দেখা যায় বা শোনা যায়, আমার কেন্দ্র যেভাবেই হোক দখল করবই! তাহলে ফলাফল কি হলো? অপরজনেও তো তার কেন্দ্র দখল করবেই। কারণ অগণতান্ত্রিক চর্চা। এটা কিন্তু সাধারণ মানুষেরা কোনোদিনও গ্রহণ করে না। বরং খুবই খারাপ ধারণা করতে থাকে। তাহলে আমরা কোন পথে যাবো? সোজা কথা- গণতান্ত্রিক পথে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে। উক্ত নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজার ১৯৯টি এবং ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। গত ৫ আগস্ট সারা দেশে ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষের সংখ্যা সমন্বয় করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইসি। ১০ সেপ্টেম্বর ইসির যুগ্ম-সচিব মো. আবুল কাশেম স্বাক্ষরিত ওই তালিকা সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

রংপুর অঞ্চলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ৪ হাজার ৩৩৫টি, একাদশ নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯২। রাজশাহী অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ৪ হাজার ৮১৫, একাদশে তা ৫ হাজার ১১১। খুলনা অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ৪ হাজার ৫৮২টি, একাদশে তা ৪ হাজার ৮৩৪। বরিশাল অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ২ হাজার ৩৪২, একাদশে তা ২ হাজার ৬৭৬। ময়মনসিংহ অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ৪ হাজার ৪৯৭, একাদশে তা ৪ হাজার ৭৫৯। ঢাকা অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ৫ হাজার ৭৪৯, একাদশে তা ৬ হাজার ১৫। ফরিদপুর অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ১ হাজার ৯১৭, একাদশে তা ২ হাজার ৭৪। সিলেট অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ২ হাজার ৬২৪, একাদশে তা ২ হাজার ৮০২। কুমিল্লা অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ৩ হাজার ৯৯৫, একাদশে তা ৪ হাজার ৩৫৪ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে দশম নির্বাচনে ছিল ২ হাজার ৮৫১, একাদশ নির্বাচনে হয়েছে তা ২ হাজার ৯৮২টি ভোট কেন্দ্র।

তাহলে লক্ষ্য করুন, উপরোক্ত সব কেন্দ্র কি আপনি দখল করতে পারবেন? পারবেন না। তাহলে আপনার একটি কেন্দ্র দখল করে কি লাভ? হয়তঃ সাময়িক শান্তি পাবেন। কিন্তু মৃত্যু পর্যন্ত আপনার নাম কালো ইতিহাসে স্থান পাবে। একটু চিন্তা করলে হয়তঃ মনে পজেটিভ ধারণা চলে আসতে পারে। এই পজেটিভ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে আপনার প্রার্থীকে জয়ী করে আনুন। আমরাই ফুলের মালা দিয়ে বরণ করবো। দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে বিশাল সংবর্ধনার আয়োজন করবো। এটাই তো জীবন্ত ইতিহাস। তাহলে আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না কেন? কেনই বা ইতিহাসের মৃত্যু ঘটাতে চাচ্ছি। আসুন না! সাবধান হই।

পরিশেষে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সামন্য মন্তব্য করছি। সিইসি নুরুল হুদা বলছেন অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। তাহলে নির্বাচন কমিশনের কী প্রয়োজন? প্রার্থীদের মধ্যে যাঁর যেখানে গায়ের জোর আছে, সেখানকার কেন্দ্র দখল করে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেবেন। যেখানে বাংলাদেশে নির্বাচন একদা উৎসব হিসেবে গণ্য হতো, সেখানে সেটি এখন আতঙ্কে পরিণত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

নির্বাচন কমিশনের পদাধিকারীরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কথা বলে দেশবাসীর কাছে শপথ নিয়েছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন বলে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আবারও কমিশনকে সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে এবং ভোটারদের মনের শঙ্কা দূর করা গেলে নির্বাচন–পরবর্তী অনিয়ম নিয়ে এখনই মাথা না ঘামালেও চলবে। আসুন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে ইতিহাস রচনা করি। প্রয়োজনে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করি। তাহলেই তো সত্যিকার নেতা নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে পারবো। তখনই দেশ, জাতী, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় সবই আলোর মুখ দেখবে। ইতিহাস বাঁচবে, গণতন্ত্র উজ্জ্বীবিত হবে। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

পরিশেষে হাত জোর করে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কেন্দ্র দখল করে গণতন্ত্র নষ্ট করবেন না। কারো বুক খালি করার সুযোগ দিবেন না। প্রশাসনকে উত্তপ্ত করবেন না। সুষ্ঠু ভোট প্রদানের জন্য সবাইকে সহযোগিতা করি।

লেখকঃ শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •