cbn  

সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও

চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ছড়া তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে সেলো মেশিন বসিয়ে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানোর পরও দীর্ঘদিন ধরে ইজারাবিহীন ছড়া থেকে এসব বালু লুটের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। নির্বিচারে বালু উত্তোলনের কারনে ছড়া তীর সংলগ্ন এলাকার বিপুল পরিমাণ জনবসতি, আবাদি জমি, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ খুটি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। বালু বোঝাই ট্রাক- ডাম্পারের বেপরোয়া চলাচলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চড়িবিল সেগুন বাগিচা সড়ক। এ অবস্থার ফলে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের খুটাখালী ছড়ার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতরা ক্ষেত্র-বিশেষে ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙ্গিয়ে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে বাণিজ্য। বর্তমানে ছড়া তীর এলাকায় বালু খেকোদের কেউ কেউ মেশিন বসিয়ে আবার কেউ সরকারি খাস কিংবা ব্যক্তি মালিকনাধীন জমি দখল করে অব্যাহত রেখেছে বালু লুটের মহোৎসব।এ অবস্থার কারনে বালু উত্তোলন এলাকায় খুটাখালী ছড়ার বাঁক পরিবর্তন হয়ে ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ছড়ার গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্টান, শিক্ষা ও ধর্মীয় উপসানালয়। ইতোমধ্যে ছড়াতে সহায় সম্পদ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে পাহাড়ে কিংবা অন্যস্থানে। বালু উত্তোলন বন্ধ করার কোন পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে ছড়ার তীর এলাকার মানুষের মাঝে নতুন করে বেড়েছে অজানা আতঙ্ক ।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, খুটাখালী ছড়ার উজানে জয়নগরপাড়া-চড়িবিল-গোলডেবা থেকে শুরু হয়ে নীচের পয়েন্টে ফরেস্ট অফিসপাড়া, জলদাশ পাড়া,রাবারড্যাম,খাসঘোনা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মেশিন বসিয়ে একাধিক চক্র বালু উত্তোলন কাজে জড়িত রয়েছে। এসব বালু প্রতিদিন শত শত ডাম্পার,মিনি ট্রাক যোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ইউনিয়নের চড়িবিল,অফিসপাড়া পয়েন্ট থেকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বালু লুটচক্ররা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন অব্যহত রয়েছে।
এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন, ছড়া থেকে উত্তোলনকৃত বালু নিয়ে ডাম্পার,মিনিট্রাক গাড়ি গুলো গন্তব্যে যাওয়া-আসা করতে গিয়ে চড়িবিল- সেগুনবাগিচা সড়কসহ এলাকার বেশিরভাগ গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।এতে সড়ক গুলো চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা।
অপরদিকে এসব সড়কে বালু বোঝাই গাড়ির বেপরোয়া চলাচল করার সময় নানা ধরণের দূর্ঘটনাও ঘটছে।
সুত্র জানায়, উপজেলার খুটাখালীতে অন্তত ৩টি বৈধ বালু মহাল রয়েছে। এসব বালু মহাল প্রতিবছর সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু গেল বছর খুটাখালী ছড়ার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে পাশ্ববর্তী সরকারি ইজারা নেয়া বালু মহাল গুলোতে বেচাবিক্রি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
খুটাখালী ছড়া থেকে অবশ্য বালু উত্তোলন করা যায়। তা করতে হবে ছড়ার মাঝ পয়েন্ট থেকে। তবে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতরা তা না করে বালু উত্তোলন করছেন ছড়ার তীর এলাকা থেকে। এরই ফলে নদীর তীর এলাকার মানুষ গুলি হারাচ্ছে তাদের বাপ-দাদার বসতভিটাসহ মূল্যবান সম্পদ।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন,নদী- ছড়া তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়। তাছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে বেশ কয়েকটা সেলো মেশিন ও পাইপ জব্ধ করা হয়েছে। বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •