cbn  

|| মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী ||

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে অযুত-লক্ষ জনতার আবেগ আর ভালবাসার স্রোতে ভাসলেন চকরিয়া-পেকুয়ার গণমানুষের ভালবাসার মানসপুত্র, পেকুয়া উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা, দি প্রিন্স অব কক্সবাজার, সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহামদের সহধর্মিনী একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট হাসিনা আহামদ। এ যেন গণ মানুষের বন্যা। চোখে নাদেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা। অভাবনীয় এক দৃশ্য। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু মানুষ আর মানুষ। যেন দীর্ঘদিনের বন্দীশালা থেকে সবেমাত্র মানুষকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ভালবাসা আর আবেগ যেন কোন প্রিয়জনকে খোঁজে বেড়ায়। সবখানেই জনতা আর জনপদ মিলেমিশে একাকার। পূর্ব নির্ধারিত কোন কর্মসূচি ছিলনা। কোন প্রচার-প্রচারনাও ছিলনা। তারপরও কেন চকরিয়া-পেকুয়ার রাস্তায় রাস্তায় মানুষের এই ঢল? কেন এভাবে মানুষ জড়ো হওয়া ? কেন এই অপ্রতিরোধ্য জনতার স্রোত। এ প্রশ্নের একটি উত্তরই মানুষ বার বার বলেছে, সেটা হলো-এ এলাকার মানুষের নয়নমনি, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহামদকে মানুষ স্বচক্ষে দেখছেননা, দীর্ঘ প্রায় চার বছর। এ নাদেখার তৃঞ্চা মেঠাতেই তাঁর সহধর্মিনী এডভোকেট হাসিনা আহামদ কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট্রের একক প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় আসছেন, তাঁকে একনজর দেখেই প্রিয় নেতাকে দীর্ঘদিন নাদেখার তৃঞ্চা মেঠানোর লক্ষে এভাবে পথে, রাস্তায় সর্বত্র মানুষের জড়ো হওয়া।
বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট হাসিনা আহামদ কক্সবাজার জেলার ভিআইপি আসন খ্যাত কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের একক প্রার্থী হিসাবে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে ২৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে বারটার দিকে পৌঁছালে সেখানেই শুরু হয়, তাঁকে স্বাগত জানাতে যাওয়া মানুষের উপছেপড়া ভীড়। বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ কামাল হোসেনের অফিসে গিয়ে যথারীতি কক্সবাজার-১ আসনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এডভোকেট হাসিনা আহামদ। সেখান থেকে বেলা আড়াইটার দিকে রওয়ানা দেন নিজ সংসদীয় এলাকা চকরিয়া ইউএনও অফিসের উদ্দ্যেশে। সেখানে বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে পৌঁছানোর পর চোখে পড়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। চকরিয়া উপজেলা পরিষদের পার্শ্ববর্তী মাঠ, মগবাজার, চিরিঙ্গা রোড সহ আশে পাশের এলাকা লোকে লোকারন্য। গণমানুষের ভীড় ঠেলে এডভোকেট হাসিনা আহামদ কোনরকমে চকরিয়া ইউএনও অফিসে গিয়ে রিটার্নিং অফিসারের নিকট ইতিপূর্বে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের অনুলিপি জমা ও কুশল বিনিময়। এরপর পেকুয়ার উদ্দ্যেশে রওয়ানা। সেখানেও লোকজন রাস্তাঘাটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উন্মুখ হয়ে আছেন এডভোকেট হাসিনা আহামদকে একনজর দেখার জন্য।

পরশ্রীকাতর, নিন্দুকেরা উঁকি মেরে শুধু চেয়ে থাকছে। অবাক বিষ্ময়ে চিন্তা করছে- মানুষের জন্য মানুষের কি অদ্ভুত ভালবাসা। কি আকর্ষণ। রক্তচোষা প্রতিদ্বন্দ্বীরা কপালের ভাঁজ ফেলে চিন্তা করছে, এখানে ঠিকে থাকা কিভাবে সম্ভব? তারা ভাবছে, এই জনবান্ধব গুনবতী মহিলাই তো ওয়ান ইলাভেন সরকারের রোষানলে পড়ে স্বামী সালাহ উদ্দিন আহামদ কারাবন্দী থাকাবস্থায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর স্বামী সালাহ উদ্দিন আহামদই তো এ আসনে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধরাশায়ী করে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যে সালাহ উদ্দিন আহামদ লোভনীয় প্রশাসন ক্যাডারের চাকুরী ছেড়ে জনসেবার উদ্দ্যেশে নিজেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছিলেন। সমালোচক আর রাজনৈতিক দূর্বৃত্তরা চিন্তমগ্ন হয়ে পড়েছে, কিভাবে এ গণজোয়ার ঠেকানো যায়। জেগে উঠা মানুষ গুলোর মনোবল এতই শক্ত, আর বিশ্বাস এতই দৃঢ়, তাদের নিষ্কলুষ চেহারা বলে দিচ্ছে, হউক অসমতল, হউক প্রশাসনিক বৈষম্য, তারপরও জানবাজি রেখে ময়দানে লড়ে যাবো, বিজয় নিশ্চিত নাহওয়া পর্যন্ত।

গণমানুষের এই জোয়ারের সাথে একাত্ম হতে যেয়ে বার বার নির্বাচনী আচরনবিধি ঠেকিয়ে দিচ্ছে এডভোকেট হাসিনা আহামদের আগ্রহ ও দায়িত্ববোধকে। বিধি’র কলে পড়ে এডভোকেট হাসিনা আহমদ চাল ফুটা করা জীপ গাড়ি থেকে উৎসুক জনতাকে হাত উঁচিয়ে দেখানো ছাড়া আর কোন কথা বলতে পারেননি। এভাবে সমগ্র রাস্তা যেতে যেতে পেকুয়া সদরে পৌঁছার পর পরই সূর্যটা অস্থমিত হয়ে জানান দেয়, আমিও ছিলাম তোমাদের হৃদয় নিংড়ানো এই যাত্রার আলোকবর্তিকা হিসাবে। সেখানে পেকুয়া চৌমুহনীতে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষ উজ্জীবিত জনতা শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে পুরো এলাকা। এভাবেই কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করে চকরিয়া হয়ে পেকুয়া পর্যন্ত যাওয়া। এ শুভ যাত্রা অব্যাহত থাকুক ৩০ ডিসেম্বর বিজয়ের মালা বরন করা পর্যন্ত। নিরন্তর শুভেচ্ছা চকরিয়া-পেকুয়ার জাগ্রত জনতার প্রতি। তোমাদের বীরত্ব, ত্যাগ, অদম্য সাহস আর ভালবাসা স্থান করে নিক ইতিহসের পাতায় পাতায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •