cbn  

*৬ আসনে নতুন মুখ
*থাকছেন বিকল্প প্রার্থীও

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম :

মহানগরীর তিনটি আসনসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ১৬টি আসন ও তিন পার্বত্য জেলার তিনটি আসন মিলিয়ে এ অঞ্চলের ১৯টি নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি জোটের মনোনয়ন চুড়ান্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি আসনে বিকল্প প্রার্থীও থাকছেন। চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি নির্বাচনী আসনে তিনটি আসন শরিক দলকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তার মধ্যে চন্দনাইশ আসনে এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, সাতকানিয়া আসনে জামায়াত ও রাঙ্গুনিয়া আসনে এলডিপির উত্তর জেলার সভাপতি নুরুল আলমের মনোনয়ন চুড়ান্ত করা হয়েছে।

বাকী ১৩টি আসনে আজ মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রায় কয়েকটি আসনে একাধিক প্রার্থীকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, চট্টগ্রাম-১ মীরসরাই আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুফ ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দীনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার।

সূত্রটি জানিয়েছে, হাটহাজারী আসনটি ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসনটি নিজেদের পকেটে রেখেছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের বাইরে এবার চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনটিও টেনে নিয়েছে এলডিপি। এ আসনে এলডিপির প্রার্থী হয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলম। তিনি এ আসনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেরুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ আসনে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

একইভাবে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরীও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু মা-ছেলে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপির হাইকমান্ড। রাউজানে প্রার্থী হিসেবে সামির কাদের চৌধুরীর নাম চুড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রটি জানিয়েছে। সামির কাদের বিএনপির কেন্দ্রী ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। গিয়াস কাদের এখন কারাগারে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় বর্তমানে কারাগাওে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারকে প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে। এ আসনে তিনি প্রথমবারের মতো ধানের শীষের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। এ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়েছে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে। কারাবন্দি এ বিএনপি নেতা প্রথমবারের মতো এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য। এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য এম এ জিন্নাহ কিংবা চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট কামাল উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুজনই বাদ পড়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

বাকি ১০টি আসনে ২০ দলীয় জোটের যেসব প্রার্থীকে চুড়ান্ত করা হয়েছে তারা হলেন-চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) লায়ন আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) এম মোরশেদ খান, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী) আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) গাজী শাহজাহান জুয়েল, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার জামাল নিজাম এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ২০ দলীয় জোটগত মনোনয়ন পাচ্ছেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগড়া) আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিচ্ছে ২০ দলের শরিক জামায়াত ইসলামকে। স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী হচ্ছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম। তবে একই আসনে জাময়াতের কেন্দ্রীয় অপর নেতা সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীও মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •