cbn  

॥ রেবেকা সুলতানা আইরিন ॥
কক্সবাজার সদর-রামু আসনের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আইন উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য, সাবেক ছাত্র নেত্রী, দলের নির্যাতিত, নিপীড়িত নেতাকর্মীদের সাহসের ঠিকানা, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সমুদ্রকন্যা এড. নাসরিন সিদ্দিকা লীনা বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ শব্দ দুটি একটি অপরটির পরিপূরক। দুটি শব্দকে আলাদা করে বিবেচনা করা যায় না। বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশই বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর বঙ্গবন্ধু একাকার হয়ে যায়। বাঙালীর অস্তিত্ব রক্ষা আর শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু সারাজীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করে গেছেন। এটা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না। তাঁর জীবনচরিত এবং সংগ্রামী জীবন আলোচনা করলে দেখা যায় সমসাময়িক বিশ্বে নির্যাতিত নিপীড়িত সুবিধাবঞ্চিত জনমানবের জন্য যে কয়েকজন বিশ্বনন্দিত নেতা আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্যে লালিত হচ্ছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু, নেতাজী সুভাষ বোস, মহাত্মা গান্ধী, লেনসন ম্যান্ডেলা অন্যতম।
বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় বাংলার নির্যাতিত নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত মানুষের সুখ-শান্তির জন্য নিজের চাওয়া-পাওয়া, আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে, জেলজুলুম হাজতবাস ইত্যাদিতে নিজেকে বিলীন করে দিতে কার্পণ্য করেননি। অন্যায় অবিচার অত্যাচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার রয়েছেন। কোন অন্যায় অবিচার মিথ্যার কাছে নতি স্বীকার বা মাথানত করেননি এবং আপোসও করেননি। অন্যায়ের কাছে আপোষ করলে জীবনে অগাধ ধনসম্পদের মালিক হতে পারতেন। ক্ষমতা এবং সহায়-সম্পত্তির প্রতি তাঁর কোন লোভ-লালসা ছিল না। তাঁর ক্ষণস্থায়ী জীবনে যে নীতি আদর্শ এবং অনুপ্রেরণার ঐতিহ্য রেখে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে প্রজন্ম পরম্পরায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা যায় তিনি এতই ত্যাগী মনোভাবাপন্ন ছিলেন যে, তাঁর নিজের ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা, ভরণ-পোষণের দিকেও মনোযোগ দিতে পারেননি। সংসার কিভাবে চলবে তারও খোঁজখবর নেয়ার মতো সময় পাননি।
৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আমি শুনেছি ও বিচার বিশ্লেষণ করেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন অকুতোভয় অসম্ভব রকমের দক্ষ সাহসী সংগঠক ছিলেন। কোন নেতা-কর্মী সামনে এলে তার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলতেন যেন কতকাল থেকে তাকে চিনেন। একজন সাধারণ কর্মীকেও গায়ে হাত দিয়ে আশ্বাসবাণী শুনার সঙ্গে সঙ্গে আদর সোহাগ বুঝিয়ে দিতেন। এমন জাদুকরী সাংগঠনিক শক্তির কারণে তিনি পুরো জাতি এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি এক মহানায়ক। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার প্রায় ৪৭ বছর পার হলেও আমরা হিংসা বিদ্বেষ কুলষমুক্ত আদর্শবাদী চরিত্র ধারণ করতে পারিনি। হীনমন্যতার কারণে আমাদের কেউ কেউ এমন একজন বিশ্ব নেতাকে এখনও দলের ঊর্ধ্বে জাতীয় নেতা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেনি। এক শ্রেণীর মানুষ এখনও হিংসা-বিদ্বেষ-অহঙ্কার এবং পরশ্রীকাতরতার কারণে নানাভাবে কটূক্তি বিদ্রোপাত্মকভাবে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে থাকেন, যা জাতি হিসেবে বোধ ও মর্যাদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ হয় না।
বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাও আমাদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর রক্তের ধারাবাহিকতা প্রবাহমান আছে। শেখ হাসিনা অত্যন্ত দূরদর্শী পরোপকারী মনোভাব নিয়ে দেশ শাসন করার চেষ্টা করছেন। জেল-জুলুমে নির্যাতিত স্বাধীনতা অর্জনকারী পিতার কন্যা দুর্নীতিপরায়ণ হতে পারেন না। তিনি পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনহারা এক দুঃখিনী মায়ের ভূমিকায় লোভ-লালসাহীনভাবে নিজেকে দেশের সেবাব্রতে নিবেদিত করেছেন। পিতার আদর্শ-নীতির সূত্র ধরে শেখ হাসিনা লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন। দেশ শাসন করতে হলে ভালমন্দ অনেক কিছু বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হয়। তার অক্লান্ত পরিশ্রম সামগ্রিকভাবে বিশ্বের চতুর্থ নম্বর দরিদ্র দেশকে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করা জাদুর কাঠি আলাদিনের চেরাগের মতো মনে হতে পারে। প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতিকে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বললে খুব একটা বেশি বলা হবে না। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ একশ’ নেতার মধ্যে ২১ নম্বরে স্বীকৃতি পাওয়া এবং বিশ্বের ক্ষমতা ও শক্তিধর মহিলাদের মধ্যে ২ নম্বরে স্থান পাওয়া একটি গর্বের বিষয়। বহু পুরস্কারে ভূষিত উদ্ভাসিত নেতৃত্বের জন্য আমরা গর্ববোধ করতে পারি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার যে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে তা আশা করা যায় বাস্তবে পরিণত হবে। আমরা যদি হিংসা বিভেদ ভুলে পরস্পরকে সহমর্মিতা ও ভালবাসা দিয়ে শ্রদ্ধা করতে পারি এবং শেখ হাসিনার নিরলস ও নিরঙ্কুশ পদক্ষেপগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করি তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য যে কোন একজনের নেতৃত্ব দরকার। সেই জায়গায় শেখ হাসিনা অনন্য ও অদ্বিতীয়।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মিলিটারি শাসন তথা সামরিকতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটান। তিনি একাত্তর-পঁচাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও খুনীদের বিচার করে আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত অনুন্নত দরিদ্র দেশটি আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে রূপান্তরের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গড় আয়ু, জিডিপি ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে বহু উন্নত দেশকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। এসব কারণে বিশ্ব নেতৃত্বে অনেক এগিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। বলা যায়, আন্তর্জাতিক পরিম-লে তার গুরুত্ব এখন অপরিসীম।

কেন্দ্রীয় নেত্রী এড. লীনা বলেন, যার হাতে নৌকা আমি এবং আমরা তার। এদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু কণ্যার দেশপ্রেমকে মূল্যায়ন করে নৌকায় ভোট দিবেন।
আমি মুজিব আদর্শের একজন বিশ্বস্তকর্মী। দলের স্বার্থে, দেশে স্বার্থে নেত্রীর যেকোন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার উদার মানষিকতা আমার আছে। নৌকা যার, আমি বা আমরা তার। এদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যার আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে মূল্যায়ন করে দেশের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দিবেন।
এজন্য প্রতিটি ভোটার কাছে শেখ হাসিনার সালাম আমরা পৌছাব। তিনি আরো বলেন, আমাদের মা, বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা, বাবা জানি প্রতিটি সন্তানের কাছে তার মা, বাবা শ্রেষ্ঠ। আজ লিখছি আমার বাবা মা’র কথা। জনাব, সৈয়দুল হক, পেশায় আইনজীবী, আওয়ামী লীগের অদৃশ্যমান কর্মী আর মা সামশুন নাহার একজন সুগৃহীনি। ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে বাবার আদেশ। আব্বু বলতেন, শিক্ষা হচ্ছে সম্পদ। আমার আব্বু ব্যাংক ব্যালেন্সে আগ্রহী ছিলেন না, বলতেন আমরা হলাম আব্বুর সম্পদ। ছোটকালে আমাদের ভাইবোনদের পড়ালেখার জন্য চাপ দিতেন না, তবে বলতেন, বাবা মা সন্তানের জন্য যাকিছু করেন তার কোন প্রতিদান চাননা এবং তা দেয়াও যায়না। তবে সন্তান যখন ভাল কাজ করে, ভাল রেজাল্ট করে সুনাম অর্জন করে, তখন সন্তানের সেই প্রাপ্তি হয়ে যায় বাবা মার প্রাপ্তি। তাই শিক্ষা জীবনের প্রতি ধাপে ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অধিকারের চেষ্টা করতাম, ৫ম শ্রেণিতে ২য় গ্রেড, ৮ম শ্রেণিতে ১ম গ্রেড এ বৃত্তি লাভ করি, এসএসসি, এইচএসসিতে ১ম বিভাগে স্টার মার্কসহ সব রেজাল্টই ছিল আব্বু আম্মুকে কিছু উপহার দেয়ার চেষ্টা।
এবার আব্বুর ভাষায়, রাজনীতি মানেই দেশপ্রেম, জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কান্ডারী হাতে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সেøাগান হচ্ছে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মার্কা হচ্ছে নৌকা। আব্বু ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে অধ্যয়নরত কালে ঢাকায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কাউন্সিলর হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। যখন ছাত্রলীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং ৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন, এর পর ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান, তখনও দেখেছি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, আমাদের বাসায় নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ এর নেতাকর্মীগণ গোপন বৈঠক করতেন, আম্মু তাদের রান্না করে খাওয়াতেন, আমাদের বাসাটা যেন নির্বাচনী ক্যাম্প। তখন আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। এরপর ১৯৯২ যখন কলেজে পড়া শুরু হলো, আব্বুর অনুমতি চাইলাম রাজনীতিতে আমি সক্রিয় হতে শুরু করলাম তখন আব্বুর কাছে রাজনীতি করার অনুমতি চেয়ে দরখাস্ত লিখলাম, দরখাস্ত নামঞ্জুর করে বললেন, মেয়েরা রাজনীতি সচেতন হওয়া ভাল, তবে এতো একটিভ হওয়ার দরকার নেই, কারণ কক্সবাজারে মহিলাদের রাজনীতি করার পরিবেশ নেই। কি আর করা আব্বুকে না জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে নাম লিখালাম। ১৯৯৩-৯৫ সেশনে কক্সবাজার সরকারি কলেজ শাখার, ১৯৯৬-৯৮ কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। কক্সবাজার এর শিক্ষা জীবন শেষ হলে ঢাকায় এসে ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং সেন্ট্রাল ল কলেজে লেখাপড়া শুরু করলাম। আব্বুর ইচ্ছা আইন বিষয়ে পড়ালেখা সম্পন্ন করে বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়ে জুডিসিয়ারীতে আমার কর্মজীবন শুরু করব, আর আমার ইচ্ছা প্র্যাকটিস করে পলিটিক্স সমান গুরুত্ব দিয়ে করব। যে কারণে ১৯৯২ সাল থেকে কক্সবাজার এ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতির যাত্রা শুরু। ছাত্র পরিষদ এর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, এর পর ২০০৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর তৎকালীন আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. সাহারা খাতুন এন্ড এসোসিয়েট এ পেশাগত এবং আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (বর্তমান বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ) এ রাজনৈতিক জীবনের পথচলা শুরু করি। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আছি।
২০০৫ সালে আব্বু আম্মুর সম্মতিতে আল্লাহর ইচ্ছায় সাবেক ছাত্রনেতা লিখনের সাথে বিয়ে কারণ ও ছেলে ভালো। আওয়ামী পরিবারের সন্তান, যুদ্ধকালীন সময়ে লিখনের আব্বু মো. মুজিবুর রহমান আড়াই হাজার থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলেন। বিয়ের পর প্র্যাকটিস ও পলিটিক্স এ বাধা দিবেনা। তাই হলো। আর আমার শ্বাশুড়ি শুধু মায়ের মতোই নয় বরং আমার সংসারে আল্লাহর রহমত। আমার মায়ের মতো আরও একজন বন্ধু। আমাদের লক্ষী দুটো সন্তান জারিফ আর নামিরা। তারা স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে বাবা মায়ের মতো আইনজীবী ও মুজিব আদর্শের সৈনিক হবে।
আব্বুর উপদেশ রাজনৈতিক কর্মকা- কমাও, মন দিয়ে প্র্যাকটিস করো আর বাচ্চাদের সময় দাও, তাও পারিনা। নিজেকে মুজিব আদর্শের সৈনিক মনে করে আওয়ামী রাজনীতিতে এতটা সম্পৃক্ত হয়ে গেছি যে, আব্বুর উপদেশ পালন করতে পারি না। আব্বু আমি ক্ষমা চাই, আমি আপনার ইচ্ছা পূরণ করতে পারি নি।
আব্বুকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলেন আপনি কি পেয়েছিলেন? আব্বু বললেন, স্বাধীন বাংলাদেশ। আমি বললাম আর কিছু!
আব্বু বললেন মন দিয়ে শোন, পৃথিবীতে দুটো শ্রেণি আছে, একটি দাতা প্রেমী, যারা রাজনীতি করে দলকে দিবে বলে, যাতে দল দেশকে দিতে পারে। আর অপর শ্রেণি গ্রহিতা, যারা রাজনীতি করে দল থেকে পাওয়ার জন্য। আব্বু চান তাঁর সন্তানেরা দাতা শ্রেণিতে থাকবে। যাক, আশা করছি আব্বুর এই ইচ্ছা পূরণ করতে পারব, ইনশে আল্লাহ্। আর একটি কথা মনে পড়ছে, ছোটকালে আব্বু একদিন আমাদের ভাই বোনদের ডেকে বললেন, তোমাদেরকে সবচেয়ে বেশি কে ভালোবাসে আর কে তোমাদের জন্য বেশি কষ্ট করে? আমরা ৫ ভাইবোনের সবাই বললাম আব্বু আম্মু দুজনেই। আব্বু বললেন উত্তর ঠিক হলো না, আম্মুই আব্বুর চেয়ে বেশি ভালোবাসেন এবং বেশি কষ্ট করেন। কারণ মা সন্তানকে ৯ মাস নিজের পেটে ধারণ করেন এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ করে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে যে শ্রম মেধা দেন তা বাবা দেন না। আল্লাহ তাই বলেছেন মায়ের পায়ের নিচে সন্তান এর বেহেস্ত।
আব্বু আমরা চেষ্টা করছি, আলোকিত মানুষ হতে, আপনার সন্তানদের নিয়ে যেন আপনারা গর্ব করতে পারেন।
দেশপ্রেমকে পুঁজি করে সেবার মানসিকতা নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে নিজেকে তৈরি করেছি। কক্সবাজারে আমার মতো একজন প্রতিনিধি দরকার আছে এ বোধ থেকে ঢাকার ব্যস্ত জীবনকে ফাঁকি দিয়ে, প্রয়োজনে কিংবা নাড়ির টানে ছুটে যাই প্রাণের ঠিকানা কক্সবাজারে। বৃহত্তর ঈদগাঁও আমার দাদার বাড়ি, কক্সবাজার পৌরসভা আমার নানার এবং বাবার বাড়ি। রাজনীতি আমার পেশা নয়, এটি আমার দেশপ্রেম এর সাধনা। কক্সবাজারবাসীর জীবনমান উন্নত করতে, আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত সকল প্রকল্পের বাস্তবায়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন চাই। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •