cbn  

এমএ সাত্তার:
মদ, নারী আর তাশ-এই তিনেই সর্বনাশ। পর্যটন শহর কক্সবাজারের অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেলে প্রকাশ্যে চলছে পতিতাবৃত্তিসহ নানা অপরাধ। শহরের টপ টেররদের চাঁদাবাজি, মাদক, নারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হয় এসব হোটেল থেকেই। এখানে বসানো হয় নারী দেহের পসরা। শুধু আবাসিক হোটেল নয়- অপরাধ চালানো হয় বাসাবাড়ী ও আবাসিক মেসকেন্দ্রিক। অভিযোগ রয়েছে- এসব কাজে খোদ মলিকপক্ষই জড়িত। স্বাভাবিক ব্যবসা মন্দা- তাই পতিতাবৃত্তি করে হোটেলগুলো চালানো হয় বলে অনেক হোটেল মালিক জানিয়েছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে অবৈধ দেহ ব্যবসা। তবু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না।

লালদীঘির দুইপাড়ই এখন অনেকটা পতিতার হাঁট হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেছে। পতিতা খদ্দের এখানে মিলিত হয়। ২৪ ঘন্টা চলে কেনা বেচা। ভুলা বাবুর পেট্রোল পাম্প থেকে শুরু করে থানা রাস্তার মাথা পর্যন্ত ‘পতিতার হাঁট’ বিস্তৃত। ক্রমশঃ বাড়ছে পতিতা বাজার।

বিশেষ করে, কক্সবাজার সদর মডেল থানার সন্নিকটে শহরের প্রাণ কেন্দ্র লালদিঘীর আশপাশের আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রকাশ্য অসামাজিক কর্মকান্ড চলছে বলে খবর পাওয়া যায়।

সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের অাবাসিক হোটেলগুলির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা দেহ ব্যবসা, মদ, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনিসহ অন্যান্য অসমাজিক কাজ চালিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে। এই হোটেলগুলি বর্তমানে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসী, মাদক বিক্রেতাদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এমন কোনো কুকর্ম নেই যা হোটেলগুলোতে হচ্ছে না। এসব হোটেলসহ অন্যান্য হোটেলগুলোতে একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে দেহ ব্যবসা। যেন দেখার কেউ নেই। আবাসিক হোটেল ছাড়াও একটি চক্র স্বামী-স্ত্রী পরিচয়েও বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে অবাধে দেহ ব্যবসা করছে।

শহরের লালদীঘিপাড়স্থ জিয়া কমপ্লেক্সে আমেনা গেস্ট হাউস, হোটেল জিয়া, হোটেল পাঁচ তারা, নজরুল বোর্ডিং, এহেছান বোর্ডিং, হোটেল সাতকানিয়া, হোটেল নিশীথা, গোল্ডেন হোটেলসহ আরো শতাধিক আবাসিক হোটেলে কোন বর্ডার থাকে না। যারা রাত দিন অবস্থান করে তারা মুলত: স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দালাল-খদ্দের-পতিতা। ওই হোটেলগুলিতে একশ্রেণির দালাল চক্র বিভিন্ন এলাকা থেকে পতিতাদের চুক্তি করে নিয়ে এসে হোটেলে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে বর্ডার সেজে অবস্থান করে হোটেল মালিকদের সাথে যোগসযোসে ভিন্ন কৌশলে দেহ ব্যবসা করে যাচ্ছে। আবার অনেক দালাল নিজেরাই বাসা ভাড়া করে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নজরুল বোর্ডিংয়ের এক কর্মচারি জানায়, শুধু এই হোটেল নয়, কক্সবাজারের প্রায় প্রত্যেকটি হোটেলেই দেহ ব্যবসা চলে। হোটেলে দেহ ব্যবসা করে না এটা বোকাও বিশ্বাস করবেনা। জেনোইন পতিতাদের পিছনে নারী পরিছন্ন কর্মীর তকমার আড়ালে দেহ ব্যবসা করছে শতশত হোটেল, মোটেল, কটেজের মালিক। আর এই দেহ ব্যবসার বখরা নিয়মিত স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে যায়।

দেহ ব্যবসা নিরাপদে করতে হোটেল মালিক ও দালালরা স্থানীয় কিছু মাস্তান ও গুন্ডা পালে। প্রতিদিনের আয়ের একটি অংশ তাদেরকে দিয়ে থাকে এ অবৈধ ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দালাল জানান, হোটেল মালিক ও দালালদের সঙ্গে পুলিশের মাসিক চুক্তি রয়েছে।তবে পুলিশ চাইলে একদিনের মধ্যেই এসব অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। অবাধে দেহ ব্যবসা করার কারণে সমাজে এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আবাসিক হোটেলসহ দেহ ব্যবসাসহ মাদকের আগ্রাসন বন্ধে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল। শহরের প্রাণ কেন্দ্রের গুরুত্বপুর্ণ স্থানগুলিতে পতিতাদের দৃশ্যমান বিচরণ, সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি ও চলাফেরার কারণে আদালত পাড়াসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্টানে সেবা নিতে যাওয়া-আসা সাধারণ মানুষকে নিত্য নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে জানান ভুক্তভোগীসহ প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি।

তারা জানান, এই হোটেলগুলির আশপাশে মসজিদ, মন্দির, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ অফিস (দপ্তর) থাকার কারণে সময়ে একা বা ফ্যামেলির অন্য সদস্যদের সাথে এসব হোটেলের নিকট থেকে যাওয়ার সময় বেগ পেতে হয়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার কোর্টে কর্মরত আইনজীবি আমজাদ আলী খাঁন এই জনপদে ৫৩ বছরে পদার্পন ও কোর্টে তার সুদীর্ঘ ১৭ বছরের ওকালতী জীবনের অভিজ্ঞার কথা জানিয়ে বলেন, দিন বদলের সাথে সময়ের ব্যবধানে আমরা অনেক পরিবর্তন, সংযোজন লক্ষ্য করছি। কিন্তু এই কক্সবাজারের লালদীঘির পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকার চিত্রের কোন পরিবর্তন যেন অভিশপ্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সব স্থাপনাগুলি পাপসহ্য করতে না পেরে মাঝে মধ্য জ্বলেপুঁড়ে যেতেও দেখা যায়। অনেক দিন ধরে দেখে আসছি কক্সবাজারের বিতর্কিত কিছু হোটেলে এই অসমাজিক কার্যক্রম চালাচ্ছে রুচি বিকৃত কিছু লোক। আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসৎ লোকের সাথে হোটেলগুলোর মালিক বা ভাড়াটিয়াদের সাথে মাসিক চুক্তি অনুসারে এই অবৈধ কাজ চালাচ্ছে বলেও মন্তব্যে করেন তিনি।

হোটেল সাতকানিয়াসহ আরো কয়েকটি হোটেলে দালালীর সাথে জড়িত মো: নেজান উদ্দিন (প্রকাশ জাপানি কালু) এর সাথে পরিচয় গোপন করে কৌশলে কথা বলে জানা গেছে জিয়া কমপ্লেক্সের হোটেল জিয়াতে প্রকাশ্য চলছে দেহ ব্যবসা, মদ, জুয়া, মাদক বিকিকিনি। বলতে গেলে এ হোটেল সরকারি হয়ে গেছে। স্থানীয় এলাকার এক বখাটের নিয়ন্ত্রণে এ হোটেল চলে।

হোটেল সাতকানিয়া, পাঁচ তারা হোটেল, নজরুল বোর্ডিং, এহেছান বোর্ডিং, হোটেল জিয়া (জিয়া কমপ্লেস) তে অনেক আগে থেকে কোন গেষ্ট উঠে না বা থাকে না, যারা অবস্থান করে তারা মুলত: স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে পতিতা-খদ্দর-দালাল। হোটেল মালিক ও ভাড়াটিয়া এবং স্থানীয় কিছু লোক মিলে প্রশাসনের সাথে প্রতি মাসে মোটা অংকের চুক্তিতে এ হোটেলগুলিতে অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে।

প্রশাসন চাইলে এদেশে এক মিনিটের ভিতর যাবতীয় অপরাধ বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে কিন্তু তারা এসব বন্ধ না বরং করতে উৎসাহ ও সহযোগীতা দেয় বেশী। মাঝে মধ্যে ডিবি বা থানা পুলিশ অভিযানের নামে নাটক করে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে মাত্র।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো: ফরিদ উদ্দীন খন্দকার জানান, শহরের কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাকে কোন ছাড় দিচ্ছেন। নিয়মিত অভিযান চলছে । প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিট মাদক, সন্ত্রাস, মদ, জুয়া পতিতার ব্যাপারে জিরুটলারেন্স গ্রহনে চ্যালেন্স নিয়ে প্রত্যেক এলাকায় কাজ করছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারে একাধিক হোটেলে প্রকাশ্য দেহ ব্যবসা ও অসমাজিক কাজ চলার অসংখ্যা অভিযোগ পাওয়ার পর এব্যাপারে দৈনিক বাঁকখালী সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে জিয়া কমপ্লেক্স এর একই মার্কেটের দক্ষিণ পাশে হোটেল জিয়া’তে দেখা যায় প্রকাশ্য পতিতা-খদ্দের ডুকছে আর বের হচ্ছে

সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে জিয়া কমপ্লেক্স এর একই মার্কেটের দক্ষিণ পাশে হোটেল জিয়া’তে দেখা যায় প্রকাশ্য পতিতা-খদ্দের ডুকছে আর বের হচ্ছে। অথচ এই জিয়া কমপ্লেক্সের ভিতরের গলি, আর ইডেন গার্ডেনের পশ্চিমের গলি দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষ ডিসি অফিসসহ সরকারি, বেসরকারি অন্যান্য অফিসে আসা যাওয়া করছে। কিন্তু এসব প্রকাশ্য অপকর্ম দেখে দেখে সবাই যাওয়া আসা করতে দেখা গেলেও, এ এলাকা দিয়ে নিত্য আতংকে মানুষ আসা যাওয়া বা চলাচল করেন বলে জানান ওই হোটেলের পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার।

এ হোটেলে এসব ব্যবসার সাথে কে বা করা জড়িত এ ব্যাপারে পার্শ্ববর্তী দোকানদারদের অনেকের কাছে জানতে চাইলে তারা কেউ ভয়ে মুখ খুলেনা। তবে নাম ঠিকানা গোপন রাখার শর্তে একজন বলেন কয়েকজন স্থানীয় যুবকের সেল্টারে এই হোটেলে ২৪ ঘন্টা অসমাজিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এই মার্কেটের মালিক মৃত আব্দুল হক এর পুত্র বখতিয়ার আহাম্মদ শাহিন তার কর্মচারী মোহাম্মদ সেলিম।

প্রাপ্ত সুত্রে জানা যায়, জিয়া কমপ্লেক্সস্থ আমেনা গেস্ট হাউজ, পাঁচতারা বোর্ডিং, নজরুল বোর্ডিং। বঙ্গবন্ধু সড়কের হোটেল সাতকানিয়া , হোটেল ফরিদিয়া, শাহপীর বোর্ডিং, হোটেল মেমোরী, ফরিদিয়া বোর্ডিং, এন্ডারসন রোডের হোটেল গার্ডেন, হোটেল নিশিথা, সৌদিয়া, যমুনা গেস্ট হাউস, প্রধান সড়কের হোটেল রাজমনি, হোটেল জিলানী, হোটেল আল নিজাম, হোটেল আল মুবিন, বাজারঘাটার হোটেল গোল্ডেন ইন, সী-হার্ট রিসোর্ট, রয়েল বোর্ডিং, জিয়া কমপ্লেক্সস্থ আমেনা গেস্ট হাউজ, হোটেল জিয়া পাঁচতারা বোর্ডিং, নজরুল বোর্ডিং। বঙ্গবন্ধু সড়কের হোটেল সাতকানিয়া , হোটেল ফরিদিয়া, শাহপীর বোর্ডিং, হোটেল মেমোরী, ফরিদিয়া বোর্ডিং, এন্ডারসন রোডের হোটেল গার্ডেন, হোটেল সৌদিয়া, যমুনা গেস্ট হাউস, প্রধান সড়কের হোটেল রাজমনি, হোটেল জিলানী, হোটেল আল নিজাম, হোটেল আল মুবিন, বাজারঘাটার হোটেল গোল্ডেন ইন, সী-হার্ট রিসোর্ট, রয়েল বোর্ডিং, আল হোসাইন, হোটেল শাহেরাজসহ অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেলে প্রকাশ্যভাবে পতিতা ও অন্যান্য অসমাজিক কাজ চলছে।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, এইচ এম মাছুদুর রহমান জানান তিনি নতুন এসেছেন বিধায় এখনো এসব এলাকা চিনেন না, তারপরও নিউজে বিস্তারিত লিখে দিলে জড়িত প্রতিষ্টানগুলির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্টানগুলি চিহ্নিত পূর্বক নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জড়িতদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া আছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, গ্রামের সহজ সরল অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক মেয়েদের দেহ ব্যাবসায় বাধ্য করানোর অভিযোগও মিলছে হরহামেশাই। ক্যামেরার সামনে মুখ খোলতে চাননা এসব হোটেলে কর্মরতরা অথবা মালিক পক্ষ। আর পতিতারাও চলে নেকাব পরে-যেন তাদের স্বজনেরা চিনতে না পারে। শহরের লালদীঘির পাড়ের প্রতিদিনের চিত্র এটি।

দেহ ব্যাবসায় জড়িয়ে পড়া নারীরা জানালেন তাদের জীবণের করুণ কাহিনী। এদের অনেকেই জানায়, অভাবের তাড়নায় তারা এসেছে এই পেশায়। আবার অনেকে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়েছেন এ কাজে। এদের অনেকেই বলেন, হোটেল মালিক তাদের এমনভাবে ব্যবহার করেছেন- ইচ্ছে করলেও এই পেশা ছাড়তে পারছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশকে খবর দিলেও পতিতা ও আবাসিক হোটেলগুলোর বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়না। চিহ্নিত আবাসিক হোটেল থেকে প্রতিমাসে থানা পুলিশ পাচ্ছে মাসোহারা। এছাড়াও স্থানীয় প্রভাবশালীরাও সাপ্তাহিক, মাসিক চাঁদা নেয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব চললেও প্রশাসন নির্বিকার। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো দু’একটি অভিযান চালানো হলেও তা ‘আই ওয়াশ’ ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানা রাস্তার মাথার এক দোকানী বলেন, ব্যবসার নিরাপত্তার জন্য আবাসিক হোটেল মালিকরা মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে থাকেন। টাকা দিয়েই প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে অভিযানে নামার আগে খবর পৌঁছিয়ে দেয়া হয় হোটেল মালিকদের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •