cbn  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে মামলার সহিমুহুরী নকল পেতে হয়রানী ও আবেদনকারীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেবাপ্রার্থীরা মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও সেবা পায়না। দিনের পর দিন অফিসের বারান্দায় ঘুরতে হয়। সেবা চাইতে গিয়ে উল্টো নাজেহাল হতে হয় আবেদনকারীদের।
সম্প্রতি খোদ কক্সবাজার আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী তার মক্কেলের পক্ষে একটি মামলার সহিমুহুরীর বিষয়ে যোগাযোগ করতে গিয়ে কর্মচারীর কাছে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের শিকার হয়েছেন। সাধারণ একজন কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনজীবী লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করেছেন।
সুত্র জানায়, টেকনাফ উপজেলার উত্তর জালিয়াপাড়া ৭ নং ওয়ার্ডের ইয়াছমিন আক্তার নামের এক গৃহবধুকে গত ৭ অক্টোবর ৩৫টি ইয়াবাসহ আটকের অভিযোগে ২ বছরের কারাদ- দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা। দায়ের করা হয় মোবাইলকোর্ট আইনে ৩১৩/২০১৮ নং মামলা। ওই মামলার একমাত্র আসামী ইয়াছমিন আক্তার তখন থেকে কারাগারে। তিনি ওই এলাকার মো. আবছারের স্ত্রী।
ইয়াছমিন আক্তারের আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল মন্নান জানান, ১৪ অক্টোবর সহিমুহুরী নকলের জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর.ডি.সি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট-এর কাছে ওই দিনই সংশ্লিষ্ট মামলার নথি সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি ইস্যু করেন। যার স্মারক নং-০৫.২০.২২০০.১২৮.৩২.০১৯.২০১৮-৩৬৩। আইন অনুযায়ী, আবেদনের এক মাসের মধ্যে সহিমুহুরী নকল সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু প্রায় দেড় মাস ধরে আদেশের কোন কার্যকারীতা নেই। প্রতিকার চাইতে গিয়ে উল্টো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে অফিস সহকারী।
তিনি জানান, কারান্তরীন ইয়াছমিন আক্তারের প্রথম স্বামী মারা যান। দ্বিতীয় স্বামী মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে। তার ৪টি সন্তান দেখভালের কেউ নেই। ছোট বাচ্চার বয়স প্রায় সাড়ে ৪ বছর। অসহায় মহিলার সন্তানদের দিকে চেয়ে হলেও মুক্তি প্রয়োজন। কিন্তু মামলার সহিমুহুরী না পেলে জামিন আবেদন করা যাচ্ছেনা। বিষয়টি অনেকটা মানবাধিকার পরিপন্থী মনে করেন এডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমাকে ফোন করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এরপর অফিসের অভিযুক্ত কর্মকর্তার (০১৭২৬-২২৯৭৪৫) নাম্বারে সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল ৩.১৯ টায় ফোন করলে তিনি নিজেকে দীপক বড়ুয়া, ভূমি অফিসের পেশকার পরিচয় দিয়ে জানান, আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর মামলার নথি স্যারের (এসিল্যান্ড) টেবিলে দেয়া হয়েছে। পাশ করার দায়িত্ব স্যারের। তিনি এখন অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে স্যারই ভাল জানবেন। বিস্তারিত জানতে তিনি এসিল্যান্ডকে ফোন দেয়ার পরামর্শ দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •