cbn  

মমতাজ উদ্দিন বাহারী
প্রিয় পাঠক লেখার শিরোনাম দেখে আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমরা জানি কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম রহিমুল্লাহ চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেছেন ২০ নভেম্বর।
মরহুমের জানাযার আগে আবেগঘন বক্তৃতা দিয়ে মহাবিপদে পড়েছেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য (সাংসদ) সাইমুম সরওয়ার কমল। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জিএম রহিমুল্লাহর জন্য সরকার দলীয় সাংসদের প্রকাশ্যে কান্না অনেকের কাছে একটি অস্বাভাবিক ক্রিয়া বলে মনে হয়েছে। এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার পর পর শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিক্রিয়া। রীতিমতো ঝড় উঠছে চায়ের কাপ থেকে সর্বত্র।
তর্ক বিতর্ক উঠা আমার দৃষ্টিতে স্বাভাবিক। এ দেশে যেকোন বিষয় নিয়ে তর্কের চেয়ে কুতর্ক হয় বেশি। কোনটা তর্ক কোনটা কুতর্ক সেটি আলাদা একটি জটিল ও কঠিন বিষয়। সে আলোচনা নিয়ে অন্যদিন লেখার আশা রয়েছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন কমল। জাতীয় পার্টির জেলা নেতা মফিজুর রহমান রহস্যজনক কারণে নির্বাচন থেকে সরে গেলে কমলের উপরে উঠার রাস্তা মসৃণ হয়ে যায়। তিনি গত প্রায় ৫ বছরের সদর ও রামু উপজেলাবাসীর জন্য কি করেছেন সেটি আমরা মোটামুটি জানি। তাঁর কর্মযজ্ঞ চালানোর জন্য দুই উপজেলায় কয়েকজন সৈনিক রয়েছেন।
ফিরে আসা যাক মূল কথায়! কেউ কেউ মনে করছেন সাংসদ কমল ওই দিন জামায়াত নেতার জন্য কন্না করে ভুল করেছেন। মরহুমের শোকাহত পরিবারের জন্য একখন্ড জমি দান এবং তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহা পাপ করেছেন। ওই দিনের সাংসদের ভূমিকায় অনেকে ভন্ডামির আভাস দেখছেন। এজন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর পক্ষে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার-৪ আসনের সরকার দলীয় সাংসদ আব্দুর রহমান বদি’র মনোনয়ন দলের হাইকমান্ড ‘না’ করেছেন। কিন্তু তাতে বদি দু:খ পাননি। তাঁর আসনে সরকার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বদির জীবনসঙ্গীনি। সরকারের নীতি নির্ধারকের এই মনোভাবের কারণে সাংসদ আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন বলে তাঁর ঘনিষ্টজন সূত্রে জানায়। এ নিয়েও তকর্, বিতর্ক ও কুতর্ক শুরু করেছে অনেকে। এ দেশে ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের ভালমন্দ বিচার করার প্রধান কয়েকটি মানদ-ের মধ্যে অন্যতম হল ‘মূল্যবোধ’। আবার মূল্যবোধের সংজ্ঞা নিয়েও বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। মূল্যবোধের মাপকাঠিতে ওই দিনের সাংসদ কমলের বক্তৃতা বিবেচনা করা হলে তিনি ভুল করেননি বলে অনেকে মত দিয়েছেন। কারণ মৃত্যুকালে মরহুম জিএম রহিমুল্লাহর বয়স ছিল ৫১ বছর । তাহলে তিনি রাজাকার হলেন কিভাবে? তবে তার রাজনৈতিক ভাবাদর্শ ছিল ‘ইসলাম’। নিছক আদর্শের কারণে তাকে রাজাকার দলের নেতা দাবী করা হলে আল্লামা শফী হুজুরকে (কথিত তেঁতুল হুজুর) রাজাকারের দাদা বলা কি অযৌক্তিক হবে?
আসুন মূল্যবোধের আর্তনাদ শুনি এবং ওই বিতর্কের বিচার প্রিয় পাঠককুলের উপর ছেড়ে দিই।
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ওরফে মাসুম চৌধুরী আমার প্রিয় বন্ধু। মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি রয়েছে তাঁর। মূল্যবোধের বিচারে স্বাধীনতার অর্জনকে রাখেন তিনি সবার উপরে।
তাঁর মতে, সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং মহাবিপদের থেকে রক্ষা পেতে হলে সাংসদ কমলের কাছে একটি সহজ উপায় রয়েছে। সেটি হচ্ছে হেফাজত কমান্ডার আল্লামা শফী হুজরের সান্নিধ্যে যাওয়া। সময় মতো তিনি তা করতে পারলে আশা করা যায়, বিপদমুক্ত হবেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ আসনে মনোনয়ন পেতে হলে সাংসদ বদি’র ‘কৌশল’ রপ্ত করার কোন বিকল্প নেই। কারণ ভোজনে দেবতা তুষ্ট এ কথা কে না জানে। তবে সদর ও রামু উপজেলার জনগণ কমলের কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে সৈনিকের সংখ্যা আরো বৃদ্ধির আশংকা করছেন! এ বিষয়ে কমলের শুভবুদ্ধির উদয় এবং মূল্যবোধের জয় হোক।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •