cbn  

|| মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী ||

কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ তথা মহাজোট কক্সবাজার-১, কক্সবাজার-২ ও কক্সবাজার-৪ এ তিনটি আসনে তাদের চুড়ান্ত প্রার্থীতা ২৫ নভেম্বর ঘোষনা করে ফেলেছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতায় কক্সবাজার-৩ আসনে এখনো আওয়ামীলীগের প্রার্থীতা চুড়ান্ত করতে পারেনি।
অন্যদিকে, বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ঠ তাদের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষনা নাকরলেও কক্সবাজার-১ এ হাসিনা আহামদ, কক্সবাজার-৩ এ লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ এ শাহজাহান চৌধুরীর মনোনয়ন দলীয় হাইকমান্ড শতভাগ নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এখনো ঝুলে আছে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের প্রার্থীতা চুড়ান্ত করা। অর্থাৎ দুই বৃহৎ জোট ২৫ নভেম্বর রোববার পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার একটি করে আসনের প্রার্থীতা চুড়ান্ত করতে পারেনি। এদু’টি আসনে শেষপর্যন্ত দুই বৃহৎ রাজনৈতিক জোটের মনোনয়ন কাদের কপালে জুটছে তানিয়ে ভোটারদের মাঝে কৌতুহলের শেষ নেই।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াত নেতা ও একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ নির্বাচন করার কথা ছিল। কিন্তু আইনী বাধ্যবাধকতায় হামিদুর রহমান আযাদ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ায় এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন নির্ধারনে জটিলতায় পড়ে। এ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্যতম একজন হলেও তিনি এখন আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী নৌকার মাঝি আশেক উল্লাহ রফিককে নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন। আশেক উল্লাহ রফিকের পিতা মরহুম এডভোকেট রফিক উল্লাহ হচ্ছেন আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের আপন জেঠাত ভাই। সে হিসাবে আশেক উল্লাহ রফিক আত্মীয়তা ও রক্ত সম্পর্কে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের ভাতিজা। দু’জনই একই পরিবারের সদস্য। দু’জনের বাড়িই হচ্ছে মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নে। সুতরাং একই পরিবারের দু’জন সদস্য পৃথক দু’টি বড় জোটের মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করলে ভোটারেরা সেটিকে কোন অবস্থাতেই স্বাভাবিকভাবে নেবেননা। তাই আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এখন নিজ ঘরেই পড়েছেন বড় মুশকিলে। এক্ষেত্রে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী মনোনয়ন দৌঁড়ে একটু এগিয়ে আছেন। আবার মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক দু’বারের চেয়ারম্যান, বর্তমানে কারাবন্দী আবুবকর সিদ্দিকের মনোনয়ন লাভের বিষয়টিও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না। তবে বিএনপি’র মনোনয়ন বোর্ডের সাথে জড়িতরা জানিয়েছেন, ২৭ নভেম্বর মঙ্গলবারের আগে কক্সবাজার-২ আসনে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চুড়ান্ত প্রার্থীতা ঘোষনা করা হবেনা।

অন্যদিকে, কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর-রামু) আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীতা ১২/১৩ দিন আগে সাইমুম সরওয়ার কমলকেই চুড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা তছনছ হয়ে যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহ্’র জানাজায় প্রদত্ত সাইমুম সরওয়ার কমলের কথিত বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। পরে এ আসনে রামুর বাসিন্দা সাংবাদিক সন্তোষ শর্মার নাম দুয়েক দিন শোনা গেলেও ২৪ নভেম্বর রাত থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাগিনী জেবুন্নেছা রহমান টুম্পার জামাই সাবেক মন্ত্রী জিয়া উদ্দিন বাবলুর নাম জোরালোভাবে চলে আসে। ঢাকায় বর্তমানে অবস্থানরত কক্সবাজার জাপা’র কয়েকজন নেতা ২৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানিয়েছেন, জিয়া উদ্দিন বাবলু কক্সবাজারে তাঁকে ঠেকানোর আন্দোলনের কথা শুনেছেন। আন্দোলনে জিয়া উদ্দিন বাবলু রীতিমতো ভয় পেয়ে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে কক্সবাজার-৩ আসন থেকে কোন অবস্থাতেই তিনি নির্বাচন করবেননা বলে ইতিমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় রাজ কপাল নিয়ে জন্ম নেয়া সাইমুম সরওয়ার কমলের ভাগ্যেই আবার নৌকা প্রতীক জুঠছে বলে নির্বাচন বোদ্ধারা মন্তব্য করেছেন। তবে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নৌকার বৈঠা কেন্দ্র থেকে ছিনিয়ে আনার জন্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, জাতীয় পার্টির মফিজুর রহমান, এডভোকেট মোহাম্মদ তারেক, রুহুল আমিন সিকদার সহ অনেকেই এ আসনে মনোনয়ন পেতে বেশ সক্রিয় হতে উঠেছেন। তবে দেখাযাক, শেষপর্যন্ত কক্সবাজার জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে নৌকার মাঝির দায়িত্ব কার উপর পড়ে। তবে আওয়ামীলীগের হাইকমান্ডের দেয়া তথ্য মতে, এ আসনের চুড়ান্ত প্রার্থীতা ঘোষনা ২৭ নভেম্বরের আগে করা হবেনা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •