cbn  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকনাফের হোয়াইক্যং চাকমারকুল ক্যাম্প (নং ২১) এনচার্জ মাহবুবুর রহমান ভূইয়ার নানা অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে রোহিঙ্গারা।
রবিবার সকাল থেকে পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুটে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় কোন ভোলান্টেয়ার কর্মে বের হয়নি।
অভিযোগে জানা গেছে, সম্প্রতি ক্যাম্পে ৪০ জন রোহিঙ্গা ভোলান্টেয়ার নিয়োগ দেয়া হয়। এ সময় ক্যাম্প ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান ভুইয়াকে দিতে হয় জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা। তাছাড়া ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) অশালীন ব্যবহার ও অনৈতিক কর্মে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে চরম অসন্তুষ দেখা দেয়।
২১ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দাদের পক্ষে জাবের নামের এক রোহিঙ্গার স্বাক্ষর করা একটি অভিযোগ টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেয়া হয়। সেখানে লিখা হয়েছে, তাদের ৯টি ব্লকে সাড়ে চৌদ্দ হাজার রোহিঙ্গা থাকে। এর বাইরে আরো সাড়ে ৩ হাজার লোক বসবাস করে। কোন এনজিও সংস্থা গেলে তাদের কোন কাজে সুযোগ দেয়া হয়না।
অভিযোগে আরো উল্লেখ আছে, সিআইসি মাহবুবুর রহমান ভুইয়া তাদের তুচ্ছ কারণে হুমকি স্বরুপ কথা বলেন। অনর্থক ধমক দেন। কোন কাজ করতে টাকা দিতে হয়। এমনকি ক্যাম্পের কোন বাসিন্দার বিয়ে শাদি হলে তাকে টাকা দিতেক হয়। টাকা ছাড়া বিয়ে আটকে দেন সিআইসি মাহবুব।
রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, ‘মাল খারাপ, নিম্নমানের মাল’ ইত্যাদি অজুহাতে বিভিন্ন কন্ট্রাক্টরের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন সিআইসি। দাবীকৃত টাকা দিলে পঁচাবাশি মালামালও তরতাজা হয়ে যায়। অন্যথায় ভাল মালামালও হয়ে যায় নষ্ট। এভাবে চলছে সিআইসির অপকর্ম। এসব জানার পরও ভয়ে অনেকে এতদিন মুখ খোলেনি।
সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২ জন মাঝিকে ড্রাইভার দিয়ে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা নজীরবিহীন বলে সেখানকার মানুষজন জানিয়েছে। এছাড়া তুচ্ছ বিষয়ে একজন অপারেশনের রোগিকে সিআইসির ইন্দনে ড্রাইভার দিয়ে বেদম প্রহার করা হয়েছে।
ক্যাম্পের অনেকের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের বাজার থেকে হেড মাঝির মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা তুলেন সিআইসি মাহবুবুর রহমান ভুইয়া। তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে সুযোগ সুবিধা বুঝে চাঁদা আদায় করেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগে ব্রাকের কাছ থেকে চাদা দাবি করে বলে একটি সুত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ক্যাম্প ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান ভুইয়ার কাছে জানতে চাইলে সিবিএনকে বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে রোহিঙ্গারা অসন্তুষ। ক্ষোভ থেকে তারা রবিবার সারাদিন ঘর থেকে বের হয়নি। আমার সাথে কোন ঝামেলা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আমার দায়িত্বাধীন ক্যাম্পে সবাই নিরাপদে আছে। এ পর্যন্ত কেউ একটা ‘টোকা-ও’ দেয়নি।
সিআইসি মাহবুব আরো বলেন, জাবের নামের অভিযোগকারীকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি অভিযোগ সম্পর্কে জানেন না এবং দস্তখতও তার নয় বলে জানায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রবিউল হাসান বলেন, অভিযোগ খুবই মারাত্নক। আগে এ সংক্রান্ত কেউ জানায়নি। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •