আদর্শ শিক্ষকের বিপরীতে আদর্শহীনতা!

 

এম, রিদুয়ানুল হক (এমএ):
একজন শিক্ষক একটি ইনস্টিটিউট বা পাঠশালা। এটি শতভাগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে আবার নাও হতে পারে। বর্তমান সমাজের চোখে শিক্ষকের বিষয়ে পজেটিভ ধারণা যেমন আছে, নেগেটিভ ধারণাও কম নয়। বিশ্লেষকরা বিশ্লেষণ করে বলেছেন- একজন আদর্শবান শিক্ষক একটি সমাজকে আলোকিত করতে পারেন। আবার একজন আদর্শহীন শিক্ষক একটি সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারেন।

একজন আদর্শবান শিক্ষকের মধুর ব্যক্তিত্ব প্রতিটি শিক্ষার্থীর চিত্তে তাঁর প্রতি স্বাভাবিক প্রীতি ও শ্রদ্ধার ভাব সঞ্চার করে। শিক্ষক যথাসম্ভব বিচক্ষণ হবেন। শিক্ষার্থীর হৃদয়ে শিক্ষার্জনের উদ্দীপনা সৃষ্টির কলাকৌশল প্রয়োগে হবেন সুনিপুণ কারিগর। একজন শিক্ষক শিশুকে ভালো না বাসলে তিনি ক্লাসের ক্রমিক সংখ্যার বাইরেও যে তাদের সজীব মনের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, স্বপ্ন-সাধ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনা, অনুরাগ-অভিমান আছে, তা জানতে পারবেন না। শিক্ষকের একটি মূল্যবান চিত্তসম্পদ হলো মৌলিকতা। কল্পনা প্রকাশভঙ্গির স্বাতন্ত্র্য, ভাব ও ভাবনার ব্যঞ্জনা, সৃষ্টিশীল কর্মতৎপরতা শিক্ষকের মৌলিক সম্পদ। বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষামূলক সামাজিক প্রতিষ্ঠানে মৌলিক গুণসম্পন্ন শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা এবং তাঁর গুণের প্রয়োগ অপরিহার্য। চিত্তের প্রসার ও নমনীয়তা শিক্ষককে বিচিত্র ধরণের মানুষের মধ্যেও বিবিধ পরিবেশে সামঞ্জস্য বিধানের দক্ষতা দান করে।
শিক্ষক অবশ্যই রসিক হবেন। শিল্পীজনোচিত রস সংবেদনের অনুরাগী ও অধিকারী হবেন। পাঠদানে সময়োচিত রস কৌতুকের স্নিগ্ধ আমেজ ও মধুর সম্পর্ক অনুভূত হলে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠগ্রহণ হবে স্বাচ্ছন্দ্যময়। প্রত্যয়-দৃঢ় মানসিকতা উত্তম শিক্ষকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিটি কথায় ও কাজে, পোশাক ও রুচিতে, পেশায় ও কর্তব্য পালনে শিক্ষক হবেন আদর্শবান, ধর্মপ্রাণ, সত্যপ্রিয় ব্যক্তিত্বের পরিচাযক। কেবল মাত্র আদেশ-উপদেশ দিয়েই নয়, শিক্ষক নিজের অভ্যাস, অনুশীলন এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতালব্ধ বিচিত্র কর্মের মাধ্যমে ছাত্রদের চরিত্রের বাঞ্ছিত পরিবর্তন সাধনে উদ্যোগী হবেন।
একজন শিক্ষকের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা সমাজ এবং রাষ্ট্রের বড় হাতিয়ার। সেকারণে শিক্ষকের সামাজিত মর্যাদা আর্থিক সমৃদ্ধিও প্রাসঙ্গিক। যারা এ মহান পেশায় নিবেদিত তাদের প্রত্যেকের উচিত পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি দেশ ও সমাজকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করা। সামাজিক অবদানই একজন শিক্ষকের শ্রেষ্ঠ কর্তব্য।

ইংরেজিতে কথিত আছে- ‘When money is lost, nothing is lost. When health is lost, something is lost. When character is lost, everything is lost.’ এ কথা থেকে স্পষ্ট যে অর্থ সম্পদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্র। যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন করার কথা তাদের চরিত্র এখন বিচিত্র। শিক্ষক নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেন যে জীবন নিয়মের সুতায় বোনা।

কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু নামধারী লম্পট শিক্ষক আজ অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। এদের কারণে প্রকৃত শিক্ষকরা তাদের সামাজিক মর্যাদা হারাচ্ছেন। এসব শিক্ষকদের মনোযোগ এখন আর শিক্ষাদানের দিকে নয়, কুরুচিপূর্ণ কার্যকলাপের দিকে। স্কুল শিক্ষক বাবার আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে নিজেও শিক্ষকতা পেশা বেঁছে নিয়েছি। কিন্তু শিক্ষকের আদর্শ আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। নীতি আর নৈতিকতার মুখোশে মুখ ঢেকে কিছু কু-শিক্ষকের কৃর্তি-কলাপ যখন প্রতিদিনের খবরের পাতায় জলজল করছে তখন লজ্জায় নিজের মাথা নিচু হয়ে যায়। মাদ্রাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যৌন হয়রানি আজ নিত্ত নৈমিত্তিক কাজে পরিণত হয়েছে। কিছু শিক্ষকের কুদৃষ্টির প্রভাব পড়ছে সমস্ত শিক্ষক সমাজের প্রতি। এটি আদর্শ শিক্ষকের আদর্শহীনতা।

একটা সময় শিক্ষকতা সমাজের সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ পেশা ছিল। যে মর্যাদায় এখন পচন ধরেছে। আমাদের সমাজে এখনও অনেক সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক আছেন। যারা প্রতিনিয়ত অপমান বোধ করছেন কু-শিক্ষকদের অনৈতিক কার্যকলাপে। এখনও সময় আছে পরিবর্তন করার। শিক্ষকতা পেশাকে কেউ যেন কলুষিত করতে না পারে সেদিকে সচেতন নাগরিকের দৃষ্টি দেয়া উচিত। শিক্ষক শুধু মানুষ গড়ার কারিগরই নয় সমাজ গড়ার কারিগরও।

কাজেই একজন কুশিক্ষকের কুকৃর্তির ফলে গোটা সমাজের চেহারা বদলে যেতে পারে। এই কুশিক্ষকের কুশিক্ষা গ্রহণ করে একজন শিক্ষার্থী লম্পট, ইভ-টিজাররূপে সমাজে নিজেকে উপস্থাপন করছে। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার প্রসার বৃদ্ধি আজ অতিপ্রয়োজনীয়। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের শিক্ষক। শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা। এ পেশাকে যারা কলুষিত করতে চাইছে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শিক্ষকরা সমাজ, দেশ তথা দেশের জনগণের অহংকার। আজ সেই অহংকারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে কিছু লম্পট নামের শিক্ষক। যার কারণে শিক্ষকের মান সম্মান হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। অাজ শিক্ষককে কু-নজরে দেখছে জনগণ। এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী নৈতিকতা। নৈতিকতা ছাড়া কোনো শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না। আজ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসন বা প্রভাবশালীর চত্রছায়াই আদর্শ শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে কিছু নামধারী শিক্ষক। আজ সময় এসেছে তাদেরকে প্রতিহত করার, আদর্শ শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করার।

আসুন, লম্পট, চরিত্রহীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আদর্শ ও নৈতিকতাযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করি।

লেখকঃ শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশ-ভারত পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আসবে পার্বতীপুরে

জমকালো আয়োজনে পালিত হল সিএমপি’র ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

পেকুয়ায় চলাচলের রাস্তা কেটে তৈরী করছে জমি, ছয় গ্রামের মানুষ বিপাকে

চট্টগ্রামে কমিউনিটি ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কক্সবাজারকে পর্যটন রাজধানী ঘোষণার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি : ডিসি কামাল হোসেন

শাপলাপুরে নৌকা প্রার্থীর লোকজনের হামলা, দুই সাংবাদিক আহত

খেলার ফাঁকেই সন্তানকে স্তন্যদান , ভাইরাল ছবি!‌

ভারতের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করলেন সাধনা দাশ গুপ্তা

কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলার জমকালো উদ্বোধন

কাকে বেছে নেবেন শাপলাপুরের মানুষ?

এলাকায় সবার প্রিয় ছিলেন ফারমিন মৌলি

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তাল আসাম-ত্রিপুরায় সেনা মোতায়েন

ডিভোর্সের পর ছেলের কোনো দায়িত্ব নেয়নি শাকিব, খরচও দেয়নি : অপু

রামুতে বিজয় দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাকে স্বাগত জানিয়ে বিজয় মিছিল

প্রজন্ম’ ৯৫ এর বৃত্তি পরীক্ষা শুক্রবার

উখিয়া ইউএনও কাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা শুক্রবার

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার- ৬

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

আলীকদমে কিশোরী মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মহেশখালী আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত