প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা, উখিয়ায় স্থানীয়দের জমিতে এনজিও’র স্থাপনা


 কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া:


প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলছে বনভূমি ও জোত জমি দখল-বেদখলের ঘটনা। কিছু কিছূ এনজিও ও আইএনজিও স্থানীয় প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন স্থানে বনভূমি থেকে শুরু করে স্থানীয়দের মালিকানাধীন জোত জমি দখলের মহোৎসবে নেমেছে। এ ধরনের একটি এনজিও সংস্থা উখিয়ার থাইংখালী শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্প-১৬তে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের রোপিত গাছপালা, খেত নষ্ট করে, পাহাড় কেটে জোত জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসিদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্থ স্থনীয় লোকজনের  অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধের নিদের্শ দিয়েছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে ইউএনও’র বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগষ্টের পর থেকে এদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে ৭লাখের বেশির রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা। তৎমধ্যে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উখিয়ার ২০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। আগে থেকে রয়েছে ৪লাখ। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১লাখ রোহিঙ্গার বসবাস উখিয়া-টেকনাফে। এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবার নামে কর্মরত রয়েছে ২শতাধিক এনজিও। উক্ত এনজিও গুলোর বিরুদ্ধে শুরু থেকে নানান অভিযোগ উঠে আসলেও মানবতার খাতিরে কেউ কোন দিন প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু এবার স্থানীয়দের খতিয়ানভুক্ত জোত জমি জবর দখল করে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কেয়ার বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও সংস্থার বিরুদ্ধে। জামতলীস্থ শফিউল্যা কাটা ক্যাম্প-১৬তে এঘটনা ঘটেছে। এসময় ‘কেয়ার’ শত শত রোহিঙ্গা ভলান্টিয়ার দিয়ে দুটি বসতঘর জোর পূর্বক দখল করে করেছে এবং জমির মালিকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত জমির মালিক গুলজার বেগম (৩৭) এবং দিলদার বেগম (৩৫) নামের দুই বোন। ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ওই ২ নারীর সেখানে ৪০ শতক জমি রয়েছে। আবু বক্করের ভিটা নামে পরিচিত এই জমিতে এই ২ নারী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। পালংখালী মৌজার ১৩০ নং খতিয়ানের অংশিদার গুলজার এবং দিলদার এরা দুজনেই মূলত আবু বক্বরের ওয়ারিশদার। উক্ত দুই মহিলার ভাই মফিজ উদ্দিন বলেন এনজিও কেয়ার তাদের ওয়ারিশান সম্পত্তির উপর দুইশ এর মত কলা গাছ, এক কানি জমির বেগুন খেত উপড়ে ফেলে, কেটে ফেলে এবং তাদের ব্যহায্য একটি পুকুর ভরাট করে ফেলেছে। এ সময় এনজিওটি শত শত রোহিঙ্গা দিয়ে দুই বোনের পরিবারের সদস্যদের অন্য একটি কুড়ে ঘরে জিম্মি করে রেখে তাদের বস ঘর দুইটি ভেঙ্গে, পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ১০/১২টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। তারা জানান, এনজিও গুলো স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনদের মানুষ হিসেবে পাত্তাই দিচ্ছে না। স্থানীয় লোকজনের সহায় সম্পদ ক্ষতি করে লোকজনদের সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামানোর মত পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে তাদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী দুই বোন জানিয়েছে, কেয়ার বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান তাদের খতিয়ানভূক্ত নিজস্ব জমিটির দিকে কুনজর দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ অক্টোবর জোর পূর্বক ক্ষমতা প্রদর্শন করে কেয়ার বাংলাদেশ তাদের নিজেদের ভলান্টিয়ার দিয়ে দীর্ঘদিনের দুটি বসতঘর গুড়িয়ে দিয়ে জায়গাটি তাদের দখলে নেয় এবং সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য শেড নিমার্ণ শুরু করে। এ সময় এনজিওর লোকজন ঘরের মহিলা ও শিশুদের অন্য একটি ঘরে আটকিয়ে বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে জিম্মি করে তাদের ঘরবাড়ি, খেতখামার জবর দখল করে নেয়। আমরা এ নিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীকে লিখিত অভিযোগ জানালে ইউএনও উক্ত এনজিও সংস্থার লোকজনকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকলেও গ্রামবাসি ফুঁসে উঠেছে এনজিও’র এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে।
পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, কেয়ার বাংলাদেশ স্থানীয়দের জোত জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে তাদের কর্মকর্তা লক্ষীরানীর নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে  উল্টো আমাকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। তিনি বিষয়টি ইউএনওকে লিখিত আকারে অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কেয়ার বাংলাদেশের ফিল্ড অফিসার লক্ষীরানী বলেন, সরকারের নির্দেশে সিআইসির সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার দিয়ে যাচ্ছে কেয়ার বাংলাদেশ। তিনি স্থানীয়দের বসত ভিটা, খেতখামার জোত জমি দখল, ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, কেয়ার বাংলাদেশ নামের একটি এনজিও সংস্থা স্থানীয়দের মালিকানাধীন জোত জমিতে স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করা সহ কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি নিদের্শনা রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পূর্বের যে সমস্ত স্থাপনা রয়েছে তা সংস্কার, মেরামত ছাড়া নতুন করে কোন ধরনের সরকারী বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে  স্থাপনা তৈরী করা যাবেনা। কিন্তু সেবা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারী বন ভূমি ও স্থানীয়দের মালিকানাধীন জমি দখল করে যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ করায় স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে।

সর্বশেষ সংবাদ

আমন চাষে ক্ষতি করে গেল বুলবুল

পাঁচ প্রজন্ম দেখে না ফেরার দেশে খরুলিয়ার গোলাম কাদের

অনুমোদন ছাড়াই ইন্টারনেটের দাম বাড়ালো গ্রামীণফোন

বেতন বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের

চকরিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত ২ আসামী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০, সভা পণ্ড

এবার তাজমহল হবে তাজমন্দির !

মহেশখালীতে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার

হাটহাজারী নোমানিয়া মাদরাসায় ৭দিন ব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল

উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী বাচাইয়ে কমিটি গঠন

ইসলামপুরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তালিকায় ত্যাগীরা আউট হাইব্রিড ইন!

চকরিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড

উখিয়ায় পালংখালী কলেজ হচ্ছে, কমিটি গঠন, জমি নির্ধারণ

টেকনাফ পৌর যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠিত

চকরিয়া ভীমরুলের কামড়ে গৃহবধুর মূত্যু

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত

সাতকানিয়ায় আগুনে ৭ বসতঘর পুড়ে ছাই

বহুতল ভবন ঘেঁষে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফর্মার, বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কক্সবাজার সরকারি কলেজে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পিইসিই পরীক্ষার্থীদের জন্য দোয়া মাহফিল