cbn  

নীতিশ বড়ুয়া, রামু
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, আল-হাইয়্যাতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়াহ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা:বা:) বলেছেন, তাকওয়াবান, দেশপ্রেমিক আদর্শ জনগোষ্ঠী তৈরীতে কওমি মাদ্রাসার ঐতিহাসিক শিক্ষাধারার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এ পবিত্র শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব অনুধাবন করেই সরকার কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে এম.এ’র সমমর্যাদা প্রদান করতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি ১৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিনব্যাপী সফরে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা পরিদর্শন পূর্বক হেদায়তি বক্তব্যে এ কথা বলেন।

বিশ্ব বরেণ্য আধ্যাত্মিক মুরুব্বী, জামেয়া আহলিয়া মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী(দা:বা:) আরো বলেন, কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি কারো করুণা নয়, এটি বৃহত্তর কওমি জনগোষ্ঠির ন্যায্য অধিকার। আমার সাথে কৃত ওয়াদা মোতাবেক দারুল উলুম দেওবন্দের মৌলনীতি অক্ষুন্ন রেখেই সরকার কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে। এ জন্য আমি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, আমার বয়স এখন প্রায় একশ বছর। সনদের এই স্বীকৃতি নিয়ে আমি ও আমার পরিবার ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হবনা। আমি কেবল মাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যই সনদের স্বীকৃতি আদায়ের প্রয়াস চালিয়েছি। ফলশ্রুতিতে এ সনদ নিয়ে কওমি আলেমগণ দেশ বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনে অনন্য অবদান রাখার সুযোগ পাবেন। তিনি সনদের স্বীকৃতিপ্রাপ্তির সুযোগ কাজে লাগানোর লক্ষ্যে পড়ালেখায় অধিকতর মনোনিবেশ করার জন্য কওমি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।

আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা:বা:) দু’দিনের সফরে ১৫ নভেম্বর কক্সবাজার আসেন। তিনি চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৯টার বিমান যোগে কক্সবাজার বিমান বন্দরে পৌঁছেন। এসময় কক্সবাজার জেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিবের নেতৃত্বে বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম বিমান বন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান। তিনি প্রথমে শহরতলীর লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসায় কিছুক্ষন বিশ্রাম নেন। এরপর লিংক রোডস্থ মানারুল কুরআন মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং রামু চাকমারকুল দারুল উলুম মাদ্রাসায় সংক্ষিপ্ত হেদায়তি বক্তব্য রাখেন। বাদে যোহর রামু কাউয়ারখোপ তাজবিদুল কুরআন মাদ্রাসার মজলিশে শুরার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বাদে আছর রামু জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা, বাদে মাগরিব রামু কেন্দ্রীয় জামে মসজিদস্থ জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসায় ইসলাহি আলোচনা পেশ করেন। বাদে এশা কক্সবাজার তাবলীগী মারকায মসজিদে নসিহত করেন। তিনি লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসায় রাত্রি যাপন করবেন এবং ১৬ নভেম্বর জুমাবার সকাল ১০টায় ওই মাদ্রাসায় আয়োজিত ইসলাহি মজলিশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।

দিনব্যাপি জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা পরিদর্শনকালে হুজুরের সফরসঙ্গী ছিলেন, জামেয়া আহলিয়া মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মুহাদ্দিস মাওলানা শেখ আহমদ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম সাদেক, জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আবুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিম, মাওলানা হাফেজ আব্দুল হক, মাওলানা মোহছেন শরীফ, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিকদার, মাওলানা হাফেজ শামসুল হক, মাওলানা আমিনুল হক, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা কেফায়ত উল্লাহ, মাওলানা হাফেজ মুবিনুল হক, মাওলানা এহতেশামুল হক, মাওলানা হাস্সান দিদার, মাওলানা খালেদ সাইফী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •