নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন দোকানে জমজমাট হয়ে উঠেছে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা। চলছে কোটি টাকার লেনদেন। বিশেষ করে মুদির দোকানের আড়ালে নিষিদ্ধ এ ব্যবসা চলছে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা কৌশলী হওয়ায় তাদের ধরাও দায় হয়ে পড়েছে, এমন তথ্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের বড়বাজারকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী হুন্ডিচক্র রয়েছে। তাদের সম্পর্ক সৌদিআরব, দুবাই, ওমান, বাহরাইন, কাতারসহ বাংলাদেশী অধ্যূসিত বিভিন্ন দেশে।
দেশ বিদেশে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এপারে টাকা জমা করলে নিমিষে ওপারে মেলে নির্ধারিত কমিশনের বিনিময়ে সেদেশের মুদ্রা। তাতে সরকার হারাচ্ছে রেমিটেন্স।
কক্সবাজার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড উত্তর নুনিয়ারছড়ার বেলাল উদ্দিন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তার শ্বশুর দীর্ঘদিন সৌদিআরব বসবাস করেন। হঠাৎ আকামা মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য টাকা দরকার পড়ে তার। মিজানুর রহমান নামের এক হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে গত ৮ নভেম্বর রাতে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পাঠায়। মক্কার নাক্কাসা এলাকার একটি ঘড়ির দোকানে গিয়ে ৩ দিন পর ৭ হাজার রিয়াল দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে ৬৯৩০ সৌদি রিয়াল গ্রহণ করেন শ্বশুর। হুন্ডি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের বাড়ি কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার মুক্তারকুল এলাকায়।
অনুসন্ধান করে জানা গেছে, মিজানুর রহমান বড় মাপের হুন্ডি ব্যবসায়ী। শহরের বাজারঘাটা আইবিপি সড়ক সংলগ্ন ভাই ভাই স্টোর তার হুন্ডি ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক। সেখানে বসে তার দুই থেকে তিনজন পার্টনার। চেরাংঘাটা ও স্লুইচগেটে তাদের নিয়ন্ত্রিত আরো দুইটি দোকানে হুন্ডি লেনদেন হয়।
নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে, সৌদিআরবের নাক্কাসা ও মিছফালাহ এলাকায় হুন্ডিকেটের প্রতিনিধি রয়েছে। ঘড়ির দোকান ও স্টেশনারীর দোকানের আড়ালে তাদের অবৈধ ব্যবসা চলে। সেখানকার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে নবাব মিয়া ও খোরশেদ আলম। তারা দ্জুনই কক্সবাজারের বাসিন্দা। সৌদিআরবকেন্দ্রিক তাদের সিন্ডিকেটে রয়েছে আরো অন্তত ১০ জন। নবাব মিয়া সম্প্রতি সফরে এসেছে।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমানকে গ্রাহক সেজে ফোন করলে প্রথমে কোন দেশে, কত টাকা পাঠাতে হবে?-জানতে চায়। এরপর শহরের আইবিপি সড়কে অবস্থিত ভাই ভাই স্টোরে গিয়ে লিটন নামের একজনকে ফোন ধরিয়ে দিতে বলেন। লিটনের পরিচয় জানতে চাইলে লিটন তার পার্টনার বলে জানায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •