cbn  

আবুল কালাম, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা সেবায়   অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি (কোবাল্ট-৬০) সেবা কার্যক্রম চালু করেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ ই নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের একটি কক্ষে এটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সিটি মেয়র অা জ ম নাছির উদ্দীন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন অাহমদ, চমেকের উপাধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার, চট্টগ্রামের বিএমএ সভাপতি ডা. মো.জ এ মুজিবুল হক, সাধারণ সম্পাদক ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, রেডিওথেরাপি সার্জন অালী অাজগর প্রমুখ।

এসময় সিটি মেয়র  বলেন, নোয়াখালী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বৃহত্তর এ চট্টগ্রামের মানুষজন কম খরচে ক্যানসারের চিকিৎসাসেবা পাবেন। লাখো ক্যানসার রোগীর জন্য কোবাল্ট-৬০ মেশিনটি অাশীর্বাদস্বরুপ। এখন থেকে ক্যানসারের কোনো রোগীকে বিদেশ কিংবা চট্টগ্রামের বাইরে যেতে হবে না।

মেয়র বলেন অারও কম খরচে কীভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া যায়, সেই বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, হাসপাতালের সবকয়টি টয়লেটের অবস্থা খারাপ। ফলে রোগীদের রোগ অারও বেড়ে যাচ্ছে। অামি সবকয়টি টয়লেট সংস্কার করে দেবো।

মোহসেন উদ্দিন অাহমদ বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। চট্টগ্রামে এ রোগের ভালো কোনো চিকিৎসা না থাকায় রোগীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। অনেকেই টাকার অভাবে যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতো। এই মেশিনটি চালু হওয়ার ফলে অনেক কম খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাবে। সেই সাথে রোগীদের ভোগান্তিও কমবে।

রেডিওথেরাপি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ক্যানসার রোগীদের অবস্থা ভেদে একজন রোগীর প্যাকেজে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়বে। তবে রেডিওথেরাপি দিতে একজন রোগীর খরচ পড়বে মাত্র ৯০ টাকা। প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ জন ক্যানসার রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। আর একটানা প্রায় ১৫ বছর এই মেশিনের মাধ্যমে ক্যনসার রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা যাবে।

 চমেক হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগে প্রায় তিন বছর ধরেই ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ রেডিওথেরাপি মেশিনটি নষ্ট ছিল। পরে দীর্ঘ জটিলতা শেষে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যে নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন আমদানি করা হয়।

গত ৩১ অক্টোবর পরমাণু শক্তি কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল মেশিনটির সোর্স পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। গত ৪ নভেম্বর সোর্স থেকে রেডিয়েশন নির্গমন সংক্রান্ত ‘বিপদমুক্ত’ বলে সনদ দেয়। এরপরই মেশিনটি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ক্যানসার চিকিৎসায় ২০০২ সালে কোবাল্ট নামের রেডিওথেরাপি মেশিন চালু হয়। এর কার্যকারিতা ছিল ১০ বছর। ২০১২ সালে মেশিনটির মেয়াদ শেষ হলেও রোগীর সেবা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের শেষ দিকে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যায়। এরপর গত বছরের নভেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে রেডিওথেরাপি মেশিনটি। সেখান থেকে হাসপাতালে আসে গত ৩০ জানুয়ারি।

২০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) হাসপাতালের নষ্ট রেডিওথেরাপি মেশিনটি অকার্যকর ঘোষণা করে। আর  ৫ ই জুন থেকে আমদানিকৃত অত্যাধুনিক মেশিনটি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে। এতে ক্যানসার রোগি ভূগান্তী কমেবে আর দ্রুত সেবা নিচ্ছিত করা যাব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •